ঈদের আনন্দ ছোঁয়নি তাদের, নেই বাড়ি ফেরার তাড়া

আহম্মেদ মুন্নী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩৭ | প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:২৬

এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ নিয়ে এসেছে ঈদ। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে যাওয়া হচ্ছে না পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মুচি, দিনমজুরসহ অসংখ্য মানুষের। তাদেরই একজন নুর মোহাম্মদ (২৭)। তিনি পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রাজধানীর মহানগর প্রজেক্টে বর্জ্য অপসারণের কাজ করেন। থাকেন মালিবাগ। গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর।

নুর মোহাম্মদের পরনে ময়লা কাপড়। উসকো-খুসকো চুল। ভাঙা গালে মুখভর্তি হাসি নিয়ে বললেন, “ঈদ তো ঈদই, সবার জন্য তো ঈদ সমান না। মাইনষের জন্য থাকি। ময়লা না নিলে কেমনে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা যদি একদিন বন্ধ দিই তাহলে মাইনষে নিজেগো ঘরের ময়লার গন্ধে নিজেরা হার্টফেল করব। ঈদে মেহমান থাকে। রান্নাবান্না বেশি। এজন্য সাধারণ দিন থেইক্যা ময়লা একটু বেশি হয়।”

ঈদের দিন থাকলে বখশিস পাওয়া যায় বলেও জানালেন এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বলেন, “ঈদের দিন এক্সট্রা ফেসিলিটি আছে। সালামি দেয় অনেকে খুশি হইয়া।”

তার সঙ্গেই কাজে যুক্ত মুক্তার হোসেন (৪৫)। দুই সন্তানের জনক তিনি। মেয়ের বয়স ৯ আর ছেলের বয়স ৬। তিনিও ঈদের দিন কাজ করবেন। তবে কাজে আসবেন একটু দেরিতে। কারণ হিসেবে জানালেন, তার ছোট ছেলেকে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়ে তারপর কাজে নামবেন। মুক্তার বলেন, “ছেলেকে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়াটাই আনন্দ।” রাজধানীর রামপুরায় কথা হয় মুচি নগেন্দ্র চন্দ্র দাশের (৪৫) সঙ্গে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। বয়সের ভার আর রোগ বালাইয়ের কারণে কাজ করতে পারেন না। ভারী কাজ করতে পারেন না বলে মুচি পেশাই তার আয়ের উৎস। ঈদ নিয়ে কথা শুনে তিনিও এগিয়ে এলেন। বললেন, “ঈদে আমার ইনকাম নাই বললেই চলে। মানুষ পুরান জুতা রেখে এখন নতুন জুতা কিনবে। সেলাইয়ের কাজ নেই এখন। কিছু কাজ হয় জুতু কালি করার। কামকাজ তো নাই তেমন, সুবিধাও নাই।”

মো. ফারুক। বাড়ি জামালপুর। দুই সন্তানের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আগে গ্রামে ক্ষেতখামারে কাজ করতেন। করোনা মহামারির সময় জমানো টাকা ভেঙে খেয়ে এখন ঋণগ্রস্ত। ঢাকায় কারওয়ান বাজারে মজদুরের কাজ করেন। ট্রাক থেকে সবজি নামিয়ে দিলে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় সেটাই তার আয়ের উৎস।

ফারুক এবার ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন না। তার মনে ঈদের আনন্দ নেই। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা নেই তাই বাড়ি যাননি। এ কয়দিন কাজ করে যা পেয়েছেন সেই ২১০০ টাকা বাড়িতে বউকে পাঠিয়ে বলেছেন, বাচ্চাদের কাপড় কিনে দিয়ে যদি টাকা থাকে তাহলে মুরগি কিনতে। আর না হলে ডিম কিনে ঈদের দিন রান্না করতে।

ফারুক বলেন, “এখন কারওয়ান বাজারে কাজ কম। ঈদে মানুষ মাংস, মুরগি খায়, শাকসবজি খায় কম। তাই সবজির ট্রাকও ঢুকে কম।”

(ঢাকাটাইমস/১০এপ্রিল/এএম/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :