আর্থারাইটিস রোগীদের নতুন ওষুধ ‘রিসেলবিয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩০ | প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:০৫

বাত ব্যথা ও আর্থারাইটিস রোগীদের জন্য বাজারে নতুন ওষুধ নিয়ে এলো হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল। তুলনামূলক কম দামে ওষুধটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সামনে আরও দাম কমার সম্ভাবনা আছে।

মঙ্গলবার রাতে ধানমন্ডিতে মডার্ন অনস্টপ আর্থারাইটিস কেয়ার এন্ড রিচার্স সেন্টারের চিকিৎসকদের বাত রোগ ব্যবস্থা ও ওষুধ বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে ওষুধটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বাতের রোগীদের জন্য নতুন এই ওষুধটিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এই শুভক্ষণে সবাইকে নিয়ে কেক কাটা হয়।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, বাত রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে- ম্যাথোটিরিক্স, সালফা স্যালাজিন, ন্যাফ্রোনাম্যাট আছে। এগুলো অতি প্রচীন এবং প্রাথমিক ধাপের ওষুধ। অনেক রোগীরা এই ধরনের ওষুধ দিয়ে যথাসময়ে চিকিৎসা করলে বেশ ভালো থাকেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলো কার্যকারিতা হারায়। ওষুধগুলো কাজ করে না। সেসব রোগীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপের ওষুধ অনেকদিন পরে হলেও বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই ওষুধগুলোর মধ্যে একটি গ্রুপ হলো- টিএনএফ ব্লকার। সেগুলো যেমন-এটানাসেফট, এডালিমুবাপ এই ওষুধগুলো পাওয়া যায়। ওষুধগুলো ভালো হলেও বাংলাদেশে টিবি রোগের প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণে রোগী এবং চিকিৎসক সবাইকে সতর্ক থাকতে হয় ওষুধটি ব্যবহারকালীন সময়ে।

অনেক রোগী দ্বিতীয় ধাপের ওষুধ প্রয়োগ করেও লাভবান হয় না জানিয়ে অধ্যাপক নজরুল বলেন, এমন ওষুধ যখন কাজ করে না তখন অন্য গ্রুপের ওষুধ সিডি টুয়েন্টি ব্লকার (মনোক্লনার এন্টিবডি)ব্যবহার করতে হয়।

এই ওষুধ প্রথম বাংলাদেশে বাজারজাত করছে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল। এর মূল প্রোডাক্টটি বাজারজাত করে আসছে রুশ বাংলাদেশ লিমিটেড। ওষুধটির ‍গুনাগুণ ভালো হলেও এটি অনেক ব্যয়বহুল। এই অবস্থায় হেলথ কেয়ার বর্তমান যুগের বায়েসেমিলার রিটুকসিন্যাপ বাংলাদেশে বাজারজাত করার অনুমতি পেয়েছে। যার বাজার নাম রিসেলবিয়া।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, এই ওষুধটির দাম তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও হয়তো সামনে দাম আরও কমার সম্ভাবনা আছে।

রিসেলবিয়া বাত বা গিরা ব্যথার রোগীদের জন্য আশার আলোক বার্তা হয়ে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, রোগী এবং চিকিৎসকদের জন্য পরামর্শ উপযুক্ততা নির্ণয় এবং সব রকমের সাবধানতা অবলম্বন করে ওষুধটি ব্যবহার করবেন। কেননা অযাচিত এবং উপযুক্ততা বিবেচনায় না আনলে অনেক ভালো ওষুধেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাইকার ন্যাশনাল কনসালটেন্ট মো. সফি-উল-আলম, যুগ্ম সচিব আনোয়ারা বেগম, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীরা ফেরদাউস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের প্রোডাক্ট ম্যানেজার রওশন শামা এবং সহকারী বিক্রয় ব্যবস্থাপক সামিউল হক প্রমুখ। এছাড়াও সেন্টারের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০৯অক্টোবর/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :