পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছয়

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫১ | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৫

রাজধানী ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় গত ৩৬ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, একজন নারী এবং বাকী চারজন পুরুষ। এদের মধ্যে ঢাকায় একজন, নীলফামারীতে একজন, রাজশাহীতে দ্জুন, পঞ্চগড়ে একজন এবং চট্টগ্রামে এক শিশু রয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাসার ফেরার পথে কাভার্ডভ্যান চাপায় প্রাণ গেছে ট্রাফিক পুলিশ বাবুল সেখের। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল সেখের বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার পশ্চিম বকচর গ্রামে। তার বাবার নাম জাফর সেখ। বাবুল কোতোয়ালি জোনে ট্রাফিক বিভাগে টিএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই সন্তানের জনক বাবুল পরিবারের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর সামাদনগরে থাকতেন।

জানা গেছে, রাতে ডিউটি শেষ করে মোটরসাইকেলে যাত্রাবাড়ীর সামাদনগরে বাসায় ফিরছিলেন বাবুল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কলাপট্টি এলাকায় আসার পর একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাবুল মাথায় আঘাত পান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং যানটির চালককে আটক করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে ট্রাকের চাপায় কছিরউদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের ট্রাক টার্মিনালের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি জেলার সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের সরকারিপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত দবিরউদ্দিনের পুত্র এবং পঞ্চগড় চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কছিরউদ্দিন অপর একজনের মোটরসাইকেলে করে ট্রাক টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের ট্রাক টার্মিনালের সামনে এলে একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় কছিরউদ্দিন মহাসড়কে পড়ে যান। এসময় ট্রাকের চাপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকও আহত হন।

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন ট্রাক চাপায় এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রাকের ধাক্কায় সফুরা খাতুন (৩০) নামে দুই সন্তানের জননী এক নারী মারা গেছেন। বুধবার সকাল ৭টায় সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কের চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সফুরা উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর পশ্চিমপাড়া (দোলাপাড়া) এলাকার সফুর আলীর মেয়ে। স্বামী পরিত্যক্ত্যা হওয়ায় তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন এবং সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি সুতলী ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও সফুরা সকাল ৭টায় কাজে যাওয়ার জন্য চৌমুহনী অটো স্ট্যান্ডে যেতে ব্রিজের দক্ষিণ পাশে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পার্বতীপুর থেকে আগত একটি ট্রাক তাকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতরভাবে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

চৌমুহনী বাজারের প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গেলে ট্রাকটি দ্রুত ঘুরিয়ে নিয়ে পার্বতীপুরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে প্রচন্ডভাবে ধাক্কা লেগে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক ও হেলপার ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। কোন অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ট্রাকের চালক ও মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

খননকাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্যাভেটরের নিচে চাপা পড়ে সজিব (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন ওয়্যারলেস গেইটের ৪ নম্বর লেইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী বিন কাসেম বলেন, খননকাজ চালানোর সময় স্ক্যাভেটরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুটি। হঠাৎ স্ক্যাভেটরটি চলতে শুরু করলে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটি ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

রাজশাহীতে বিআরটিসি বাসের চাপায় এক ডাব বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আনারুল ইসলাম (৩৫)। তার বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামে। বাবার নাম মখসেদ আলী। বুধবার সকালে তিনি রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে বাইসাইকেলে করে ডাব নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, সকালে একটি বিআরটিসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি বাইসাইকেল আরোহী আনারুলকে চাপা দিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ডাব বিক্রেতা আনারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহীতে হাত-পা ভেঙে জমি দখল করে নেয়ায় এক ব্যক্তি রেললাইনে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় তিনি আত্মহত্যা করেন। এই ব্যক্তির নাম এমরুল হাসান (৪০)। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এলাকায় তার বাড়ি। বাবার নাম ফিটু মিয়া। এমরুলের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সুইসাইড নোটে এমরুল লিখেছেন, ‘জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানা অনেকে আমার হাত ও পা ভেঙেছে। এই কষ্টে আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম। আমার হাত ও পা ভাঙার কারণে বাড়ির সামনের রাস্তা দুইবার বন্ধ করে দেয়।’

চিরকুটটিতে তিনি উল্লেখ করেছেনকে তার কাছে কত টাকা পাবে। মৃত্যুর পর কোনো মোবাইল নম্বরে ফোন করে খবর দেয়া যাবে সে কথাও চিরকুটে লেখা আছে। তার মরদেহ কোন কবরস্থানে দাফন করা হবে সেটিও লেখা হয়েছে। দুটি চিরকুটের একটিতে এমরুল লিখেছেন, ‘আমার জীবনে আমার আপনজন আমার, বেটি (মেয়ে) ও স্ত্রী। তিনজন আমার প্রিয়। আমার আর ভাল লাগছে না। আমার লেখা কাগজ দুইটা আমার স্ত্রীকে দিবেন। কাগজের ফটোকপি পুলিশকে দিবেন। কাগজের মেন কপি দুইটা আমার স্ত্রীকে দিবেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমরুল ক্র্যাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী একটি কমিউটার ট্রেন আসে। ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলেই এমরুল রেললাইনে মাথা পেতে দেন। এতে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। রেললাইনের পাশে পড়ে থাকে এমরুলের দেহ আর তার ক্র্যাচ।

নিহত এমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় তারা তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। সকালে এমরুল তাকে জানান তিনি চা পান করতে বের হচ্ছেন। এরপর তিনি রেললাইনে মাথা পেতে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ চিরকুটে থাকা তার বোনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে।

আয়েশা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে জালাল ও কালামেরা তাদের জমি দখল করে বাড়ি করেছেন। এমরুল বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেয়া হয়। তার স্বামীকে স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হত। জমি দখলের বিষয়ে মামলা করলেও হাত-পা ভাঙার কারণে দৌড়াদৌড়ি করতে পারতেন না। সে কারণে জমিও উদ্ধার করতে পারেননি। ক্ষোভে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, রেলওয়ে থানা পুলিশ নিহত এমরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।

ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :