সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া

আমদানির চেয়ে দেশে উৎপাদিত বিটুমিন ব্যবহার উত্তম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ২০:২২ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০২১, ২০:১৬

দেশের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম উপাদান বিটুমিন আমদানিতে মান যাচাই হচ্ছে না, ফলে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি হচ্ছে বলে ঢাকা টাইমসের গত কয়েক দিনের প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সম্পাদকীয়তেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মান যাচাইয়ের যেটুকু সুবিধা আছে সেটুকুও ঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে অল্প সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সড়কগুলো। ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের টেকসই সড়ক যোগাযোগের চেষ্টা।

বিটুমিনের মান নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বিটুমিন হলো সড়কের লেয়ার তৈরির মেডিসিন। কোথা থেকে বিটুমিন আসছে সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তিমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেই বিটুমিন সিলেক্ট করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের কাজ চলার সময় প্রতিদিনই পরীক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে তার মতে, বিদেশ থেকে আমদানির চেয়ে দেশে উৎপাদিত বিটুমিন সরাসরি কারখানা থেকে এনে ব্যবহার করলে সড়কে সঠিক গ্রেড অনুযায়ী সঠিক মানের বিটুমিন ব্যবহার বেশি নিশ্চিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহরের কথাই বলে আসছি সব সময়।’

বাংলাদেশের আমদানি করা বিটুমিনের মান এবং সড়ক টেকসই না হওয়ার বিষয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘সমস্যা হলো আমরা যে প্রজেক্ট নিই তা স্বল্প সময়ের জন্য। এ কারণেই অন্যান্য দেশের মতো আমাদের রাস্তা টেকসই হয় না। আর আমরা যে বিটুমিন ব্যবহার করি, বিটুমিনের ব্যবহারটা কীভাবে হচ্ছে, মিক্সিং কীভাবে হচ্ছে, কত তাপমাত্রায় বিটুমিন গলানো হচ্ছেÑ এসবের ওপরও নির্ভর করে সড়ক কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বৈশ্বিকভাবে বলা আছে কী কাজের জন্য কোন গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করতে হবে- এ কথা উল্লেখ করে বিটুমিনের মান নির্ধারণ কমিটির সভাপতি বলেন, ‘সেই অনুযায়ী আমাদের সরকারও চেষ্টা করছে। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং এলজিইডির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। সেই কমিটি পরামর্শ দেয় কোন ধরনের কাজের জন্য কোন গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করতে হবে। তবে যে গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে সেটাই যদি ব্যবহার করি, তার পরও রাস্তা ভেঙে যেতে পারে। কারণ সেই রাস্তা দিয়ে ধারণক্ষমতার দুই-তিন গুণ বেশি ওজন নিয়ে যানবাহন চলে।’

বাংলাদেশের সড়কে ব্যবহৃত বিটুমিনের গ্রেড সম্পর্কে ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘সড়কে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহারের কথা আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছি। সড়কে যানবাহনের পরিমাণ এবং ওজন দেখে কোন গ্রেডের বিটুমিন প্রয়োজন তা নির্ণয় করতে হয়। আবার আমাদের দেশের জলবায়ুতে কোনো অবস্থাতেই ৮০-১০০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এটা কোনোভাবেই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত না। কাজেই এই গ্রেডের বিটুমিন কোনো অবস্থাতেই আমাদের দেশে আমদানি করা যাবে না।’

দেশে বিটুমিনের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বিটুমিন উৎপাদন করে এবং বিদেশ থেকে কিছু আমদানি করা হয় বলে জানান ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরাও চেষ্টা করছে বিটুমিন উৎপাদনের। তারা একটি প্লান্টও স্থাপন করেছে। এই অবস্থায় আমদানিকারকদের হাতে আমরা কেন জিম্মি হয়ে থাকব?’

বসুন্ধরা গ্রুপ যে বিটুমিন উৎপাদনের চেষ্টা করছে তার জন্য তাদের সাধুবাদ জানিয়ে মান নির্ধারণ কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তাদের প্রচেষ্টা সফল হোক, যাতে বিটুমিনের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়, আমরা যেন দেশেই উৎপাদন করতে পারি এবং সব জায়গায় সঠিক গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করতে পারি।’

দেশে উৎপাদিত বিটুমিন ব্যবহারের ইতিবাচক দিক সম্পর্কে ড. জাকারিয়া বলেন, ‘বিটুমিন যদি অনেক দিন ধরে ফেলে রাখা হয় এবং যদি বাতাস ঢোকে, তাহলে এর কোয়ালিটির কিছু না কিছু ক্ষতি হবেই। এ জন্য উত্তম হলো বিদেশ থেকে না এনে যদি দেশেই বিটুমিন উৎপাদন করা যায় এবং সেখান থেকে সরাসরি এনে আমরা ব্যবহার করতে পারি।’

সড়ক নির্মাণে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী। বলেন, ‘সেই সঙ্গে সবার সদিচ্ছাটা বাড়াতে হবে, শুধু সরকারের সদিচ্ছা থাকলে হবে না।’

সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই- এ কথা উল্লেখ করে ড. জাকারিয়া বলেন, ‘দেশে আইনেরও কমতি নেই, এখন এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দেশে বিটুমিন ব্যবহারের আগে সোর্স অ্যাপ্রুভাল করতে হবে যে কোথা থেকে বিটুমিনটা আসছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেই বিটুমিন সিলেক্ট করতে হবে। তবে বিটুমিন নিয়ে আসার পর পরীক্ষা বন্ধ করলে হবে না। সড়কের কাজ চলার সময় প্রতিদিনই পরীক্ষা করতে হবে। এটা যদি না করি তাহলে কোনো অবস্থাতেই সড়ক টিকবে না।

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/এইচএফ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :