পুলিশে আলোচিত ১০৩

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ০৮:৩৫
কুড়িগ্রামে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা

পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে বরাবর নানা অভিযোগের মধ্যে এবারের আলোচনা পুরোপুরি উল্টো। হাতে গোনা দুই একটি জেলায় অভিযোগ উঠলেও বাকিগুলোতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগের তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। আবেদনের জন্য জমা দেওয়া ১০৩ টাকার বাইরে নিয়োগপ্রাপ্তদের আর কোনো অর্থ দিতে হয়নি বলেই বলা হচ্ছে।

পুলিশও এই বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করছে। নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলদের সংবর্ধনা দেওয়ার মতো বিরল ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জেলায়। আর নতুন চাকরি পাওয়াদের আবেগি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, নিয়োগ নিয়ে যেন কোনো ধরনের অভিযোগ না ওঠে, এ জন্য তারা এবার শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন তারা। মাদারীপুর জেলায় একটি অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশ সুপারের দেহরক্ষীকে। পরে নিয়োগ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

এরই মধ্যে আলোচিত কনেস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শেষ হয়েছে। ছয় হাজার ৮০০ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৮৮০ জন নারী নিয়োগের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রশিক্ষণের পর তাদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক মীর সোহেল রানা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পুলিশের একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে যে মানুষ চাকরি করবে তারা ৪০ বছর ধরে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে কাজ করবে। এর ফলে দেশ ৪০ বছরের জন্য দুর্নীতিমুক্ত থাকবে।’

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ এই কারণে যে, এতে কেন্দ্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। জেলায় জেলায় পুলিশ সুপারের মাধ্যমেই নিয়োগ হয়। তিনিই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। আর এ জন্য তার পছন্দ অপছন্দ গুরুত্ব পায় বরাবর। গত বছর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এ জন্য একবার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতও হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর আগায়নি। পুলিশ সুপারের নিয়ন্ত্রণেই জেলায় জেলায় হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন না এনে তা কীভাবে স্বচ্ছ করা যায়, তার ওপরই এবার জোর দেওয়া হয়েছে। সব জেলার এসপি ও রেঞ্জের ডিআইজিদের পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একাধিক সভার মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও বিভিন্ন সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নিয়োগপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয় দালাল ও অসাধু ব্যক্তিদের প্রতারণার শিকার না হতে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনসচেতনতা ও নির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। পুলিশের কেন্দ্রীয় ও ইউনিট পর্যায়ে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে নানাবিধ প্রচার চালানো হয়। ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হয় জনসচেতনামূলক ডকুমেন্টারি ও ভিডিও। স্থানীয় পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ ও ক্যাবল টিভির মাধ্যমেও বক্তব্য প্রচার করা হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতি জেলায় এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিশেষ গোয়েন্দা দল প্রতি জেলায় উপস্থিত থেকে সর্বক্ষণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি করে। এসপিরাও নিজ নিজ ইউনিটে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কোন অসঙ্গতি চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরদপ্তরে জানিয়েছেন। সদরদপ্তরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনিয়মে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

এবারের নিয়োগের সবচেয়ে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতির চেষ্টার ঘটনায় সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৮টির বেশি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪০ জনের বেশি দালাল ও প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।

অনিয়ম করতে পারেন এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কমপক্ষে ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিক বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মুজমদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যদি অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই পুলিশ নিয়োগ হয়ে থাকে তাহলে এটা ভালো খবর। তবে সত্যই এটা হয়েছে কি? হয়ে থাকলে এবার বদলি বাণিজ্য, সাধারণ মানুষদের থানায় নিয়ে হয়রানি, ফুটপাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/এএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :