স্বাস্থ্য-পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতে বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ মে ২০২০, ১৬:০৭

স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১৩ হাজার ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা এডিপির মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। খাত হিসেবে এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের হিসেবে এটা আছে সপ্তম স্থানে। পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চূড়ান্ত করছে পরিকল্পনা কমিশন।

নতুন এডিপি’র আকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ করা হবে। চলতি ২০১৯০-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে নতুন এডিপিতে। ফলে নতুন এডিপিতে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সচিবরা এনইসি সম্মেলন কেন্দ্র থেকে এই বৈঠকে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্রিফ করে এসব তথ্য জানান। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) বৈঠক হয় ‘ভার্চুয়ালি’।

সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে এই বৈঠকে অংশ নেন। অন্যদিকে শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বৈঠকে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী ড.মো.আব্দুর রাজ্জাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান প্রমুখ।

খাত হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে এখানে ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতের জন্য। যা মোট বরাদ্দের ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতের জন্য ২৪ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা যা মোট বরাদ্দের ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রায় ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাতের জন্য যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৮ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৭ রাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিজ্ঞান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের জন্য। এটি মোট বরাদ্দের প্রায় ৯ শতাংশ। ষষ্ঠ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৫৮ ভাগ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতের জন্য।সপ্তম সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের জন্য যা এডিপির মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অষ্টম সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে কৃষি খাতের জন্য যা মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। নবম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকছে প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য যা মোট বরাদ্দের প্রায় ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দশম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জন প্রশাসন খাতের জন্য যা এডিপির ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ: মন্ত্রণালয় বিভাগ ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয় হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য। যেখানে স্বাস্থসেবা বিভাগ রয়েছে ছয় নম্বরে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য ৩১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ২৪ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা; বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৭ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা; রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা; সেতু বিভাগের জন্য সাত হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।

(ঢাকাটাইমস/১৯মে/জেআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর