হালুয়াঘাটে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার তালিকায় ব্যাপক দুর্নীতি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ মে ২০২০, ২২:৪৭

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নগদ অর্থ সহায়তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারিছ উদ্দিন সুমনের একাধিক নিকট আত্মীয়ের মোবাইল ফোন নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তালিকায় রয়েছে সহদোর ভাই, মামাতো ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীর নাম ও একাধিক মোবাইল ফোন নম্বর।

কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। তবে ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নের করা তালিকায় অসংগতির কারণে একাধিকবার সংশোধন করা হলেও তা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি। এতে ইউনিয়নটির উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত থাকছেন ঈদের আগে।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অর্থ সহায়তার আওতায় ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নে ৪৬০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন। এতে চেয়ারম্যানের মামাতো ভাই আব্দুর রহিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরসহ দুটি নম্বর ৫৪ বার ওঠানো হয়। এছাড়াও তালিকায় আরো বেশ কয়েকটি নম্বর একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা, উপকারকারীর নাম ঠিকানা থাকলেও নম্বর দেয়া হয়েছে অন্য কারো, এমন অনিয়ম রয়েছে বিস্তর।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুললে গত ১৬ মে তা সংশোধন করে উপজেলা প্রশাসন পূনরায় নতুন তালিকা প্রকাশ করে। সংশোধিত এই তালিকায়ও একই রকম অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়, যা নিয়ে জেলাব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সংশোধিত তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই শফিক উদ্দিন রিপনের তিনটি নম্বর ১২ বার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামাতো ভাই আব্দুর রহিমের নম্বর তিনবার, তার স্ত্রী হালিমা খাতুনের নম্বর রয়েছে একবার। তবে একাধিকবার ব্যবহৃত প্রতিটি নম্বরের প্রেক্ষিতে উপকারভোগীর নাম ও ঠিকানা স্থানীয় জনগণ হলেও তারা এই বিষয়ে জানেন না।

১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফারুক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশিত তালিকার ১২৩ নম্বর ক্রমিকে তার নাম ও বাবার নাম ঠিক থাকলেও মোবাইল নম্বর দেয়া আছে অন্যকারো। তার নাম তালিকায় আছে তিনি সেটিও জানতেন না। সম্প্রতি তিনি বিষয়টি জেনে হতবাক।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, প্রাধনমন্ত্রী ঘোষিত মানবিক অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের তালিকাটি অতি অল্প সময়ে প্রণয়ন করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু ভুল ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা পূনরায় সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নের সংশোধিত তালিকায় চেয়ারম্যানের পরিবারের কারো নাম বা নম্বর আছে কি না সেটি তার জানা নেই। যদি থাকেও তারা পাবে না। এক্ষেত্রে পূর্বের তালিকা অসংগতি থাকায় ট্যাগ অফিসার ও ইউপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

ইউএনও বলেন, সরকার ঈদের আগে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ভূল ত্রুটির জন্য যথাসময়ে তালিকা পাঠাতে না পারলে এটি ঈদের পরে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তালিকা সম্পূর্ণ সঠিক থাকেল উপকারভোগীরা ভাতা পাবে নচেত পাবে না।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারিছ উদ্দিন সুমন বলেন, তালিকাটি অতি দ্রুত প্রণয়ন করায় কিছু ভল ত্রুটি হয়েছে যা সংশোধন করা হয়েছে। আমার পরিবারের কারো নাম বা মোবাইল নাম্বর তালিকায় থাকলে তা আমার জানা নেই। একটি পক্ষ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চক্রান্ত করছে।

এদিকে প্রকাশিত তালিকায় বিস্তর অনিয়ম ও অপকৌশলে উপকারভোগীদের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করায় ইউনিয়ন যুবলীগ তথা যুব সমাজ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, র‌্যাব-১৪ বরাবর অভিযোগ দিয়েছে ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়ন যুবলীগ আহ্বায়ক প্রভাষক জসিম উদ্দিন তালুকদার। তিনি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২২মে/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :