জবিতে ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী মো. তানফির নিয়াজ ফাহিম ও মো. মাহফুজুর রহমান মিতুল গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় পাঠানো হয়।
জানা যায়, সকালে সেমিনার কক্ষে অবস্থান করছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। হঠাৎ তাদের ওপর ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে। তাদের একজনের মাথায় এবং অপরজনের পিঠে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। আহত অবস্থায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকি]সা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা ও অবহেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা।
জকসু এজিএস মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জবি ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিছু ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তারা যেন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে।"
গতবার ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে জকসু এজিএস বলেন, “ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত অনিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করতে হচ্ছে। আর কতজন শিক্ষার্থীর ক্ষতি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?"
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ আজকের ঘটনায় আহতদের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জকসু জিএস বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি এসব ভবন সংস্কার করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি জানান, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং বড় বাজেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ইতোমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটা কক্ষটির বিপরীত পাশে ও দক্ষিণ পাশের তিনটি কক্ষের কাজ শেষ হয়েছে এবং আরও অনেক কাজ চলমান রয়েছে।
ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ার আগে কেন ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী কক্ষের 'ফলস সিলিং' বা প্লাস্টিকের ছাদকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্লাস্টিকের সিলিং থাকার কারণেই মূল ছাদের ফাটল বা পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি আগে থেকে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে একমত হয়ে সব ফলস সিলিং খুলে ফেলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া পুরো বিজ্ঞান ভবনের ড্রইং, ডিজাইন ও হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ফান্ডের ব্যবস্থা হলেই মূল সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে দাবি করেন প্রধান প্রকৌশলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, উপাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আগামীকাল থেকে সেখানে সবারর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটি ছোটখাটো মেরামতের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
(ঢাকাটাইমস/১এপ্রিল/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































