চায়ের রাজধানীতে দুদিন

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪৭ | প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪৫

চারদিকে সবুজের হাতছানি। সারি সারি টিলার উপর চায়ের বাগান। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। যার আরেক নাম চায়ের রাজধানী।

গত শুক্রবার দুই দিনের আনন্দভ্রমণ ছিল সেই শ্রীমঙ্গলে। আর রাত যাপনের ব্যবস্থা ছিল অভিজাত গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টে। ভ্রমণ শেষে ঢাকায় ফিরে সবার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। আমারও অতিথি হিসেবে গিয়ে পুরো সময়টি বেশ আনন্দেই কেটেছে।

শুরু থেকেই পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়াতে কাজ করে ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। নানা উপলক্ষে উদযাপনের পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত সংগঠনটির সদস্যরা।

এর আগে নৌবিহার, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাওয়া হলেও এবার সংগঠনের পক্ষ থেকে ভ্রমণের জন্য বেছে নেয়া হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শ্রীমঙ্গলকে। শ্যামলী পরিবহনের অত্যাধুনিক বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হয় যাত্রা। হানিফ ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে গাড়ি। মাঝে স্টার কাবাবের গরম গরম খিচুরিতে সবাই সেরে নেয় সকালের নাস্তা। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই গন্তব্যের দিকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর সড়ক দিয়ে ঢুকে শ্রীমঙ্গলের দিকে ছুটে চলি আমরা। মাঝে ছাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে যাত্রাবিরতি দিয়ে আবারো গ্র্যান্ড সুলতানের অভিমুখে যাত্রা। উদ্যানের সামনেই চায়ের দেশে এসে প্রথমবারের মতো কাপে চুমুক দেন সবাই।

একটা তথ্য জেনে রাখা ভালো। শহর ঘিরে শ্রীমঙ্গলের মতো এতো চা বাগান আর কোথাও নেই। দেশে মোট ১৩৮টি চা বাগানের মধ্যে বেশিরভাগই মৌলভীবাজারে। সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের চায়ের জন্যও বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি কুড়িয়েছে মৌলভীবাজারের। শুধু তাই নয়, এখানে রয়েছে চা জাদুঘর ও চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিও এই চা।

লাঞ্চের আয়োজনটা ছিল বেশ। দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ, মুরগি আর টক ডাল দিয়ে পেটপুরে খাওয়ার আয়োজন ছিল শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে। খাবারের আগে ভ্রমণে যাওয়া সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

পরে অল্প সময়ের দূরত্বে হোটেলে পৌঁছে চেক ইন করতে ব্যস্ত সবাই। কারণ তখন বিকাল সাড়ে চারটা। অল্প সময় পরেই তো ডুবে যাবে। আর  দিনের আলোতে গ্র্যান্ড সুলতানের চমৎকার লোকেশনে ছবি তোলার লোভ সামলানো অসম্ভব।

রুম বুঝে পেয়ে সবাই নেমে পড়ে ছবি তোলা, কেউ বা সুইমিং পুলে গা ভিজিয়ে নেন। তবে বেশিরভাগ পুলে সাঁতার কেটে সময় কাটিয়েছেন সন্ধ্যার পরে।

আগেই ঘোষণা ছিল রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চমৎকার আয়োজনে গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। যাদের মধ্যে বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের দৌহিত্রও ছিলেন। এছাড়াও মনোমুগ্ধকর মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নানা পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সবাইকে পরবর্তী সময়ে নিজের এলাকায় আমন্ত্রণ জানান সাবেক এই চিফ হুইপ।

রাতে ডিনার সেরে যে যার মতো সময় কাটিয়ে ঘুমিয়ে যায়। পরদিন শনিবার সকালে বুফেতে নাস্তা সেরে চকচকে আলোতে যাওয়ার আগে ছবি তুলে নেন অনেকে।

এরপরের গন্তব্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি। নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বেলা সাড়ে ১২টায় হোটেল থেকে চেকআউট করে যাত্রা শুরু হয় লাউয়াছড়ার উদ্দেশে। উদ্যানে প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা। উদ্যানের ভেতরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে সবাই একযোগে রওনা হই অল্প দূরত্বে হিড বাংলাদেশ নামের এনজিওর গেস্ট হাউজে। যেখানে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। সেখানে শাক, সবজি, মাছ ও খাসির ঝাল মাংসের পরে টক দই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

এরপর ফিরতি যাত্রা শুরু হয় ঢাকার দিকে। পুরো পথে হৈ-হুল্লোড় করতে করতে রাত নয়টায় পৌঁছে যাই যান্ত্রিক শহর ঢাকায়। একে একে সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেলেও আনন্দ ভ্রমণের রেশ থেকে যাবে বহুদিন।

পুরো ভ্রমণে শ্রীমঙ্গলের নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম ছাড়াও কুলাউরার নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, শ্রীমঙ্গলের এসিল্যান্ড মাহমুদুর রহমান মামুন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের উপস্থিতি বেশি আনন্দময় করে তোলে।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদী, কোষাধ্যক্ষ আবুল খায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, নুরুন্নবী সোহাগ, কেফায়েত উল্যাহ মজুমদার, আরিফুল ইসলাম রাসেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের সদস্যরা আনন্দ ভ্রমণে অংশ নেন।

আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নও জরুরি। যে কারণে আমরা চেষ্টা করছি সুযোগ পেলে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করতে। এটা চলমান থাকবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :