ক‌রোনা প্রতি‌রো‌ধে নয়া অস্ত্র হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৩৪ | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৪:১১

করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে নতুন অস্ত্র হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। এক রোগের ওষুধ অন্য রোগের চিকিৎসায় কাজ দিচ্ছে, চিকিৎসাশাস্ত্রে এমন উদাহরণ অনেক আছে। তেমনই একটি ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। এই ওষুধটি ব্যবহার হয় ম্যালেরিয়ায়। কিন্তু, এই মুহূর্তে গোটা দুনিয়া যে ভাইরাসে ত্রস্ত সেই করোনার চিকিৎসায় ভালো কাজ দিচ্ছে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশের গবেষণা ফল, সে কথাই বলছে। ভারতও এই ওষুধ ব্যবহারে ছাড়পত্র দিল। তবে তা একমাত্র ডাক্তারের পরামর্শেই নেওয়া যাবে।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ ব্যবহারে ছাড়পত্র দিল ভারতের কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ। যাতে আশার আলো দেখছে চিকিৎসকমহল। আইএমআর জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্তের সংস্পর্শে এলেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া যাবে ৷ সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংস্পর্শে এলেও দেওয়া যাবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন৷ করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসার পরেও যদি উপসর্গ না থাকে, সেক্ষেত্রেও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যেতে পারে ৷ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও এই ওষুধ ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে আইএমআর৷

চিকিৎসকদের মতে, এটা একটা আশার আলো। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যবহার করতে পারেন। মাইল্ডভাবে যারা আক্রান্ত তাদের দেওয়া যেতে পারে ৷ আমেরিকা চারটি ওষুধের কথা বলেছে। যেটা যেখানে পাওয়া যায়। তার মধ্যে এ দেশে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন---সিভিয়রভাবে যারা আক্রান্ত তাদের দেওয়া যেতে পারে ৷ তবে ১৫ বছরের কম বয়সিদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিতে নিষেধ করেছে আইএমআর ৷

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া জ্বরে ব্যবহৃত হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ওষুধের সঙ্গে এজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওষুধ প্রশাসন। এই ওষুধ সাত দিন সেবনে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়েছে বলে প্রমাণও মিলেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া জ্বরে ব্যবহৃত হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন কার্যকর বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে বিশেষজ্ঞরা।

করোনা নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও প্রি-মেডিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স। সংক্রমণের অতি-ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে কতটা মাত্রায় অ্যান্টি-ম্যালেরিয়ার এই ওষুধ দেওয়া হবে, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও, সতর্ক করে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এই ওষুধ কেউ নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে আবিষ্কৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মূলত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঔষধি হিসেবে খ্যাত। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের মতে, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মূলত পেশি ও গাঁটের ব্যথা, চামড়ায় ফুসকুড়ি, হৃদয় ও ফুসফুস জনিত সমস্যা ও প্রবল জ্বরে নিরাময়ী হিসেবে কাজে লাগে। হাইড্রক্সিক্লোরোক্যুইন 'প্ল্যাক্যুইনিল' জেনেরিক নামে বাজারে পাওয়া যায়।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে এই থেরাপি চলার সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হবে। রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে ছাড়া এই ওষুধ কেনা যাবে না। এই ওষুধ সেবনের পর কোভিড-১৯ ছাড়া অন্য কোনও লক্ষণ দেখা দিলে, তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন একটি জীবনদায়ী ঔষধি হলেও বিনা উপদেশে উক্ত ড্রাগ ব্যবহারে হার্ট-ব্লক বা হৃদস্পন্দনে গোলযোগের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও ঘুম-ঘুম ভাব, হাঁচি, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে যা সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই আইসিএমআরের গবেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাক্তারের উপদেশ ব্যতীত নিজ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিরাপদ নয়।

(ঢাকাটাইমস/৭এপ্রিল/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :