পাঁচ জেলায় ‘ধর্ষণ’ ও ‘ধর্ষণচেষ্টা’ মামলায় গ্রেপ্তার ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৭
ফাইল ছবি

ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অব্যাহত প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের পাঁচ জেলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভুক্তভোগী কিংবা তাদের পরিবারের করা মামলায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার গাজীপুরে একজন, ভোলায় দুজন, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একজন, যশোরে সাতজন এবং লালমনিরহাটে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা হলেও কয়েকটি মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিছুটা বিলম্বে।

সম্প্রতি সিলেটের এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়ের মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আরেক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে এসব আন্দোলনে।

এদিকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মোট ১১ হাজার ৬৮২টি ঘটেছে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

গত ১ অক্টোবর গাজীপুরের সালনা এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আরিফ ওরফে সবুজকে শুক্রবার রাতে সিটি করপোরেশনের তেলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার আরিফের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি থানার বরুড়াজানি গ্রামে। তিনি স্থানীয় টেকনগপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে গ্যারেজ মেকানিকের কাজ করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ পালাক্রমে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। ওই ছাত্রী মারা গেলে লাশটি ট্রাকে করে দূরে কোথাও গিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেপ্তার আরিফ।

এদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আরও একটি ঘটনা ঘটেছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সফিকুল ইসলাম ও মো. নাগর মাল নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সফিকুল ইসলাম লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. নাগর মাল একই উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা। গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত সফিকুল ইসলামকে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়ন থেকে ও মো. নাগরকে একই উপজেলার কুঞ্জেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, ভিকটিমের মায়ের মামলার আলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনই অপহরণ ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলার কমলগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম লুৎফুর রহমান (১৮)। তিনি উপজেলার আধকানী বাজারের বাসিন্দা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আধকানী উপজেলা বাজারে কিশোরীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় লুৎফুর রহমান ও উপজেলার কাউয়ারগলা গ্রামের মঈনুল ইসলাম। এরপর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি সালিশে ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়। এসময় ওই কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এই ঘটনায় শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় কমলগঞ্জ থানায় ধর্ষণ চেষ্টা ও সহায়তা করার অভিযোগে ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওইদিন রাতেই কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহাদেব বাচালের নেতৃত্বে মামলার প্রধান আসামি লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এমন গর্হিত সমাজবিরোধী কাজের সঠিক বিচার হওয়া দরকার।’

গত ৮ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের মুড়লী বকচর কোল্ড স্টোরের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এম কে পরিবহনের একটি বাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী জেলার একটি ক্লিনিকে আয়ার চাকরি করেন। ঘটনার বর্ননা দিয়ে শুক্রবার রাতে কোতয়ালি থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ওই নারী।

অভিযুক্তদের প্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়। ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। রিপোর্ট এলে জানা যাবে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন কি না।

মামলার প্রধান আসামি মনিরুল ইসলাম (২৮) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ওহিদুলের ছেলে ও এমকে পরিবহনের হেলপার। বর্তমানে মনিরুল যশোর সদর উপজেলার রামনগর ধোপাপাড়ায় কাঠমিস্ত্রি শহিদুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অভিযুক্ত মনিরুল এক মেয়ের বাবা। বাকি ছয় আসামি হলেন, শহরের সিটি কলেজপাড়ার কৃষ্ণ, একই এলাকার সুবাস সিংহ, বারান্দিপাড়ার রকিবুল ইসলাম রকিব, বেজপাড়ার মইনুল ইসলাম মইন ও পূর্ববারান্দি মোল্লাপাড়ার শাহিন আহমেদ জনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মনিরুলসহ সাত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত মনিরুল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রেনে এক কিশোরী (১৫) যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ থানায় মামলা হলে পুলিশ রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) ফরহাদ হোসেন জানান, মামলার অপর অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানান, গত ৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরী লালমনিরহাটের পাটগ্রামের খালার বাড়ি থেকে ট্রেনে করে রংপুরের কাউনিয়ায় মামার বাড়ি যাচ্ছিল। ট্রেন কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা স্টেশনে দাঁড়ালে ওই কিশোরী নাস্তা করতে নামে। সে সময় ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। ট্রেন চলে যাওয়ায় ওই কিশোরী স্টেশন প্লাটফর্মে অস্থির হয়ে পড়ে। পরে প্রধান আসামি ও অটোরিকশাচালক কিশোরীর পরিচয় জেনে নিজেকেও কাউনিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। তার অটোরিকশায় করে কিশোরীকে কাউনিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরে অটোরিকশায় উঠিয়ে কিশোরীকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রধান আসামিসহ চারজন মিলে ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। একইসঙ্গে এ ঘটনার কথা ফাঁস করলে কিশোরীকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও দেয়। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয়দের ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। স্থানীয়দের সহায়তায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় ভুক্তভোগী।

৮ অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বররা বৈঠকে বসে ধর্ষণকারী যুবকদের শনাক্ত করে। পরদিন সকালে ওই কিশোরীকে দুই হাজার টাকা দিয়ে মাতব্বররা তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে না গিয়ে ওই দিন দুপুরে ভুক্তভোগী কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়। ঘটনার বর্ণনা শুনে স্থানীয় সাংবাদিকরা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। ওই দিন রাত ৯টার দিকে চার জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

(ঢাকাটাইমস/১০অক্টোবর/কেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :