মা হওয়া কিশোরীই জানতেন না তিনি অন্তঃসত্ত্বা

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৬ | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৫
ছবিতে মা হওয়া কিশোরী এবনি স্টিভেনসন ও তার কন্যা শিশু এলোডি

১৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ কিশোরী এবনি স্টিভেনসন। অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার পর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন তার পাশে ফুটফুটে এক কন্যা শিশু। চিকিৎসকরা যখন স্টিভেনসনকে জানালেন, এই কন্যা শিশুটি তারই তখন তিনি নিজেই বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন।

সম্প্রতি এমন তাক লাগানো ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে অবস্থিত ওল্ডহ্যাম শহরে। হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চিকিৎসকরা আবিষ্কার করেন, স্টিভেনসন সন্তান সম্ভবা এবং শিশুটিকে বাঁচাতে হলে তাকে তক্ষুনি পেট থেকে বের করতে হবে।

স্টিভেনসনের মা কিছুতেই এই কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ মেয়ের শরীরে গর্ভের কোনো লক্ষণই ছিল না। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে স্বচক্ষে দেখান, হঠাৎ-হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য স্টিভেনসনের পেট কেমন ফুলে উঠে। অবশেষে অস্ত্রোপচার হয়। জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যা শিশু এলোডি।

চিকিৎসকরাও খুব অবাক হয়েছিলেন। কারণ যিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি নিজেই সে কথা জানতেন না! এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের পেট যেভাবে ফুলে উঠে তেমন কিছু্ও দেখা যায়নি স্টিভেনসনের শরীরে। অথচ প্রতিমাসে নিয়মিত তার মাসিক হয়েছে। তাহলে এই শিশু কিভাবে জন্ম নিলো!

চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইউটেরাস ডিডালফিস’ বলা হয়। স্টিভেনসনের দুটি জরায়ু ছিল। সামনের জরায়ুটি থেকে প্রতিমাসে মাসিক হয়েছে। তার পেছনে লুকিয়ে থাকা দ্বিতীয় জরায়ুতে বেড়ে উঠেছে এই শিশুটি।

যার কারণে গর্ভাবস্থায় স্টিভেনসনের পেট বড় হয়নি। শুধু মাঝে মাঝে সকাল বেলা তার একটু দুর্বল লাগতো। এছাড়া আর কিছুই টের পাননি তিনি। তাই সন্তান সম্ভবা হওয়ার পরেও বিষয়টি থেকে গেছে স্বয়ং গর্ভবতীরই জানার বাইরে।

এদিকে স্টিভেনসন জানান, পৃথিবীতে এখন নিজের মেয়েকে তিনি সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন। প্রথমবার কোনো কিছু না জেনে-বুঝেই মা হওয়া এই কিশোরী তার মেয়ের নাম রেখেছেন এলোডি।

ঢাকাটাইমস/১৯ ফেব্রুয়ারি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :