শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার বিচার কবে?

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০১৯, ১২:১২

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজে জঙ্গি হামলার ঘটনার তিন বছর পার হচ্ছে আজ। এই ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা হয়েছে নয় মাস আগে। কিন্তু এখনো এই মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত। ফলে মামলাটির বিচার এখনো শুরু করা যায়নি।

মামলা পরিচালনার সরকারি কৌঁসুলির ভাষ্য, আসামিরা ঢাকার হোলি আর্টিজান মামলারও আসামি। তাদের বিচার চলছে অন্য আদালতে। তাদের কিশোরগঞ্জে আনা যাচ্ছে না বলে শোলাকিয়া হামলা মামলার চার্জ গঠন করা যাচ্ছে না।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন জামাত শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের অদূরে আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে পুলিশের একটি নিরাপত্তাচৌকিতে অতর্কিতে বোমা ও চাপাতি হামলা চালায় জঙ্গিরা। দুপুর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের দুই কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হক। আর গোলাগুলি সময় নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় এক গৃহবধূ ঝরনা রানী ভৌমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হন আবির রহমান নামের এক জঙ্গি। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম নামের আরেক জঙ্গিকে। পরে শফিউল র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নান্দাইলের ডাংরী এলাকায় মারা যান।

জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

এ মামলায় কিশোরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান মামলাটির তদন্ত পান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহর আদালতে ১৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি। তাতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

যারা অভিযুক্ত

পাঁচ আসামির মধ্যে প্রথমে গ্রেপ্তার হন শোলাকিয়া ও ঢাকার হোলি আর্টিজান হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। তাঁর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়  জাহিদুল হক ওরফে তানিম, জেএমবির শীর্ষ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজকে। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে।

অবশ্য মামলার মোট আসামি ছিলেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। তাদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, শোলকিয়ার জঙ্গি হামলা মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন  করা হয়নি। কারণ এ মামলার বেশির ভাগ আসামি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলার আসামি। তারা ঢাকার জেলে রয়েছেন সেখানেই তাদের বিচার চলছে। বিভিন্ন কারণে তাদের কিশোরগঞ্জে হাজির করা যায়নি।

সব আসামির উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করতে হয় জানিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হক বলেন, আসামিদের একত্র করা যায়নি বিধায় চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি। 

(ঢাকাটাইমস/৫জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :