আমি মনে করি নদী খেকো ও বালু খেকোদের বিজয় হয়েছে: ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী

রুদ্র রাসেল, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:১৫ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪১

চাঁদপুরের এক নারী মন্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করার ১৪ দিনের মাথায় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীকে অপসারণ করা নিয়ে আলোচনা চলছে নানা মহলে। বলা হচ্ছে- প্রভাবশালীদের নদী দখলের বিরুদ্ধাচারণ করাই তার কাল হয়েছে।

গত বুধবার ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

অপসারণের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে একান্ত আলাপচারিতায় ঢাকা টাইমসকে ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি- পদ্মা মেঘনা যমুনাসহ দেশের নদ-নদীর বালু খেকো, নদী খেকো ও নদী দখলদারদের বিজয় হয়েছে।’

রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালনে ‘একচুল নড়চড় করেননি’ জানিয়ে সদ্য অপসারণ হওয়া নদী কমিশন চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই অপসারণের কারণে আমি আমার নৈতিকতা থেকে সরে আসব না। যতদিন বেঁচে আছি আমার লড়াই চলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কোনো প্রভাবশালীর রক্তচক্ষুকে আমি ভয় পাই না।’

এদিকে নদী কমিশন চেয়ারম্যানকে অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নানা মহলে। উঠেছে নানান প্রশ্ন। বলা হচ্ছে- প্রভাবশালীদের নদী দখলের বিরোধীতা করলেই কি অপসারণ করতে হবে? নদীখেকোদের হাত এত লম্বা? প্রভাবশালীদের কথা বললেই কি কুপোকাত? এই কি সরকারের নদী রক্ষার নমুনা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপসারণ ও নিয়োগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রের কল্যাণে জনস্বার্থে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এই অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকারের পক্ষ থেকে অপসারণের আদেশ পুনর্বিবেচনার কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে ড. মনজুর বলেন, ‘এমন কোনো প্রস্তাব বা আলোচনা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমি পুনর্বহালের কোনো চেষ্টাই করিনি। করবও না। ইট ইজ অ্যাকসেপটেড টু মি (এটি আমি গ্রহণ করেছি)।’

চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী দখলের পেছনে একজন নারী মন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যা’ শিরোনামে এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মনজুর আহমেদ চৌধুরী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন।

মনজুর আহমেদ বলেন, ‘মেঘনায় এর আগে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। যাদের নেতৃত্বে এই কাজ বন্ধ করা হয়েছে, তাদের পরে পানিশমেন্ট (শাস্তি) হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আবার সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। আর এখানে ভূমিকা রয়েছে একজন নারী মন্ত্রীর। এই হায়েনার দল থেকে নদীকে বাঁচানো যাচ্ছে না। এই হায়েনার দলের পেছনে আছে রাজনৈতিক শক্তি। চাঁদপুরের ওই নারী মন্ত্রী তাদের সহায়তা করেন।’

মনজুর আহমেদ বলেন, ‘গত বছর মেঘনা নদীতে বালু সন্ত্রাসীরা ছিলেন। তাদেরকে ৩০০ ড্রেজারসহ উৎখাত করা হয়েছে। মেঘনায় যে বড় ইলিশ পাওয়া যায় তার একটা কারণ এই বালু সন্ত্রাসী উৎখাত। সেখানে এডিসি ছিলেন দাউত হোসেন চৌধুরী, একজন ইলিশ গবেষক ড. হারুণ ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় বালু সন্ত্রাসীদের উৎখাত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বদলি করে দেওয়া হয়েছে। দাউত হায়দারকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। আর ইলিশ গবেষককে চিংড়ি গবেষণায় পানিশমেন্ট বদলি করা হয়। এসব সাহসী অফিসারকে পুরস্কারের বদলে বদলি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবার সেই মেঘনায় বালু সন্ত্রাসী ফিরে এসেছে। গতবার এরা ৬৬৮ কোটি সিএফটি বালু চুরি করেছে। যার বাজার মূল্য সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এখন আবার ২০০ কোটি সিএফটি বালুর কথা বলা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী লিজ দেওয়ার নামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আর এগুলো বিক্রি করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় জেলা প্রশাসক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।’

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মনজুর আহমেদ চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ জনস্বার্থে বাতিল করা হয়েছে।

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী তিন বছরের জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। সেই হিসাবে এই পদে তার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করায় এক বছরের বেশি সময় আগেই তাকে এই পদ ছাড়তে হচ্ছে।

নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর নদীখোকোদের বিরুদ্ধে নানান পদক্ষেপ নেওয়ায় আলোচনায় ছিলেন ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা: এস. এম. মঞ্জুরুল হক 

‘স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে সরকারকে ভারসাম্যমূলক নীতি-উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’: ড. আতিউর রহমান

প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল আর্মিরা ধরে নিয়ে যাবে: ফরিদা খানম সাকি

দাম বাড়ালে এতক্ষণে কার্যকর হয়ে যেত: ক্যাব সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন

জন্ম থেকেই নারীদের যুদ্ধ শুরু হয়: নারী উদ্যোক্তা ফরিদা আশা

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই

ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম করা উচিত: কাউন্সিলর আবুল বাশার

তদারকি সংস্থা এবং ভবন নির্মাতাদের দায়িত্বশীল হতে হবে: অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান

বেইলি রোডের আগুনে রাজউকের ঘাটতি রয়েছে: মো. আশরাফুল ইসলাম

নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে ভবন অনুমোদন দিতে হবে: ইকবাল হাবিব

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :