রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট, বিপাকে নগরবাসী

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। শীত মৌসুম এলেই রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়—এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
গ্যাস সরবরাহ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে। ফলে দিনের সিংহভাগ সময়ে পাইপলাইনে সংযুক্ত গ্যাসের চুলা একদম জ্বলছে না কিংবা নিভু নিভু জ্বলছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন অর্ধেক কমে গেছে। দৈনিক প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সব বিতরণ কোম্পানিগুলো মিলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ করছে ২৫০-২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সরবরাহ ঘাটতি থাকছে।
এদিকে এলপিজি গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মগবাজার, ইস্কাটন গার্ডেন, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের চিত্র স্পষ্ট। রান্না বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধের পরও তাদের বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আবার হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট ও লাগামছাড়া দামের কারণে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যানবাহন খাতেও। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। চালকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার পূর্ণ করা যাচ্ছে না। এতে ডিউটির সময় বাড়লেও আয় কমে যাচ্ছে।
নগরবাসী যখন চরম সংকটে, তখন তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় আগে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী সাইদুল হাসান বলেন, “প্রায়োরিটি বেজড যেখানে প্রয়োজন সেখানে গ্যাস সরবরাহের পর আবাসিক এলাকায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঢাকায় প্রতিদিন ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অবৈধ সংযোগের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে নজরদারি করা সম্ভব নয়। আমরা অবৈধ লাইন কাটলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার ব্যবহার শুরু হয়।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় যৌক্তিক দামে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তাই সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় রোধে আধুনিক ও দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।
এদিকে এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়েও বাজারে চরম নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যদিও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে নগরবাসীকে অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/০৬ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































