ভোক্তা অধিকার: সরকারি দুই সংস্থায় হঠাৎ উত্তেজনা

বোরহান উদ্দিন
| আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১৬ | প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৫

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন দুটি সরকারি সংস্থার মধ্যে হঠাৎ দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। রাজধানীর খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার পর ‘নিরাপদ’ তিনটি হোটেলকে জরিমানা করা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই টানাপোড়েন।

রবিবার মোট ৫৭টি খাবার হোটেলকে ‘এ প্লাস’ এবং ‘এ’ গ্রেডিং দিয়ে স্টিকার দেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। যেগুলো পুরোপুরি নিরাপদ, সেগুলোকে দেওয়া হয় ‘এ প্লাস’, যাদের সবুজ রঙের স্টিকার দেওয়া হয়েছে। আর যাদের মান এর চেয়ে কিছুটা কম, তাদের দেওয়া হয়েছে ‘এ’ গ্রেড, যাদের দেওয়া হয়েছে নীল রঙের স্টিকার।

এই নীল রঙের স্টিকারযুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সোমবার এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর পরই অসন্তোষ জানাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব অভিযোগ এনে জরিমানা করা হয়েছে, তাতে সাজা হয়েছে ‘অতিরিক্ত’। এটি উদ্দেশ্যমূলক।

তবে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের মান দেখে স্টিকার দিয়েছে। কিন্তু নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।

‘নিরাপদ’ চিহ্নিত খাবার হোটেলে জরিমানার বিষয়টি মানতেই পারছেন না নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি সরাসরি তা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ‘দুটি হোটেলের অভিযোগের সঙ্গে উল্লেখিত ধারার কোনো মিল নেই। সে হিসেবে অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হয়েছে। একজনের মাথায় টুপি নেই, কিচেনে একটি বস্তা পাওয়া গেছে। হোটেলে বানানো দই-ফিরনির গায়ে মূল্য লেখা নেই (মেন্যুতে মূল্য লিখা আইছে)। একুয়া মিনারেলের বোতলে বোরহানি। এসব ছিল অভিযোগ এই দুটি হোটেলে। ভুল ধারায় অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের সম্ভবত রেকর্ড নেই একটি হোটেলকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করার।’

মাহবুব কবির ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অনেক দিনের পরিশ্রমের পর আমরা কার্যক্রমটি শুরু করেছি মাত্র। হয়তো সামান্য ভুলত্রুটি হোটেল কর্তৃপক্ষের থাকলেও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের সংশোধনের সুযোগ দিলে বিশ্বাস করি তারা শুধরে নেবে। কিন্তু শুধু জরিমানা করলেই এর সমাধান আসবে না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। স্টিকার দেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চোখে পড়লে আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিজেদের কার্যক্রম নিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল সকালে একজন আমাকে একটি রেস্টুরেন্টের নাম জানিয়ে অভিযোগ করেছে নাশতা করতে গিয়ে সে হোটেলের সিসি ক্যামেরার মনিটর বন্ধ দেখেছে। খবরটি জানার সঙ্গে সঙ্গে মালিককে টেলিফোনে কারণ জানতে চেয়েছি। দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন আর কখনো তারা এমনটা করবেন না।’

নিরাপদ খাদ্যের কর্মকর্তার এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর দেশের জন্য, ভোক্তাকে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে। যে অভিযানটির কথা বলা হয়েছে, এটা স্বাভাবিক অভিযানেরই অংশ ছিল। তবে কাজ করতে গেলে অনেক সময় ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হবে।’

ভালো হোটেলের স্টিকার পাওয়ার পর সেই প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো অভিযোগে জরিমানায় কোনো সমন্বয়ের অভাব ছিল কি নাÑজানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক সময় কাজ করতে গেলে সমন্বয়হীনতা হতেও পারে। তবে তাদের উদ্যোগটি মহৎ। সামনে যাতে এমনটা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

ভোক্তা অধিকারের হয়ে অভিযানে থাকা আরেক কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার ম-ল বলেন, ‘তিনটি প্রতিষ্ঠানই (এ প্লাস পাওয়া তিনটি খাবার হোটেল) তাদের ভুল স্বীকার করেছে। দু-এক দিনের মধ্যে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :