নির্ধারিত স্থানে ময়লা: উদাহরণ যখন শাহজালাল

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৮

খাওয়ার পর কোমল পানীয়ের বোতল, কফির কাপ বা প্যাকেট এখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার বদভ্যাস থেকে মুক্ত হতে পারছে না দেশ। সেখানে উল্টো উদাহরণ তৈরি হয়েছে দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালালে। সেখানে একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রী বা তাদের সঙ্গে যাওয়া স্বজন, বন্ধুরা উচ্ছিষ্ট ঠিকই ফেলছে ডাস্টবিনে।

এই ঘটনাটি ঘটছে দুটি বিশেষ কারণে। খাবার কিনলে পাঁচ টাকা অতিরিক্ত রাখা হয় সেখানে। আর ডাস্টবিনে উচ্ছিষ্ট ফেললে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এর চেয়ে বড় কথা, যেখানে সেখানে উচ্ছিষ্ট ফেললে জরিমানা হয় বড় অংকের। কেউ পাঁচ টাকা পাওয়ার জন্য এই কষ্টটা করতে না চাইলেও জরিমানার ভয়ে ঠিকই আবর্জনাটা বয়ে নিয়ে যায় নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে।

এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকায় যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় না। কিন্তু গত দেড় থেকে দুই বছর আগে সে চিত্র ছিল পুরো উল্টো। সেখানকার এমন হাল ছিল যে, বিদেশিরা নাক ছিটকাতেন। যেখানে সেখানে পড়ে থাকত আবর্জনা। কফি পান করে কাগজের কাপটা কেউ হয়ত দেয়ালের পাশে ফেলে যেতেন, সেখানে মাছি ভনভন করত।

অবস্থা পরিবর্তনে বেশ কঠোর হতে হয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে। বিমানবন্দর টার্মিনালে ময়লা ফেললে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আবার টার্মিলানগুলোতে খাবারের দোকানে কফি, পানি, কোমল পানীয়, চিপস, জুসসহ যা কিছুই বিক্রি হচ্ছে, সেখানে খাবারের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে পাঁচ টাকা। বলে দেওয়া হচ্ছে, খাবারের প্যাকেট ফেরত দিলে এই অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

খাবারের মূল্য তালিকার নিচে বিষয়টি লিখে দেওয়া আছে। সেখানে লেখা, ‘খাওয়ার পর পণ্যের কাপ, বোতল, প্যাক জমা দিয়ে অবশ্যই পাঁচ টাকা ফেরত নেবেন।’

সম্প্রতি টার্মিনালের এসব দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা খাবার গ্রহণের পর খাবারের প্যাকেট, কাপ বা বোতল ডাস্টবিনে ফেলে এসে দোকানিদের বলছেন। আর তারা সেই টাকা ফেরত দিচ্ছে।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ এই নিয়মটি চালু করেন। আর খুব দ্রুত এর সুফল পায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বন্ধ হয় বিমান বন্দরের ভেতরে ও বাহিরের অংশে ময়লা ফেলা। যাত্রী, দর্শনার্থীরা ময়লা ফেলতে ব্যবহার করছেন নির্ধারিত স্থানে রাখা ডাস্টবিন।

দুই নম্বর টার্মিনালের মেসার্স রয়েল ট্রেডার্সের বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বলে দেই, সবাই ডাস্টবিনেও ফেলে। টাকাও ফেরত নেয়। তাই এয়ারপোর্ট ময়লা হচ্ছে না।’

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/কারই/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :