মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার

একটা বাতিও জ্বলে না, বৃষ্টিতে হাঁটু পানি

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:১৭ | প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৪

রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক। প্রতিদিন এই উড়ালসড়ক ব্যবহার করছে বিপুল যানবাহন। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নেই কেউ। অনাদরে অযত্নে শ্রী হারাতে চলেছে ১২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত উড়ালসড়কটি। ফলে এই স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণে নগর কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিক সে প্রশ্ন উঠেছে।

চালু হওয়ার দুই বছর পেরোলেও এই উড়ালসড়কটির দায়িত্ব নেয় কোনও সংস্থা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, নির্মাণকাজ শেষে উদ্বোধনের পর ঢাকার দুই সিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় তারা। তবে দুই সিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উড়ালসড়কটির দায়িত্ব তারা বুঝে পাননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালসড়কটির একটি বাতিও জ্বলে না। চুরি হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার বিদ্যুতের তার। এ কারণে সন্ধ্যা হলেই যাতায়াতে একটা ভীতিকর অবস্থার তৈরি হয়। আলো না থাকার সুযোগে গত আগস্টে এই উড়ালসড়কে এক বাইক আরোহীকে ছুরিকাঘাত করে বাইক ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অন্যদিকে উড়ালসড়কে জমে থাকা বর্জ্য মাটির স্তূপে পরিণত হয়ে আটকে গেছে পানি নিষ্কাষণ পথ। অল্প বৃষ্টিতেই জমে হাঁটু পানি। সবশেষ গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে, তলিয়ে যায় এই উড়ালসড়কের তিনটি পয়েন্ট। প্রতিটি পয়েন্টে হাটু পর্যন্ত পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় বেশ কয়েকটি গাড়ির। আর নিচের রাস্তায় চলতে গিয়ে পথচারীদের ভিজতে হচ্ছে নোংরা আবর্জনাময় পানিতে।

মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। উদ্বোধনের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে থাকা এই উড়ালসড়কের দেখভালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। বেশিরভাগ অংশ দক্ষিণ সিটির আওতায় পড়েছে। কিছু অংশ পড়েছে উত্তর সিটিতে।

উত্তরের অংশে থাকা মালিবাগ থেকে মগবাজারের অংশে খানিকটা পরিচ্ছন্ন দেখা গেলেও দক্ষিণের অংশে অপরিচ্ছন্ন। অভিযোগ রয়েছে, চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণের অংশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাত পরেনি।

পরিচ্ছন্নতার অভাবে উড়ালসড়কের পাশে পানি নেমে যেতে যেসব ছিদ্র করা হয়েছে, সেগুলোর একটি বড় অংশই বন্ধ হয়ে গেছে বালু আর ময়লায়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু পানি জামে যায় উড়ালসড়কের তিনটি পয়েন্ট।

মালিবাগ এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, ফ্লাইওভারের ধুলোবালির কারণে বাসবাড়িতে ও দোকানে থাকায় দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরেও ফ্লাইওভারে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়নি।

মৌচাক-মগবাজার দীর্ঘ চার লেনের এই উড়ালসড়কের ওঠানামা করার ১৫ স্থানেই কম বেশি জমে থাকা ধুলোবালি চোখে পড়বে। আর ওপরের সড়কে কোথাও কোথাও ঘাস ও গাছের জন্ম হয়েছে। সেগুলো বেশ বড়ও হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে উড়ালসড়ক থেকে একে একে চুরি হয়ে গেছে কোটি টাকার বিদ্যুতের তার। ফলে বাতিও জ্বলে না। তবে এ বিষয়ে কোনও তথ্যই নেই সিটি করপোরেশন কিংবা ট্রাফিক পুলিশের কাছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ হাসান ঢাকা টাইমসের কাছে উড়ালসড়কে তার চুরির বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘তবে ছিনতাইয়ের খবরাখবর তেমন আসে না। আর খুন করে বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি গভীর রাতে হয়েছিল। আর বিদ্যুতের তারের ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব তো আমাদের নয়।’

উড়ালসড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই ফ্লাইওভারটি আমাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’

তবে গত বছর ঢাকা টাইমস থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফ্লাইওভার বুঝে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে এখন কিছু বলতে  চাই না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারে হাটু পানি জমতেই পারে না। যদি জমে থাকে সেটা টেকনিক্যাল ফল্ট।’

তবে উড়ালসড়কের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার ত্রুটির কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেসব বিষয় এখনো পুরোপুরি সুরাহা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় ফ্লাইওভার পরিষ্কার করার মতো সরঞ্জামাদিও নেই। উড়ালসড়কে বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়া হেঁটে পরিষ্কার করা ঝুঁকিপূর্ণ। আর এটা দেখভালের মতো পর্যাপ্ত লোকবল আমাদের নেই। আমরা মন্ত্রণালয়ে মেকানিক্যাল রোড সুইপার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির জন্য কাগজপত্র পাঠিয়েছি।’

উড়ালসড়কটির প্রকল্প পরিচালক ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার পাল।

ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এটা তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের দায় এড়ানো কোনো সুযোগ নেই। ফ্লাইওভারটি সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের।’

(ঢাকাটাইমস/০৬অক্টোবর/এসআর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :