বসিলা গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল টিটনের, ‘মিটে যাবে’ বলেছিলেন ভাইকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৪
অ- অ+

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের সঙ্গে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছেন টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। তবে টিটন নিজেই এ বিরোধ দ্রুত মিটে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে দাবি তার।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে নিউমার্কেট থানার সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নিহত টিটনের বড় ভাই।

‎তিনি বলেন, ‘জামিন পাওয়ার পর টিটন দুবার যশোরে গিয়েছে। এরমধ্যে একবার ঈদের সময় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বসিলার গরুর হাট নিয়ে বিরোধের কথা সামান্য বলেছিল। তাদের সঙ্গে ঝামেলা চলতেছে; পরে বলতেছে, না বড় ভাই, ঠিক হয়ে যাবেনে, অসুবিধা নাই, দোয়া কইরেন, এটুকুই।’

‎ইমনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইমনের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। এমনিতে ছোটখাটো ঘটনা ভাইবোনের মধ্যে থাকতেই পারে। এটা কিলিং পর্যায়ের কোনো বিরোধ না, আমি মনে করি না। কারণ ইমন আমার মায়েরও যত্ন করত। আমার দৃষ্টিতে সে (ইমন) ভালো ছেলে।’

‎রিপন আরও বলেন, ‘পুলিশকে সব জানানো হয়েছে, আমি চাচ্ছি ন্যায় হোক। সবার কাছে অনুরোধ, যেন ন্যায় বিচার পাই আমরা।’ ‎

‎তিনি আরও বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের মরদেহটা নেব। তারপর যশোরে যেতে হবে, সেখানে দাফন করতে হবে।’

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন টিটনের বড় ভাই। বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, টিটন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে তার নাম ছিল।

পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল রাতে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি জামিনে থাকলেও আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের অন্যায় না করার শপথ করালেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
হঠাৎ অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকু, সিসিইউতে ভর্তি
আওয়ামী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল এখন দিচ্ছে জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পূবাইলে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবিতে দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা