লক্ষ্মীপুরে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:৪৩ | প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:১৫

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভূমিহীন পরিবারের ৬০ শতাংশ জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেন মোল্লা নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

তিনি রায়পুরা উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে।

প্রতিকার চেয়ে ও মনির হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বুধবার সকালে শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ফুড গার্ডেন রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন করেন রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ভুক্তভোগী রতন কবিরাজ ও তার স্ত্রী রিনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে রতন কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, মনির হোসেন মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বন্দোবস্ত পাওয়া জমির কাগজপত্র কব্জা করে রেখেছেন। কাগজপত্র ফেরত পেতে দুই লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করলেও অসহায় পরিবারটি প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

রতন কবিরাজ বলেন, ভূমিহীন হিসেবে আবেদন করায় ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সরকার চরকাছিয়া মৌজায় আমাদেরকে ৬০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিন্তু ওই জমি আমরা এখনো দখলে নিতে পারিনি। জমিটি আওয়ামী লীগ নেতা মনির জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। জমি বুঝে পেতে মনির মোল্লার কাছে গেলে তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগ করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (রায়পুর) আদালতের বিচারক বেলায়েত হোসেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এফআইআর রুজু করার নির্দেশ দেয়। এরপর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে বলে জানান রতন কবিরাজ।

তিনি বলেন, মনির মোল্লার ভয়ে আমি কাজকর্ম বন্ধ করে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। মনির মোল্লা জমির কাগজপত্র না দিয়ে উল্টো আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মামলা করার পরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। এসময় পুলিশ প্রশাসনের কাছে মনিরকে গ্রেপ্তারসহ ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি।

রতনের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, আমরা ভূমিহীন ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ৬০ শতাংশ জমি দিয়েছে। কিন্তু জমিটি আমরা পাইনি। জমিটি আওয়ামী লীগ নেতা মনির দখল করে রেখেছে। কাগজপত্রও তার কাছে। এখন কাগজপত্র পেতে হলে দুই লাখ টাকা চেয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লা বলেন, রতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাকে দিয়ে এসব অভিযোগ করাচ্ছে। চরে হাজার হাজার একর জমি রয়েছে। এরমধ্যে রতনের ৬০ শতাংশ জমি আমি কেন দখলে নিতে যাবো। রাজনৈতিকভাবে বিপাকে ফেলার জন্য একটি পক্ষ এসব করাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। মামলাটি তদন্তে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি দায়িত্বে রয়েছে। ফাঁড়ি ইনচার্জ ভালো বলতে পারবেন।

(ঢাকাটাইমস/০৬ডিসেম্বর/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :