ডিএনসিসি ৩৩ নং ওয়ার্ড

বিপুল বাসিন্দার ভোগান্তি কাটছেই না

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৪ | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৫

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড, চাঁনমিয়া হাউজিং, কাদেরাবাদ হাউজিং, বসিলা, চাঁদউদ্যান, নবীনগর, সাতমসজিদ হাউজিং নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটি মোহাম্মদপুর থানার অধিভুক্ত। আয়তনের দিক থেকে করপোরেশনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়ার্ড এটি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর ভোগান্তির মূলে রয়েছে জলাবদ্ধতা আর ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা। সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নয়ন হয়েছে। ওয়ার্ডের একটি বর্ধিত এলাকা নবীনগর হাউজিং। যার ১ হাজার ২০০ বাড়িতে আছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন কাজী রফিক।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি এলাকা নবীনগর হাউজিং। বুড়িগঙ্গা-তুরাগ ভরাট করে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গড়ে ওঠে এই এলাকাটি। মোহাম্মদীয়া হাউজিং নামের একটি হাউজিং প্রতিষ্ঠান এটি গড়ে তোলে। ১৯৯০ সালে এলাকাটির গোড়াপত্তন হলেও এখানে নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে।

এই এলাকার প্রায় ১ হাজার ২০০ বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ত্রিশ হাজারের বেশি। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য বৈদ্যুতিক সুবিধা ছাড়া আর কিছু দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ডের এই বর্ধিত এলাকায় রয়েছে গ্যাস সংযোগ। কিন্তু সেটা অবৈধ। গ্যাস বিপণন সংস্থা তিতাসের সেবাভুক্ত এলাকার বাইরে হলেও গত কয়েক বছর ধরেই এখানকার প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে গ্যাসের সংযোগ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাউজিং মালিক সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে এই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আর সংযোগ দিতে গিয়ে বাড়িপ্রতি নেওয়া হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিতাসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাসের বিল হবে চুলাপ্রতি। কিন্তু অবৈধ সংযোগ হওয়ার সুবাদে এখানে গ্যাসের বিল নেওয়া হচ্ছে বাড়িপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। যার এক কানাকড়িও পৌঁছাচ্ছে না সরকারের কোষাগারে।

এলাকার প্রতিটি বাসায় গড়ে পাঁচটি করে ডাবল বার্নারের চুলা জ্বলতে দেখা গেছে। দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৭৫ টাকা হিসেবে বিল ধরলে এই এলাকা থেকে প্রতি মাসে তিতাস হারাচ্ছে ৬০ লাখ টাকার বেশি। আর গত পাঁচ বছর গ্যাস খরচ করেও সংস্থাটি বিল পায়নি ৩ কোটি টাকার বেশি।

এ বিষয়ে অবগত আছেন জনপ্রতিনিধি। অবৈধভাবে চলা এসব সংযোগ বৈধ করতে পারলে সরকার এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে না বলে জানিয়েছিলেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব।

শনিবার দিবাগত রাতে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিকে তাকে আটক করে র‌্যাব। তার নামে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ১৪ দিনের রিমাণ্ডে রয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর কাউন্সিলর রাজীবের সাথে কথা এই প্রতিবেদকের।

সে সময় রাজীব বলেছিলেন, ‘বর্ধিত এলাকার যেখানে আমাদের অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে, সেখানে তিতাস কর্তৃপক্ষ কয়েকবার অভিযান করেছে। তারপরও তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারাও নানা কৌশলে গোপনে সেই লাইনগুলোকে পুনঃস্থাপিত করে। আমরা মনে করি, যে লাইনগুলো অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সেটা যদি আমরা বৈধ করতে পারি তাহলে নাগরিকরা সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব পাবে।’

ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে এমন অনেক সমস্যা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মূল সমস্যা ছিল দুটি। জলাবদ্ধতা এবং সড়কের বেহাল দশা।

আবার উন্নয়নের প্রশ্নে জনগণের মুখে উঠে এসেছে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ, সড়ক বাতি নিশ্চিত, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউটার্ন নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ময়লার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টার (এসটিএস) নির্মাণ, নিয়মিত মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও সৌন্দর্য বর্ধন।

পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন হলেও জলাবদ্ধতা পড়ে রয়েছে সেই আগের জায়গায়। একটানা আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হলে পয়ঃনিষ্কাশন খালের পানি চলে আসে চলাচলের সড়কে। আর বৃষ্টি থামার পরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় পানি নামার জন্য। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই স্থানীয়দের।

চাঁনমিয়া হাউজিং এলাকার বাসিন্দা মিলন মাহমুদ বলেন, ‘উন্নয়ন তো হয়েছে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু এলাকা অনুযায়ী আমরা আরও অনেক কিছু আশা করি। রোড লাইট আগে একটা জ্বললে তিনটা জ্বলত না। এখন সব জ্বলে। কিন্তু ছিনতাইয়ের ভয়টা পুরোদমে কমেনি। এদিকে আরও একটু দৃষ্টি দিতে হবে।’

রামচন্দ্রপুর খাল বয়ে গেছে ওয়ার্ডের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড, চাঁনমিয়া হাউজিং, কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকা দিয়ে। খাল পারের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি হলেও জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে এসব এলাকার বাসিন্দাদের। সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি দীর্ঘ সময় পরও।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, ‘যতবার বৃষ্টি নামে ততবার রাস্তায় পানি ওঠে। খালি উন্নয়নের কথা শুনি। এত কিছু হয়, এই সমস্যার সমাধান হয় না কেন?’

কাজলের কথার সূত্র ধরে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘এরা খাল পরিষ্কার করে। কিন্তু ঠিকভাবে খনন করে না। খাল যখন বানানো হয়, তখন এই এলাকায় ঘরবাড়ি কম ছিল। এখন চারপাশে স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় সব পানি এই খাল দিয়ে নামে। কিন্তু তত দিনে আর খনন করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টির পানি ধারণ করতে পারে না এটি।’

আবার খালের অনেক জায়গাই দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের চিত্রও পাওয়া গেছে ওয়ার্ডের মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড এলাকায়। খাল পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্টরা কঠোর না হলে ধীরে ধীরে আরও দখল হওয়ার সুযোগ দেখছেন স্থানীয়দের অনেকেই।

হাবিবুর রহমান নামে এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘এই খাল এমন ছিল না। অনেক চওড়া ছিল। দিন দিন খাল চিকন হচ্ছে। খালপারের বাড়িগুলো বেশিরভাগই খালের জায়গা দখল করছে। এটা নজরে আনতে হবে।’

কাগজে-কলমে রামচন্দ্রপুর খালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। জলাবদ্ধতার বর্ণনা দিয়ে ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে রাখা সিটি করপোরেশনের ময়লা খালে পড়লে তা ওয়াসার হয়ে যায়। সিটি করপোরেশনকে এটা নিশ্চিত করতে বলেন যে, খালে ময়লা কেন ফেলা হয়।’

কিছুদিন আগে ওয়াসা খাল পরিষ্কার করেছে দাবি করে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ময়লা ফেলবে আর ওয়াসা টাকা খরচ করে পরিষ্কার করবে, এটা কেমন কথা?’

এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজীব বলেছিলেন, ‘আমাদের জলাবদ্ধতার মূল যে জায়গাটি সেটি হচ্ছে খাল। পয়ঃনিষ্কাশনের খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এবং কিছু খালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসক। কাউকে দোষারোপ করে বা কারো ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে সমস্যা থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের সেবা সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সম্প্রতি আমরা এই খালের বিষয়ে আন্তঃবিভাগীয় একটি মিটিং করেছি। সেই মিটিংয়ে আমাদের সব দপ্তরকে নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে খালের গভীরতা বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করতে হবে। এই সমস্যাগুলোর মূল জায়গা থেকে আমাদের কাজ করতে হবে।’

গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময়ে ওয়ার্ডে যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে তার বেশির ভাগজুড়েই রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার। ওয়ার্ডের শিয়া মসজিদ থেকে নবোদয় হাউজিং, মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা জীবন হোসেন বলেন, ‘রাস্তাঘাটের অবস্থা আগে যেমন ছিল, তার চেয়ে কয়েকশ গুণ ভালো হয়েছে। রিকশা ভাড়া কমে এটা কেউ কোনো দিন শুনছে? এই এলাকায় কমছে। কারণ আগে ভাঙা রাস্তা দিয়ে যেতে ভাড়া বেশি লাগত। রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা ছিল। এখন সেই রাস্তা কত সুন্দর। কাজ হয়েছে এলাকায়।’

শিয়া মসজিদ বাজারের দোকানি শামিম হোসেন বলেন, ‘দুই ওয়ার্ডের মাঝখানে হওয়ার কারণে বাজারের রাস্তাটির কাজ হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ভুগছি। এবার কাজ হয়েছে। এখন আমরা যেমন সুবিধা পাই, দূরের কাস্টমাররাও বাজারে আসতে পারে। আগে দূরের কাস্টমাররা বাজারে আসত না।’

সড়কের উন্নয়ন হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে সড়ক দখলের বিষয়ে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কটি বসিলা নতুন রাস্তা নামে পরিচিত। দুই লেনের সড়কটি দেড়শ ফুট করে তিনশ ফুট প্রস্থের হলেও বিকাল থেকেই সড়কের একশ ফুটের বেশিই থাকে হকারদের দখলে।

বেড়িবাঁধ হোসেন মার্কেট এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে ভালো কথা। এরা তো পুরো রাস্তাই দখল করে রাখছে। এই রাস্তা দিয়ে যেহেতু চলতে পারব না, তাহলে রাস্তা করার দরকার কি ছিল?’

হকার সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব। তিনি বলেছিলেন, ‘হকারের যে সমস্যা রয়েছে, সেটি পুরো ঢাকা শহর, পুরো দেশব্যাপী রয়েছে। অনেক সময় মানবিক কারণে তাদের সরিয়ে দেওয়া যায় না, আবার আমরা যখন তাদের উঠিয়ে দেই, তখন তারা মহল্লায় গিয়ে বসে। সমস্যা সমাধানে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিনের জন্য হলি ডে মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

৫.৫৯২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বিশাল এই ওয়ার্ডটি ডিএনসিসির দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়ার্ড। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ওয়ার্ডের আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। আর এখানে হোল্ডিং সংখ্যা  প্রায় সাড়ে চার হাজার। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য যে সব নাগরিক সুবিধা থাকার কথা তার অনেক কিছুই এখানে নেই।

ওয়ার্ডে ৩০টির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই একটিও। নেই কোনো সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক। প্রায় ৮০টির বেশি মসজিদ, একটি চার্চ থাকলেও নেই কোনো মন্দির। দেশের সবচেয়ে বৃহৎ আকারের গোরস্তান রায়েরবাজার কবরস্থানটি পড়েছে এই ওয়ার্ডেই। সাত লাখ মানুষের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এক টোল বাজার ছাড়া আর কোনো স্থায়ী বাজার নেই। নেই খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক। সম্প্রতি বসিলা নতুন রাস্তায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি পাবলিক টয়লেট, যা এই ওয়ার্ডে একমাত্র পাবলিক টয়লেট।

কাউন্সিলর জানিয়েছিলেন, গত সাড়ে চার বছরে শত কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেলেও তা দিয়ে ওয়ার্ডের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ‘সড়কের উন্নয়ন কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি’ উল্লেখ করে ওয়ার্ডে যা কিছু ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করতে পাঁচ বছর সময় যথেষ্ট নয় বলে তিনি জানান।

ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। হাউজিং কোম্পানি নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে হাউজিংয়ের মালিকানা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে নানা ছলচাতুরি করছে বলে কাউন্সিলর জানিয়েছিলেন

তারেকুজ্জামান রাজীব বলেছিলেন, ‘কিছু কিছু হাউজিং কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করতে চায় না। কারণ যখন সিটি করপোরেশনকে এটা বুঝিয়ে দিবে, তখন এর ওপর তাদের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। যারা হাউজিংগুলোকে অনুমোদন দিচ্ছে তাদেরও এসব বিষয় খেয়াল রেখে অনুমোদন দিতে হবে। অন্যদিকে হাউজিং জায়গায় আমরা কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারছি না। কারণ এখানে আইনগত বাধা আছে।’

কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও অন্যান্য ঘাটতি পূরণের আশ্বাস দিয়ে রাজীব বলেছিলেন, ‘এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পারিবারিক যে অনুষ্ঠানগুলো আছে, তার জন্য আমরা একটি কমিউনিটি সেটার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। এরই মধ্যে আমরা একটি জায়গা উচ্ছেদ করে খালি করে রেখেছি, সেটি এখন খালি অবস্থায় আছে। এটি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। এখন বরাদ্দ এবং আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় রয়েছি।’

এই জনপ্রতিনিধি বলেছিলেন, ‘এই এলাকার জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল চাপ রয়েছে। আমাদের যতটুকু ক্ষমতা, সেখানে আমাদের যে কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে কাউন্সিলরদের ক্ষমতা কিছুটা বৃদ্ধি করা যায় কি না, আমরা সেটির জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যারা রয়েছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ  করছি।’

ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/কারই/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :