মেসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাড়িওয়ালার এ কেমন আচরণ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২৩:৪২ | প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২০, ২৩:০২

করোনাকালের দুঃসময়ে মানবিক হওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন মেসে থেকে শিক্ষারত ছাত্রদের সঙ্গে কিছু কিছু বাড়িওয়ালা অমানবিক আচরণ করছেন। এদের কেউ কেউ ভাড়া আদায়ে অনড় আবার কেউ কেউ ছাত্রদের মালপত্র ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভাড়া না পেয়ে সম্প্রতি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার সার্টিফিকেটগুলো বাড়িওয়ালা ফেলে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে আইনের আশ্রয়ও নিতে হয়েছে ধানমন্ডির একটি মেসে থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগের বেশিরভাগই উঠেছে ঢাকার কিছু বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই চলে যান গ্রামের বাড়ি। ভাড়া বকেয়া পড়ায় মেস মালিকদের কেউ কেউ এমন অমানবিক আচরণ করছেন।

সম্প্রতি বাড়ি থেকে ধানমন্ডির মেসে ফিরে কয়েকজন ছাত্র দেখতে পান তাদের কক্ষের মাল পত্র বাইরে ফেলে দিয়েছেন মালিক। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সনদও ছিঁড়ে ফেলা এবং নিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে এই ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একটি মেসের পরিচালককে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের জানান, তারা ঢাকা কলেজে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। প্রায় চারবছর ধরে তারা ধানমন্ডির ওই বাড়ির নীচ তলায় ভাড়া থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা ফিরে যান গ্রামের বাড়িতে।

কিন্তু হঠাৎ খবর পেয়ে তারা ঢাকায় ফিরে দেখেন তাদের বই খাতা, জামাকাপড় কিছুই নেই। সার্টিফিকেটগুলোও নেই। দু-তিন মাসের ভাড়া বকেয়া তাই বাড়িওয়ালা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে দেন এসব সামগ্রী। আবার কারো মালামাল রাখা হয়েছে গাড়ির গ্যারেজে। এসব দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসব শিক্ষার্থীরা।

পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা আমলে নিয়ে মেসের পরিচালককে গ্রেপ্তার করে। মালামাল ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে মেস পরিচালক বলেন, ‘দুই মাস যখন ভাড়া পাইনি, তখন আমরা এসব করেছি।’

কাঁদতে কাঁদতে সজীব নামের এক ছাত্র বলছিলেন, 'ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা এমন অমানুষ হতে পারে জানা ছিল না।’ আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার জেএসসির সার্টিফিকেট, এসএসসির সার্টিফিকেট একটা ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট নেই।’

আরেকজনের অভিযোগ, রুমের একজনের ডেস্কটপ, অন্য একজনের ল্যাপটপসহ ট্রাঙ্কের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল তারা এসে আর পাননি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমমাসে উনি মেস মালিক কাছে ভাড়া চেইলে করোনার কারণে দিতে পারিনি। এরপর উনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই আমাদের জিনিসপত্র বের করে দিছে বিনা নোটিশে।’

নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান জানিয়েছেন, ‘শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার পর সেটা গ্রহণ করে মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের হারিয়ে যাওয়া সনদসহ জরুরী কাগজপত্র পেতে সর্বোচ্চ সহায়তা করবে পুলিশ।’

(ঢাকাটাইমস/০২জুন/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :