গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: সহকারী কর কমিশনার চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৫

গ্রাহকের ‘প্রদত্ত কর’ এর টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করে নিজের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী কমিশনার মেজবাহউদ্দিন আহমেদকে স্থায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কর অঞ্চল খুলনার সাময়িক বরখাস্ত এই সহকারী কমিশনারকে সরকারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, সহকারী কমিশনারে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রপতির কাছে তার চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি চলতি মাসের ২৩ জানুয়ারি ওই কর্মকর্তার বরখাস্ত আবেদনটি অনুমোদন করেন। তার অনুমোদনের পরই তা বিভাগীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়।

জানা যায়, মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ কর অঞ্চল-খুলনা আওতাধীন বিভিন্ন কর সার্কেলে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে করদাতাদের কাছ থেকে আদায় করা পে-অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক ইত্যাদি সরকারি কোষাগারে জমা না করে অবৈধভাবে নিজস্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

চকরিচ্যুতির ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনি খুুলনা সার্কেল-১০, মাগুরায় কর্মকালীন সময়ে ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৪ টাকা, খুলনা সার্কেল -১১ নওয়াপাড়ায় কর্মকালীন সময়ে ৩ লাখ আট হাজার টাকা, খুলনা সার্কেল-১৪ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ আট হাজার ৪২৩ টাকা, কর অঞ্চল-খুলনা সার্কেল-১৪ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, খুলনা সার্কেল-১৭ থেকে ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৫৯৭ টাকা, খুলনা সার্কেল-১৭ থেকে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকা ও কর অঞ্চল-খুলনা-সার্কেল-২২ থেকে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকাসহ সর্বমোট ৩ কোটি৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে অসদাচরণ' ও ‘দুর্নীতিপরায়নতা’র অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেলও তিনি এর সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রতি উত্তরে প্রস্তাবিত শাস্তির বিরুদ্ধে তিনি (মেজবাহউদ্দিন আহমেদ) সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এর পরামর্শ চাওয়া হলে বিপিএসসি তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ দণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি-৪(৩)(১)(গ) মোতাবেক রাষ্ঠ্রপতির অনুমোদন করলে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

ঢাকাটাইমস/২৬জানুয়ারি/এসআ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :