সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংকে মিলল আনারের খণ্ডিত দেহাবশেষ!

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ২২:৩৩ | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০২৪, ২০:৫৫

ঝিনাইদহ- আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের খণ্ডিত দেহাবশেষ মিলেছে। কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক সুয়ারেজ লাইন ভেঙে কিছু মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এখন সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা হবে আনারের কি-না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, সকালবেলা হারুন স্যার দেশটির সিআইডিকে অনুরোধ করেছিল সেফটি ট্যাংক ভেঙে তল্লাশি চালাতে। স্যারের অনুরোধে সিআইডি ট্যাংকের তল্লাশি করে আশানুরূপ ফলাফল পায়। সেখানে কয়েকটুকরা মাংসের খণ্ড পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো এমপি আনারের শরীরের অংশ। এজন্য সেসব মাংস পরীক্ষার জন্য ডিএনএতে পাঠানো হচ্ছে।

গত ১২ মে কলকাতা চিকিৎসার জন্য যান এমপি আনার। পরের দিন সেখান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। নয় দিন পর তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসে। এরপর শুরু হয় তোড়জোড়। ভারত বাংলাদেশে পৃথকভাবে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

মূলত স্বর্ণচোরাচালান কারবারিরা তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আর হত্যার প্রধান মাস্টারমাইন্ড এমপির ছোটবেলার বন্ধু ব্যবসায়ীক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীন। সেই মূলত হত্যার পরিকল্পনা করে। শাহীন বর্তমানে আমেরিকায় আত্মগোপনে আছেন। গত 'দিন মরদেহের খন্ড-বিখন্ড অংশ উদ্ধারে বিভিন্ন জলাধারে সাঁড়াশি তল্লাশি চালিয়ে আসছে দেশটি।

এদিকে রবিবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা বিমানযোগে কলকাতা গেছেন।

এই তালিকায় আছেন আছেন ডিবি পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) . আহাদ ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনার হত্যার ঘটনায় তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন একটি মামলা করে। সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ডিবি পুলিশ। আর ভারতে এই হত্যার ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। বর্তমানে সেটি তদন্ত করছে দেশটির সিআইডি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুটি পক্ষ মামলার রহস্য উদঘাটন সরেজমিন তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ভারত যান। এর আগে ভারতীয় গোয়েন্দারা বাংলাদেশে আসেন। তারা এখানে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এমপি আনার খুনের প্রধান মাস্টারমাইন্ড শিমুলকে বাংলাদেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কলকাতার আলিসান অ্যাপার্টমেন্ট সঞ্জীবা গার্ডেনে ১৩ মে প্রবেশ করেন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। ওই অ্যাপার্টমেন্টে যাবার সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন। জীবিত অবস্থায় আনার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলেও তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুনিরা আনারের মরদেহ টুকরা টুকরা করে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। এই কাজ করতে একজন কসাইকে ভাড়া করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এখন ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে খোঁজা হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৮মে/এসএস/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :