সৈয়দপুরে ব্যাঙমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে চরম ভোগান্তি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ১৬:০৮ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০২৪, ১৬:০৪

একমাত্র সেমিপাকা টিনশেড দোচালা ভবন। ওই ভবনের ছোট ছোট ৫টি কক্ষে চলছে দেড় শতাধিক ছাত্র ছাত্রীর পাঠদান। প্রতিষ্ঠার ২ যুগেও সরকারি কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় কক্ষের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঁশের বেড়া আর টিনের চালের ২টি ঘর তৈরি করে কয়েক বছর ধরে কোনো রকমে পাঠদান চালালেও এখন সেগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুরবস্থা বিরাজ করায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাষকান্দর ব্যাঙমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে পাঠদানে সৃষ্টি হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। আগামী গ্রীষ্ম ও বর্ষায় আরও দুরাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এ শঙ্কায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০০২ সালে এলাকার এক বিদ্যোৎসাহী নিজ উদ্যোগে ৭৮ শতক জমি দান পূর্বক প্রতিষ্ঠা করেন ব্যাঙমারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যা আজ উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। ৭ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ও শিক্ষক কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি কোনো বরাদ্দ মেলেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। বরং দিন দিন নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে একটি মাত্র সেমিপাকা টিনসেড ভবন। সেখানে ৫টি ছোট ছোট কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা বাঁশের বেড়া আর টিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঘরকে অফিস রুম বানিয়েছেন। বেড়া ভেঙে একেবারে জরাজীর্ণ। চালের টিনও স্থানে স্থানে ফুটো হয়ে গেছে। পুরো ঘরটি নড়বড়ে অবস্থা। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার উপক্রম। জোরে বাতাস হলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আশপাশের দুই চার গ্রামে কোনো মাধ্যমিক বা নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। একারণে এলাকার স্বার্থে আমার বাবা এই স্কুল গড়ে তোলেন। মাত্র ৩ কক্ষের একটি টিনসেড ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু। পরে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হেলাল চৌধুরী এই ঘরের সঙ্গে আরও দুইটি রুম করে দেন।

প্রথমদিকে সমস্যা না হলেও প্রতিষ্ঠানটি হাইস্কুলে উন্নীত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়ায় আসনের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই স্বল্প পরিসরে ক্লাস করানো খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধর্ম ক্লাসের সময় হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে মাঠের এক কোনায় বেড়াহীন চালার নিচে নিয়ে পাঠদান দিতে হয়। বিজ্ঞান ক্লাসের সময়ও একই সমস্যা দেখা দেয়।

তাছাড়া জরাজীর্ণ এই ঘরের অফিসে কষ্ট করে সব শিক্ষক কর্মচারীকে বসতে হচ্ছে। অফিসিয়াল কাগজপত্রসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী ও সহায়ক সরঞ্জামাদি রাখা জটিল হয়ে গেছে। একদিকে নিরাপত্তার অভাব অন্যদিকে যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। মূল ভবনে অফিস করলে ক্লাস রুম কমে যাবে। এজন্য ঝুঁকি নিয়ে এখানেই অফিস রাখা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক অনেককে ফেরত দিতে হয়েছে। আগামী বছর এক্ষেত্রে আরও বেগ পেতে হবে বলে জানান তিনি।

এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হয়েও কোনো লাভ হয়নি।

দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে আরও দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হবে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এসব সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট নিরসনের আবেদনও জানান তিনি।

বিদ্যালয় শিক্ষকদের মতে পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে অনতিবিলম্বে একটি একাডেমিক ভবন প্রয়োজন। এ জন্য উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের আশু সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তারা। এরমধ্যে আপাতত কিছু অনুদানের মাধ্যমে মেরামত কাজ করানো গেলে কিছু দিন চালিয়ে নেওয়া যাবে বলে জানান তারা।

শিক্ষকদের মতে, বেঞ্চ সংকট ও ল্যাব করার বিষয়েও উদ্যোগের পাশাপাশি শ্রেণীর অভাব ঘোচাতে স্থায়ী সমাধান হিসেবে ফ্যাসিলিটিস ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় একটি ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা বাড়বে।

তবে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক।

(ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/প্রতিনিধি/পিএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :