নতুন ধাক্কা খেল বাংলাদেশের ফুটবল

মামুন জোয়ারদার
| আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৪১ | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩০

দীর্ঘ দিন ধরে কানাডায় আছি। এখানে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। তারপরেও বাংলাদেশ ফুটবলের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করি। আমি ফুটবলের মানুষ। খেলাটা আমার রক্তে মিশে আছে এখনও। তাই ভীসন ব্যস্ত জীবনেও ফুটবলের বাইরে থাকতে পারি না। সবসময় মন ছুটে যায়  লাল সবুজের পতাকার দিকে। কিন্তু এ কোন ফুটবল দেখছি আমি? সাফ গেমস ফুটবলে ভারত নেই। বাংলাদেশ সেখানে চ্যাম্পিয়নশিপের এক নম্বর দাবিদার। অথচ সেই বাংলাদেশের বিদায় ঘন্টা প্রায় বেজে জাওয়া জোগাড় হয়েছে! এক সময় যে ভুটান মালদ্বীপকে আমরা হালি হালি গোল দিয়েছি সেই ভুটান, মালদ্বীপের কাছে কিনা এখন পেরে উঠতে পারছি না। এ দুটি ম্যাচের ফল  আমাকে ভীসন মর্মাহত করেছে। আমার মন ভেঙ্গে গেছে।

ভুটানের কাছে হেরে যাওয়ার কোনা অজুহাত হতে পারে না।  দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পেছনে বাজে  রেফারিং অবশ্য কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো যায়। রেফারিং ভালো হলে মালদ্বীপের বিপক্ষে অবশ্য জয় নিয়েই মাঠ ঝাড়তে পারত বাংলাদেশ।

 দীর্ঘদিন ধরে খুবই বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো দেশের ফুটবল। তবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে ভারতকে রুখে দেওয়াটা ছিল খুবই আশাব্যঞ্জক। বহু বছর পর দুর্দান্ত একটা ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ভারত ম্যাচের পর দরকার ছিল ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সেটা হলে বাংলাদেশ ফুটবল অনেকটাই বেঁচে যেত। ফুটবল নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা যেত। আসলে ভারত ম্যাচের পর অনেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। আমিও সেই দলের বাইরে ছিলাম না।

কিন্তু ভুটান ও মালদ্বীপের সঙ্গে পরপর দুই ম্যাচের ফল সেই স্বপ্ন বির্বণ করে দিয়েছে। ভারত ম্যাচের পারফরম্যান্সের ছিটেফোটাও চোখে পড়লো না এ দুই ম্যাচে। বুঝলাম না হঠাৎ কি হলো যে পারফরম্যান্সের গ্রাফ হুট করে এত নিচে নেমে গেল।  ভারত ম্যাচে ফুটবলাররা বেশ উজ্জিবীত ছিলেন। প্রাণবন্ত ছিলেন।  একাট্রা  হয়ে খেলেছিলেন। কিন্তু গত দুই ম্যাচে তার ছিটেঠেফাটও দেখিনি।  প্রশ্ন জাগছে, তারা কি আসলে দেশের কথা চিন্তা করে খেলেছেন? আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। আমি ফুটবলারদের মধ্যে কমিটমেন্ট ও দেশপ্রেম দুটোরই ঘাটতি দেখেছি।

আমাদের সময় আমরা জানপ্রাণ দিয়ে দেশের জন্য ক্লাবের জন্য ফুটবল খেলেছি। আমাদের মধ্যে কমিটমেন্ট ছিল। কেন যেন এ সময়ের ফুটবলারদের সেই জিনিসগুলো অনুপস্থিত। এখনকার খেলোয়াড়রা দেশের সম্মানের চেয়ে মনে হয় টাকাটা বেশি গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন।  ক্লাবে খেলে বছরে ৬০/৭০ লক্ষ টাকা পাচ্ছেন একজন খেলোয়াড়। টাকা ইনকামকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলছেন।  আমার কাছে অন্তত তাই মনে হচ্ছে।

ভুটান ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাজে ফুটবল বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য নতুন এক খাক্কা। এই খাক্কা সামলে ওঠা আসলেই কঠিন। সাফ গেমস ফটবলে বাংলাদেশের বিদায় ঘন্টা অনেকটাই বেজে গেছে। খাদের কিনারা থেকে ওঠে এসে  এরপর বাংলাদেশ যদি চ্যাম্পিয়নও হয় তবুও গত দুই ম্যাচের ক্ষত শুকাবে না। আর যদি প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় হয়ে যায় তবে তো কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে কাজী সালাউদ্দিনকে। কারণ সামনে নির্বাচন।

মামুন জোয়ারদার: সাবেক তারকা ফুটবলার, বর্তমান কানাডার নাগরিক

ঢাকা টাইমস/০৪ডিসেম্বর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :