শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বৈষম্যহীন-প্রগতিশীল

জবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৪৬ | প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সফল রাষ্ট্রনায়ক আখ্যা দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম-এর উদ্যোগে ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্বাধীনতার পরবর্তীতে ৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈষম্যহীন সমাজ ও দেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার সময় আমাদের দেশ অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত, শিল্পায়ন থেকে শুরু করে সকল কিছুতেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শীতা ও নেতৃত্বের কারণেই সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে, অনেকেই ব্যাঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ অকল্পনীয় গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘সংবিধানের চার মূলনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে প্রগতিশীলতা। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বৈষম্যহীন সমাজ বলতে কেবল অর্থনৈতিক বিষয় বুঝায় না। শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রসহ সকল পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সকল পর্যায়ের বৈষম্য দূর করার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যে সকল কাজ করছে তা এখন দৃশ্যমান। দেশ হতে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছি, আর প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। প্রগতিশীলতা এবং শেখ হাসিনা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনুকরণীয়।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে ধনী হলেই দেশের উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ডলারের ভিত্তিতে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, ইরানের মতো বহু উন্নত রাষ্ট্র পৃথিবীতে ছিল। কিন্তু সংস্কৃতি প্রগতিশীল ও বিজ্ঞান মনস্ক না হওয়ায় কালের বিবর্তনে আজ তাদের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে আমাদের ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য হ্রাস করতে হবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হলে ধনী-দরিদ্র্যের মাঝে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমানসহ সকলে মিলেমিশে যেভাবে বাঙালিত্ব ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলাম, ঠিক তেমনি দেশের উন্নয়নের ভাগ সকলের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করতে হবে।

‘দেশে বাঙালি প্রগতিশীল ভাবধারার লোক যেমন রয়েছে, তেমনি প্রগতিশীলতা ও স্বাধীনতা বিরোধী লোকও রয়েছে। প্রগতিশীলতা ও উন্নয়নের বিরোধী ভাবধারার লোকদের কার্যকলাপ থেকে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সাম্য ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আমাদের আরো তৎপর হতে হবে।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য প্রদান করেন।

সেমিনারে ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলামিস্ট ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সদস্য সচিব-১ অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফোরামের সদস্য-সচিব-২ সৌরভ জাহাঙ্গীর।

আলোচক হিসেবে কলামিস্ট ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী, দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলী হাবিব এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ওয়ারি থানা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এফ. এম. শরিফুল ইসলাম শরিফ বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল এবং তরুণ কলামিস্টরাও বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় প্রগতিশীল কলামিস্ট এবং তরুণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০৩ সেপ্টেম্বর/আইএইচ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :