ব্লু-ইকোনমি

নজর দিতে হবে সাগরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ২৩:৩৩ | প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৫

বাংলাদেশের প্রথম কোনো অর্থনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্লু-ইকোনমি তথা সুনীল-সমুদ্রের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছেন ড. দিলরুবা চৌধুরী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করা এই অধ্যাপক জানান বিভিন্ন দেশ ব্লু-ইকোনমিতে বিপুল অথনৈতিক সফলতা পেলেও বাংলাদেশ এখনো এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। অথচ  বাংলাদেশের অপার-অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার সমূহ-সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্লু-ইকোনমি: প্রস্পেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব মেরিন রিনিউবল এনার্জি অব বাংলাদেশ এবং ব্লু-ইকোনমি: প্রস্পেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব মেরিন ফিশারিজ অব বাংলাদেশ নামের দুটি বই প্রণেতা সহকারী অধ্যাপক দিলরুবা বলেন, আমাদের সমুদ্রে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের মতো মহামূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্লে পাওয়া যায়। এটি সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশে বর্তমান সিমেন্ট শিল্পের পরিমাণ ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ও বার্ষিক সিমেন্ট উৎপাদন ৫০.২ মিলিয়ন টনের বেশি।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ব্লু-ইকোনমির নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলরুবা।

ব্লু-ইকোনমি সোজা বাংলায় সুনীল-সমুদ্রের অর্থনীতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ বড় বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশেও এ বিষয়ে আলোচনার কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পরিকল্পনার কথা আমরা শুনিনি...

সমুদ্র অর্থনীতি গোটা পৃথিবীকে নতুন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা দেখিয়েছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের কর্মকাণ্ড হচ্ছে সমুদ্র ঘিরে। বিশ্বের ৪৩০ কোটি মানুষের ১৫ শতাংশ প্রোটিনের জোগান দিচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ও উদ্ভিদ। ৩০ শতাংশ গ্যাস ও জ্বালানি তেল আসছে সাগর থেকে।

সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার সমূহ-সম্ভাবনা রয়েছে। অপার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা থাকার পরেও বাংলাদেশে এই খাতের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দুই-একটি রিসার্চ ভেসেল আর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত ‘ব্লু ইকোনমি সেল’ নামে ক্ষুদ্র প্রশাসনিক সেল গঠন ছাড়া সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের তেমন পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ। সংসদীয় কমিটি ২০১৭ সালে সেলের বদলে আইনগত ক্ষমতা দিয়ে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করলেও তা এখন পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৪ ও ২০১৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে দুটি ওয়ার্কশপ করে সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাব্য ২৬টি খাত চিহ্নিত করেছে। সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন ও তা বিকাশে দক্ষতা সৃজনের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Maritime University Bangladesh ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে Oceanography চালু করা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে ‘ইনস্টিটিউট ফর ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি ইনস্টিটিটিউট স্থাপন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন; কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফি রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপন। বর্তমানে মহেশখালিতে একটি Offshore Wind Energy প্রকল্প চালু রয়েছে। এ ছাড়া গবেষণাসহ আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এসবের ফল পেতে লাগবে আরও ৫ থেকে ১০ বছর।

সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনার সুফল পাচ্ছে কোন কোন দেশ...

এমন দেশ তো আছেই। যেমন ইন্দোনেশিয়া। দেশটির জাতীয় অর্থনীতির সিংহভাগই সমুদ্রনির্ভর। সম্প্রতি তারা সুনীল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র থেকে আহরিত সম্পদের মূল্যমান ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বাজেটের ১০ গুণ হবে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া সমুদ্রসম্পদ থেকে বর্তমানে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। তারা ২০২৫ সাল নাগাদ এ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ১০০ বিলিয়ন ডলার।

মিয়ানমার ও ভারত তাদের সমুদ্র এলাকা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ করছে। ফ্রান্স বড় ধরনের ব্যারাজ নির্মাণ করে এর রান্সটাইটেল পাওয়ার স্টেশন থেকে ২৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিহ্হাটাইডাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে ২৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়াংজিয়া, জিনডুউলডলমক, গাংওয়া আইল্যান্ড এবং একই দ্বীপের অন্যপাশে টাইডাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

ভারতের গুজরাটে ৫০ মেগাওয়াট টাইডাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশে সমুদ্র উপকূল রয়েছে তারাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং নতুন নতুন প্রকল্প স্থাপন করে চলেছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও এখনো পর্যন্ত সেভাবে বিষয়টি ভাবা হয়নি।

সমুদ্রকে নানাভাবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন...

আমাদের দেশে সন্দ্বীপের জোয়ারের পানির উচ্চতা ২-৭ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া এর স্রোতের গতিও যথেষ্ট ভালো থাকায় এটি টাইডাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। তবে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়টিও পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বায়ুশক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। মালয়েশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেকনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসডিএনবিএইচডি চট্টগ্রামে সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক ওয়েভ প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রবিজয়ের পর এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ।

বলা হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে সীমাহীন সম্পদ আর ঐশ্বর্য রয়েছে, যা কি-না আবিষ্কারের অপেক্ষায়। যদি তেমন কিছু হয় দেশের অর্থনীতিই পাল্টে যাবে। এই যে বিপুল সম্ভাবনা- কোন কোন খাতে এখনই জোর দেয়া জরুরি বলে মনে করছেন?

বিশব্যাংক একটি রিপোর্টে বলেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির অবদান ছিল (এঠঅ) ৬.২ বিলিয়ন ডলার যা মোট জিডিপির ৩ শতাংশের সমান। অর্থনীতির গুরুত্ব বিবেচনায় ব্লু ইকোনমির সব সেক্টরের মধ্যে সামদ্রিক তেল-গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামদ্রিক মৎস্য ও পর্যটন খাতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

বঙ্গোপসাগরের বুকের সম্পদ কীভাবে নাগালে আনা যায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার এ বিষয়ে তার সরকারের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

ইতিমধ্যে আমাদের সমুদ্রসীমায় চারটি ব্লকে তেল-গ্যাস ও খনিজসম্পদের অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য সরকার বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও তার বিভিন্ন বক্তব্যে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশ্বে ব্যবহৃত ম্যাগনেশিয়ামের মোট ৫০ শতাংশই আসে সমুদ্র থেকে। এ ছাড়া সমুদ্র থেকে আহরিত পটাশিয়াম লবণের সার ও রসায়ন শিল্পে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সামদ্রিক তেল-গ্যাস ও খনিজসম্পদের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন নিজেদের সামর্থ্যরে প্রভূত উন্নয়ন, সমুদ্র অর্থনীতি খাতের সম্ভাবনা আবিষ্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। সর্বোপরি একটি সমন্বিত মেরিটাইম পলিসি বা সমুদ্রনীতি প্রণয়ন। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র-অর্থনীতি কাজে লাগাতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আইনি কাঠামো না থাকা, প্রয়োজনীয় গবেষণার অভাব, সক্ষমতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকা এবং মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতাই মূলত দায়ী।

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের একটি জার্নালে বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই সাগরে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ভরপুর। আর এর ১৩টি জায়গায় সোনার চেয়ে দামি বালি রয়েছে। সাগরের অগভীরে জমে আছে ‘ক্লে’। যার পরিমাণও নাকি হিমালয়কে হার মানাবে। সিমেন্ট তৈরি হয় ক্লে দিয়ে। ক্লের চাহিদা বিশ্বব্যাপী। তেল-গ্যাসের বাইরে এটাও বঙ্গোপসাগরের আরেকটি বড় খাত হতে পারে?

আমাদের সমুদ্রে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের মতো মহামূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্লে পাওয়া যায়। এটি সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশে বর্তমান সিমেন্ট শিল্পের পরিমাণ ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ও বার্ষিক সিমেন্ট উৎপাদন ৫০.২ মিলিয়ন টনের বেশি। ২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশ ৬১৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি শুধু সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি করেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে ক্লে উৎপাদন করা/আহরণ করা সম্ভব হলে এই বিপুল পরিমাণ আমদানি খরচের সিংহভাগই বেঁচে যাবে।

শেখ হাসিনার সরকার সমুদ্রবিজয় করেছে। বঙ্গোপসাগরের একটা নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত বাংলাদেশ একচ্ছত্র অধিকার পেয়েছে। কিন্তু অনেক আগে থেকেই পাশের দেশ মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে গ্যাসও তুলছে নির্বিঘ্নে। মিয়ানমার পারলে আমাদের সীমার মধ্যে আমরা এখনো কেন পারলাম না?

শুধু মিয়ানমার নয় ভারতও সমুদ্রের ঢেউকে ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। দেশটিতে মোট দুই লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে সমুদ্রের ঢেউ এবং বাতাস ব্যবহার করে।

২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সমুদ্রের এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার একচ্ছত্র অধিকার পেয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত তাদের সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করলেও বাংলাদেশে আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।

মূলত আমাদের নিজস্ব অরগানাইজেশন যেমন বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, জিএসবিএর, সমন্বিত মেরিটাইম পলিসির অনুপস্থিতি, বৈদেশিক সহযোগিতার অভাব, ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের অভাব, প্রযুক্তিগত অক্ষমতা, কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতা ইত্যাদির অভাব রয়েছে।

সামুদ্রিক অর্থনীতিতে উদ্যোক্তারা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

সাগরের তলদেশে কী পরিমাণ সম্পদ লুকায়িত, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেশের মানুষের নেই। চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ী শুধুই ফিশিং ট্রলারে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কে মানুষের ধারণা না থাকার ফলেই এই খাতে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। আর এ জন্য বিকাশমান এইখাতে বিনিয়োগও বাড়ছে না। এ বিষয়ে ধারণা বাড়লে ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্লু-ইকোনমি বিষয় হিসেবে কিংবা এ বিষয়ের ওপর কোর্স পড়ানোর বিষয়ে কী ভাবছেন?

অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি প্রথম সুনীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনার কথা দেশ-বিদেশে সবাইকে জানানোর প্রয়োজন অনুভব করি। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে সামুদ্রিক অর্থনীতির কোর্স চালু করতে হবে। সামুদ্রিক বিজ্ঞান শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি করতে হবে। দক্ষ উপকূলীয় এবং অফশোর ইঞ্জিনিয়ার, নেভিগেটর, মার্চেন্ট মেরিনারস, টেকনলোজিস্ট, বায়োটেকনলোজিস্ট ও অন্যান্য পেশাজীবী তৈরির পাশাপাশি সামুদ্রিক অর্থনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে চীন, ফিলিপাইন, ভারত, মিয়ানমার অনেক এগিয়ে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থনীতি বিভাগে সুনীল অর্থনীতির ওপর বিষয় ও কোর্স চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :