হলুদ তরমুজ চাষে সফল পাঁচ বন্ধু

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ
| আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ১৬:৪৬ | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০২১, ১৬:২৮

হলুদ তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুলী গ্রামের পাঁচ বন্ধু। উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে বহুলী দাখিল মাদ্রাসা। এর দক্ষিণ পাশে আড়াই বিঘা জমিতে তাদের তরমুজ খেত। মাচায় ঝুলছে হলুদ তরমুজ। প্রতিদিন তা দেখতে মানুষ আসছেন আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে।

এই পাঁচ বন্ধু হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের মাসুম আহম্মেদ, গাজীপুরের পিয়ার আলী কলেজের মার্কেটিংয়ের ছাত্র ফরিদ আহমেদ, ময়মনসিংহের ভালুকা ডিগ্রি কলেজের স্নাতকের ছাত্র মেরাজ আহমেদ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কলেজের মার্কেটিংয়ের মো. এপ্রোলল ও ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাহ মুহাম্মদ সজীব।

প্রসঙ্গত, হলুদ তরমুজের উপরে হলুদ রং। ভেতরে টকটকে লাল। স্বাদে মিষ্টি ও সুস্বাদু।

তারা জানান, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১০০ গ্রাম বীজ ১০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করে এনে বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন এই পাঁচ বন্ধু। এ পর্যন্ত জমি প্রস্তত, সার, বীজ, মাচা, সুতা ও জাল বাবদ তার খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকার মতো। জমিতে কোনো ধরনের লোক খাটাননি এই শিক্ষার্থীরা। চুয়াডাঙ্গার খাইরুল ইসলাম নামে অভিজ্ঞ চাষির পরামর্শ নিয়ে সব কাজ করেছেন নিজেরাই। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বেশ সাশ্রয় হয়েছে।

বহুলী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন। তিন যুবক গাছ থেকে হলুদ তরমুজ ছিঁড়ে দিচ্ছেন তাদের। সেখানেই কথা হয় তরমুজ চাষি মাসুম আহম্মেদের সঙ্গে।

তিনি জানান, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সময়টা কাজে লাগাতে এলাকার আরও চার বন্ধুকে নিয়ে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন কিছু একটা করার ভাবনা মাথায় আসে। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন হলুদ তরমুজ।

তিনি আরও জানান, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে হাল চাষ করে জমি তৈরি করেছেন। এরপর সেখানে বেড তৈরি করে ওপরে বিছিয়ে দিয়েছেন মালচিং পেপার। এর ফাঁকে পলি ব্যাগে উৎপাদন করেছেন চারা। ২৩ ফেব্রুয়ারি সেই চারা জমিতে রোপণ করেন। বিঘাপ্রতি ৮০ কেজি গোবর, ডিএপি ২৫ কেজি, টিএসপি ৩০ কেজি, গ্রিনক্যাল জিপসাম ১০ কেজি, ম্যাগনেশিয়াম চার কেজি, দুই কেজি করে কার্বফোরাব ও জিঙ্ক জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীকালে আর কোনো সার দিতে হয়নি।

মাসুম আহম্মেদ জানান, রমজানে ফলন উঠায় বেশ ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে পোকা আক্রমণের সময় কৃষি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে প্রায় দুই লাখ টাকার তরমুজ নষ্ট হয়েছে। জমি তৈরির আগে মাটি পরীক্ষা করাতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনাগ্রহে সেটি সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, রমজানের প্রথম দিন থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪০ টাকা কেজিতে তাদের তরমুজ বিক্রি হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। এখন খেতে যা তরমুজ আছে, ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হতে পারে। এবারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিনে পাঁচ বিঘা জমিতে হলুদ তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এ অভিযোগের বিষয়ে ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ‘ওরা যে দিন মাটি পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন, আমাদের একটি প্রোগ্রাম থাকায় সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই ব্লকে দায়িত্বরত কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই।’

(ঢাকাটাইমস/১৭মে/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :