খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামবিভ্রাট চলছে

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৭

নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া পেঁয়াজের দাম এখনো স্থিতিশীল হয়নি। উল্টো বিভ্রম সুষ্টি হচ্ছে ক্রেতাদের মধ্যে। রাজধানীসহ দেশের একেক স্থানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে এই নিত্যপণ্যটি। কোথাও প্রতি কেজি ২০০ টাকার বেশি, কোথাও বা ১৫০ টাকা।

বাজারে সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত তুলে অসাধু চক্র পেঁয়াজবাজার এমনই অস্থির করে যে সর্বকালের রোকর্ড ভেঙে কেজিপ্রতি দাম উঠে যায় ৩০০ টাকার কাছাকাছি। দেশে এর আগে ২০১৭ সালে কয়েক দিনের জন্য পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৫০ টাকা।

অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগের হিসাবমতে, গত প্রায় আড়াই  মাসে ভারত, মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ১১টি দেশ থেকে কয়েক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হেয়েছে।

এদিকে জরুরি ভিত্তিতে বিমানে করে পেঁয়াজ আসছে। কমবেশি নতুন পেঁয়াজও উঠছে বাজারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে। তবু দাম স্বাভাবিক হচ্ছে না নিত্যপণ্যটির। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মনে করেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজবাজার স্থিতিশীল হবে।

বিভিন্ন বাজারের তথ্য থেকে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে কোথাও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। ঢাকার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। বৃহস্পতিবার শ্যামবাজার পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৩৫ টাকা। পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৭০ টাকা,  দেশি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকা, তুরস্ক ও চিনের পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, মিশরের পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

শ্যামবাজারের আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা আবদুল মাজেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শুক্রবার আমাদের বাজার বন্ধ থাকে। তবে বৃহস্পতিবার মিসরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।’

আবদুল মাজেদ আরও বলেন, ‘আমদানি পেঁয়াজ আসছে। দেশি পেঁয়াজও বাজারে উঠছে। আগামী কয়েক দিনে আরও কমবে পেঁয়াজের দাম।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকালে রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি।

মিরপুর পাইকপাড়ার জনকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা পেঁয়াজ ১৩০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘একেক দিন একেক দরে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ। এতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়।’

খুচরা ব্যবসায়ীদের মতে, তারা মূল্য বাড়াননি। পাইকারি বাজার থেকে যেদিন যে দামে কিনে আনেন, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ যুক্ত করে কিছুটা মুনাফা ধরে তারা বিক্রি করেন। মূল্য যা বাড়ানোর তা আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাড়ান।

এতে খুচরা পর্যায়ে একেক দিন একেক দাম কিংবা একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আর তাতে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে ক্রেতাদের মধ্যে।  

এদিকে দামের এই রকমভেদের কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলে জানান। দামের অস্থিরতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও প্রশাসনের চাপ সামলাতে হয় তাদের। তাই ভয়ে অনেকে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। একজন দোকানি বলেন, ‘খুচরায় সামান্য লাভ করতে গিয়ে হাজার হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়।’

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনশি বলেন, গত তিন দিন ধরে ১৫০ থেকে ২০০ টন পেঁয়াজ ঢাকা এয়ারপোর্টে নেমেছে। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু ষড়যন্ত্রকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীর জন্যই আজ পেঁয়াজের দাম বেশি।

(ঢাকাটাইমস/২২নভেম্বর/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :