চালের বস্তায় জাত-দাম লিখতে গড়িমসি

তাওহিদুল ইসলাম, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৯ | প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৩

চালের বাজার সহনশীল ও দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বস্তায় ধানের জাত ও মূল্য লেখার যে নির্দেশনা খাদ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছিল তা এখনো কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার দুদিন পর মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ধান ওঠার আগে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর জন্য আরও অন্তত এক মাস সময় চাইছেন তারা। মন্ত্রণালয়ে এর জন্য আবেদনও করেছেন।

চালের বস্তার গায়ে ধানের জাত, মিলের ঠিকানা ও দাম লেখা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে ২১ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করেছিল। ১৪ এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর করতে বলেছিল মন্ত্রণালয়। এই হিসেবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা সময় পেয়েছিলেন ৫৩ দিন।

নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সোমবার (১৫ এপ্রিল) সরজমিন ঘুরে ও রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কার্যকর করা তাদের পক্ষে এখনো সম্ভব হয়নি। আরও এক মাসের মতো সময় লাগবে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে।

মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, চালের বস্তায় ধানের জাত ও মিল গেইটের মূল্য লিখতে হবে। সেই সঙ্গে লিখতে হবে উৎপাদনের তারিখ ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম। উল্লেখ করতে হবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অবস্থানও (জেলা ও উপজেলা)। ওজনের তথ্যও থাকতে হবে।

২১ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসমাইল হোসেনের স্বাক্ষর করা নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পছন্দমতো জাতের ধানের চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজারমূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয় তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- চালের উৎপাদনকারী মিল মালিকদের গুদাম থেকে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেইট মূল্য এবং ধান/চালের জাত উল্লেখ করতে হবে। বস্তার ওপর এসব তথ্য হাতে লেখা যাবে না।

চাল উৎপাদনকারী মিল মালিকের সরবরাহ করা সব ধরনের চালের বস্তা ও প্যাকেটে ওজন (৫০/২৫/১০/৫/১) উল্লেখ থাকতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে মিল গেইট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনটির ধারা ৬-এর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রয়েছে। আর ধারা ৭-এর শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য পরিদর্শকরা পরিদর্শনকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

এ প্রসঙ্গে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, “খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের কপি পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করছি। আজকে অফিস শুরু হয়েছে। আমরা এটা কঠোরভাবে মনিটরিং করব।” এদিকে কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্দেশনা দিলেই তো হয় না। কার্যকর করার জন্য সময় লাগবে। এখন যে পুরোনো বস্তা আছে সেগুলো কী করবেন ব্যবসায়ীরা। সামনে যখন নতুন চাল আসবে তখন থেকে এটা মিল মালিকরা কার্যকর করলে আমরা সেই বস্তা পাব। আমরা তো আর চালের বস্তা তৈরি করি না। আমরা তো আড়তদারদের থেকে কিনে আনি।”

মেসার্স মান্নান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মান্নান তালুকদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, “নতুন ধান উঠলে এটা তখন থেকে কার্যকর হলে ভালো হবে। আর মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা উৎপাদনের স্থান থেকে কার্যকর হবে। তবে আমাদের স্টকে বা দোকানে যে চাল আছে তা বিক্রি শেষ না হলে আমরা তো নতুন চালের বস্তা আনতে পারব না। এটা কার্যকর হলে ভোক্তার জন্যও সুবিধা হবে। তবে এটা কার্যকর করতে পারবে কি না সেটাই বড় কথা।”

নওগাঁর দেশ অটোমেটিক রাইস মিলের ম্যানেজার সুমন্ত কুমার কুণ্ডু ঢাকা টাইমসকে বলেন, “আমরা বস্তার প্রিন্টিং অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। নতুন চাল উঠলেই আমরা নতুনভাবে করব। নতুন চাল উঠতে আরও অন্তত ২০ দিন সময় লাগবে। আর বিভিন্ন কোম্পানির আগের বস্তাগুলো তো রয়ে গেছে। এগুলো তো আর কেউ নষ্ট করতে পারবে না। এখানে বহু টাকার ব্যাপার। পুরোনো বস্তা শেষ হতে হতে এক মাস লাগবে। এরপর নতুন বস্তায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক করা হবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স মুনজুর অটো রাইস মিলের পরিচালক ফারুক হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, “সরকারের নির্দেশনা আমাদের অবশ্যই মানতে হবে। আমাদের নতুন সিজন থেকে যে চালটা যাবে, ওই বস্তায় ধানে জাত ও দামসহ নির্দেশনা মোতাবেক লেখা থাকবে।”

তিনি বলেন, “সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বস্তা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের তো পুরোনো অনেক বস্তা আছে। দরকার হলে আমরা পুরোনো বস্তার ওপর সিল মারব। আমরা সিল করতে দিয়েছি। আমাদের করতে কোনো আপত্তি নেই। নতুন চাল এলেই আমরা শুরু করে দেব।”

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সচিব মো. ইসমাইল হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, “চালকল মালিকরা সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। সময় কিছুদিন বাড়ানো হতে পারে। তবে এখনই কনফার্ম করতে পারছি না।”

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/টিআই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :