ডিসি পরিচয়ে স্বর্ণ নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক

মোসলেহ উদ্দিন, উখিয়া (কক্সবাজার)
| আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৩৬ | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৪০

ডিসি পরিচয় দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় এক ভরি ওজনের চারটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়েছে প্রতারকচক্রের এক সদস্য। উপজেলা সদর স্টেশনস্থ জিএম মার্কেটের বাপন জুয়েলার্স থেকে ডাকবাংলোতে স্ত্রীকে দেখাতে নিয়ে যাবে বলে স্বর্ণ নিয়ে পালায় ওই প্রতারক।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৈঠক করে ওই ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার ও তার ছেলে প্রতারকের নিয়ে যাওয়া স্বর্ণের মূল্য বাবদ ৬৪ হাজার টাকা বাপন জুয়েলার্সের মালিককে নগদ ক্ষতিপূরণ দেন।

জানা গেছে, এক ব্যক্তি ওই দোকানে এসে কয়েকটি স্বর্ণের চেইন দেখাতে বলে। লোকটি তার স্ত্রীসহ উখিয়া ডাকবাংলোতে উঠেছেন বলে জুয়েলার্সকে জানায়। লোকটি বাপন জুয়েলার্সের দেখানো চারটি চেইন পছন্দ করার জন্য ডাকবাংলোতে অবস্থানকারী তার স্ত্রীর কাছে নিয়ে যেতে চায়। তখন বাপন জুয়েলার্সের স্টাফরা অনীহা জানালে লোকটি উখিয়ার ইউএনওর মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে কথা বলার অভিনয় করেন। ফোনে লোকটি বলেন, ‘নিকার তোমার মেয়েকে দেখতে আসব, তোমার ভাবী চেইন কিনতে পাঠিয়েছে আমাকে।’ এক পর্যায়ে লোকটি মাহমুদুল আলম, ডেপুটি কমিশনার দিনাজপুর’ নামীয় ইংরেজিতে লেখা একটি ভিজিটিং কার্ড দোকানিকে ধরিয়ে দিয়ে বলে চলুন চেইনগুলো স্ত্রীকে দেখাতে হবে। বাপন জুয়েলার্সের লোকজন তখন একটু্ ইতস্ত হয়ে লোকটিকে চারটি চেইন দেন। তার সঙ্গে বাপন জুয়েলার্সের স্টাফ মাধব দে ও অন্য দোকানের মালিক সোহেল ডাকবাংলোতে যায়। লোকটি বাপন জুয়েলার্সের স্টাফসহ দুইজনকে নাস্তা দেওয়ার কথা বলে অপর একটি রুমের দিকে যায়। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষণ না আসায় জুয়েলার্সের স্টাফ ও সোহেল ওই দিকে গিয়ে দেখে তাদের ড্রয়িং রুমে বসিয়ে রেখে যাওয়া লোকটি পেছনের দরজা দিয়ে ইতোমধ্যে চেইন নিয়ে পালিয়েছে।

পরে উখিয়া দোকান মালিক সমিতির সভাপতি একরামুল হকসহ স্থানীয়রা ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার শফির কাছে কিভাবে প্রতারক লোকটিকে ডাকবাংলোতে স্থান দেওয়া হলো তা জানতে চান।

উত্তরে উপজেলা প্রশাসনের জনৈক স্টাফের অনুরোধে এ প্রতারককে ডাকবাংলোতে রুম দিয়েছে বলে জানান কেয়ারটেকার। কিন্তু কেয়ারটেকার শফির এ বক্তব্যের কোনো সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়।

পরে জিএম মার্কেটের মালিক ইউনুস জুয়েলার্সের মালিক বাপন ধর, ব্যবসায়ী সমিতির একরামসহ রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। পরে কেয়ারটেকার শফি ও তার ছেলে প্রতারকের নিয়ে যাওয়া স্বর্ণের মূল্য বাবদ ৬৪ হাজার টাকা বাপন জুয়েলার্সের মালিককে নগদ ক্ষতিপূরণ দেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :