ইউক্রেনের জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে? 

মামুন হেসেন, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:০৮ | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:৩৮

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সংঘাতের দীর্ঘ দুই বছরেও রাশিয়া এবং ইউক্রেন কোন পক্ষই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তবে যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা কমে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়েছে ইউক্রেন। আর এ সুযোগের সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছে রাশিয়া।

যেভাবে শুরু হয়েছিল এ যুদ্ধ

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। মূলত ইউক্রেন যাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে না পারে তা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিল রাশিয়া। ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে তা রাশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে বারবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সর্তক করেন পুতিন। তা সত্ত্বেও ন্যাটোর সদস্য হতে তোড়জোড় শুরু করেন জেলেনস্কি।

এরপরই একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-সমর্থিত দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকা, দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জবাবে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ভাষণ দেন পুতিন এবং ঘোষণা করেন ইউক্রেনে একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর। ঘোষণার কয়েক মিনিট পর কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আক্রমণের প্রথম দিকে মনে হয়েছিল যে রাশিয়ান বাহিনী খুব দ্রুত শহরের প্রান্তে পৌঁছে রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করবে। আক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনের সরকারকে পতনের পরিকল্পনাও করেছিল রাশিয়া, কিন্তু পুতিন এবং রাশিয়ার অন্যান্য কর্মকর্তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করা শুরু করে। এছাড়াও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা করে।

অন্যদিকে রাশিয়াও সেনা ও গোলাবারুদের ঘাটতির মুখে পড়তে থাকে। সুবিধা করতে না পেরে পুতিন ৩ লাখ রাশিয়ান তরুণকে বাধ্যমামূলক যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এমনকি তিনি ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র হামলা করার হুমকি দিতে শুরু করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে গোলাবারুদের অভাবে সামরিক অভিযান কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে ইউক্রেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা আটকে যাওয়ার পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেল ওলেকসান্দ্র তারনাভস্কি।

গত মাসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল তারনাভস্কি জানান, সামরিক বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট গোলাবারুদের অভাবে ভুগছে এবং শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান না হলে অদূর ভবিষ্যতে কিয়েভের সামনে ‘বিরাট বিপদ’ আসবে।

তারনাভস্কি বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে গোলাবারুদের যে মজুত রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। তাই আমরা সেগুলো বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে পুনর্বণ্টন করেছি এবং যতদূর সম্ভব রক্ষাণাত্মক সামরিক কৌশল অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছি। অর্থাৎ খুব প্রয়োজন পড়লে যেন সেগুলো ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইউনিটগুলোকে।

ইউক্রেন যদিও বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় শিগগিরই দেশটি নিজেদের গোলাবারুদ নিজেরাই উৎপাদন করবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, রাশিয়া সঙ্গে যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহকৃত দুরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ইউক্রেনকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার বিল মার্কিন কংগ্রেসে আটকে দেয় রিপাবলিকানরা। এর কয়েকদিন পরই ইইউতে ইউক্রেনের জন্য ৫০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তায় ভেটো দেয় হাঙ্গেরি। ফলে সেই সহায়তাও আটকে যায়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, গত নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেনে ১০ লাখ গোলা বা আর্টিলারি শেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইইউ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউক্রেন পেয়েছে ৪ লাখেরও কম শেল।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ২০ লাখ ১৫৫এমএম গোলা পাঠিয়েছে, কিন্তু সেগুলোর মজুতও ফুরিয়ে আসছে। ইইউ জোটের অন্যতম সদস্যরাষ্ট্র এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাশিয়া সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে প্রতি মাসে ইউক্রেনের ন্যূনতম ২ লাখ আর্টিলারি শেল প্রয়োজন এবং এখন থেকে যদি দেশটিকে প্রতি মাসে এই পরিমাণ গোলা সরবরাহ করা হয়, তাহলে আগামী ২০২৪ সাল শেষ হওয়ার আগেই ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকার সম্পপূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। শহর থেকে ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহারের পর রবিবার এ ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আভদিভকার নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অভিহিত করে রুশ সেনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দুই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে যেসব জায়গায় সবচেয়ে তীব্র লড়াই হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আভদিভকার অন্যতম। গুরুত্বপূর্ণ এ শহরটি দখলের মধ্য দিয়ে গত ৯ মাসের ব্যবধানে রাশিয়া বড় একটি বিজয় অর্জন করলো।

তবে ইউক্রেন তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহারের কথা জানালেও মস্কো বলছে, কিছু সেনা এখনো সেখানকার সোভিয়েত আমলের একটি বড় জ্বালানি কারখানায় লুকিয়ে আছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমানে এক হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যুদ্ধ চলছে। তার মধ্যে ৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় তাদের সেনারা এগিয়ে গেছেন।

কয়েক মাসের তীব্র লড়াইয়ের পর আভদিভকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইউক্রেন বলেছে, সেনাদের যেন আত্মসমর্পণ করতে না হয় সেজন্য তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইউক্রেন বাহিনী গত বছর তুমুল পাল্টা আক্রমণ চালিয়েও রুশ বাহিনীর অবস্থানে ফাটল ধরাতে পারেনি। এরপর থেকে ইউক্রেন বাহিনীকে ধরাশয়ী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে রুশ সৈন্যরা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাষ্ট্রের প্রধান এই সফলতার জন্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের জন্য রাশিয়ার সেনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।’

তবে রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেনের কিছু সেনা এখনো কোক কারখানায় আত্মগোপন করে আছে। আভদিভকায় এই কারখানাটি এক সময় ইউরোপে কয়লা থেকে জ্বালানি উৎসপাদনের সবচেয়ে বড় কারখানা ছিল। শিল্প অধ্যুষিত দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এই আভদিভকা শহর দখল তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০২৪ সালে এই যুদ্ধ কোন দিকে গড়াবে?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন যে এ বছরের জুনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যে অভিযান চালিয়েছিল, তা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। ইউক্রেনের ভূমির প্রায় ১৮শতাংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

আগামী ১২ মাসে এই যুদ্ধকে ঘিরে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার স্টাডিজ অধ্যাপক বারবারা জানচেত্তা বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ শীঘ্রই থেমে যাবে, এমন সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে দুর্বল। গত বছরের এই সময়ের সাথে তুলনা করলে, ভ্লাদিমির পুতিন এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী। শুধু সামরিক শক্তির বিচারেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। ইউক্রেনের শীতকালীন অভিযান সম্প্রতি থেমে গেছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আবার রাশিয়ার দিক থেকেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

যুদ্ধের ফল আসলে নির্ভর করছে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শত মাইল দূরের ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনে হওয়া সিদ্ধান্তের ওপর।

পশ্চিমা শক্তিগুলো ২০২২ সালে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থনের যে প্রদর্শন করেছিল, তা ২০২৩ এও জারি ছিল। কিন্তু তাদের সেই সমর্থন প্রকাশ সম্প্রতি যেন অনেকটাই ম্রিয়মাণ হতে শুরু করেছে।

ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার প্যাকেজ ওয়াশিংটনের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষায়, ‘সস্তা রাজনীতি’র শিকার হয়ে এই প্যাকেজ ওয়াশিংটনের অনুমোদন পাচ্ছে না।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সহায়তা ইউক্রেন পাবে কি না, তা নির্ভর করছে হাঙ্গেরির সমর্থন দেয়া-না দেয়ার ওপর।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর নিজেদের ভেতরে এই দোটানা পুতিনকে আরো আত্মবিশ্বাসী করেছে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও জনসম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করলে এমনটাই মনে হয় যে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য চলবে।

ইউক্রেন ও মলদোভাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে দেশগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকী নয়।

এর অর্থ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভকে সমর্থন দেয় অব্যাহত রাখবে। কারণ, চলমান যুদ্ধে রাশিয়া এককভাবে জয় লাভ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এমনিতেও থাকতে পারবে না ইউক্রেন। ওয়াশিংটনের নীতিগত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা অবশ্য কম।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কারণ মি. ট্রাম্প নেটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সোচ্চার হয়েছেন।

কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে মি. ট্রাম্প নেটোতে থাকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে গেলেও ২০১৬ সালে তিনি নিজে যখন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তখন এই পদক্ষেপ নেননি। আর নেটোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ বছরের এই সম্পর্ক তিনি একার সিদ্ধান্তে ছিন্ন করতেও পারবেন না।

কাজেই, পশ্চিমা দেশগুলোর এই দোটানার কারণে ইউক্রেনে যুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হবে, এমনটা বলাই যায়।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভেতরে যদি সামরিক অভ্যুত্থান না হয়, অথবা পুতিন স্বাস্থ্য জনিত কারণে মারা না যান – তাহলে এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার একমাত্র উপায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। আর আপাতত কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে সম্মত নয়।

তাই বলা যায় যে, ২০২৪ সালেও যুদ্ধ চলবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩ফেব্রয়ারি/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :