টাইফয়েডে গেছে চোখ, তবুও ভোটে আগ্রহ মাফিকুলের

তানিয়া আক্তার, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:০৩ | প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:০১

বিগত নির্বাচনগুলোতে নিজে দেখেশুনে যাচাইবাছাই করে ভোট দিলেও ঢাকা সিটির ভোটে এবার সে সুযোগ নেই মাফিকুল শেখের। ঢাইফয়েড জ্বরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। এরপরও ভোট প্রদানে আগ্রহের কমতি নেই এক সন্তানের জনক মাফিকুলের।

শনিবার অন্যের সহযোগিতা নিয়ে ভোট দিতে বের হন মাফিকুল। ঢাকা উত্তর সিটির মিরপুরের ভাষানটেক এলাকার ভোটার তিনি। কিন্তু কোন কেন্দ্রে তার ভোট জানেন না এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এক কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার তালিকায় তার নাম থাকায় যান অন্য একটি কেন্দ্রে।

এসময় ঢাকা টাইমসকে মাফিকুল জানান, কাকে ভোট দেবেন তা নিজের পছন্দের হলেও অন্যের চোখের ওপর ভরসা করতে হবে তাকে। কারণ নিজে দেখতে পান না বলে প্রতিবেশী একজনের সহযোগিতায় তিনি ভোট দিতে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জন্ম প্রতিবন্ধী নই। টাইফয়েড জ্বরে চোখ হারাইছি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে নিজের চোখে দেইখে ভোট দিতে পেরেছি। এবারের অবস্থাটা ভিন্ন। অন্যের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ঘুইরা বেড়াইতাছি।’

‘ভাষানটেক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় গেছিলাম। ওইহানে আমার ভোট না থাকার কথা বলেছেন কর্মকর্তারা। এহন অন্য কেন্দ্রে যাই। জানি না নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারমু কিনা।’

ইভিএমে ভোট প্রদানের বিষয়ে ধারণা আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে মাফিকুল বলেন, ‘আগেতো কাগজ ভাইঙ্গা বাক্সের ভিতরে দিতাম। এহন তো চোখেই দেখিনা আবার সিস্টেম নাকি কম্পিউটারে। ওইহানে আমার যারে পছন্দ কম্পিউটারে তার নাম্বার আছে। হুনছি চাপ দিলে লাল নীল বাত্তি জ্বলবো। এরপর ভোট হইয়া যাইবো। কিন্তু আমিতো আর মার্কা দেখতে পাইমুনা। ভাই বন্ধুরা আছে তারা যা বলে তাই বিশ্বাস করতে অইবো।'

ভোটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সুযোগ রাখা দরকার ছিল উল্লেখ করে ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘স্কুলে যেমন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা আঙুলে বুঝে বুঝে পড়তে পারে তেমনি ভোট দেয়ার সুযোগ থাকলে নিজের ভোট নিজেই দিতে পারতাম।’

মাফিকুল জানান, গান আর গজল গেয়ে চলে তার জীবন। পশ্চিম ভাষানটেকের শ্যামল পল্লীতে বাস করেন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক ছেলে সন্তান রয়েছে তার। একমাত্র উপার্জনক্ষম মফিজুল শেখ গান গেয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ যোগান। চোখের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/০১ফেব্রুয়ারি/টিএটি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :