মহামারিকালে কৃষি প্রণোদনা ঋণ

লক্ষ্যমাত্রা নিজেদের ঠিক করা, তবু পূরণে অনীহা

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২১, ০৯:৫৬

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবেলায় কৃষি প্রণোদনার ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো সময় পাচ্ছে মাত্র এক মাস। চুক্তিবদ্ধ ৪৩ ব্যাংক ১৪ মাস সময় পেলেও ২০ ব্যাংক এখনো লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ঋণও বিতরণ করতে পারেনি।

শেষ মাসে তোড়জোর করে লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হবে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো বলছে, নির্ধারিত সময়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে সব ধরণে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক সংকট মোকাবেলায় কৃষি খাতে প্রণোদনার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করে সরকার। এ অর্থ বিতরণে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো তাদের বরাদ্ধকৃত অর্থ বিতরণে বকরতে না পারায় আরো তিনমাস অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এসময়েও তারা ব্যর্থ হওয়ায় আরো তিন মাস বাড়িয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। কিন্তু মার্চেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রণোদনার অর্থ বিতরণের সময় আরো তিন মাস বাড়িয়ে জুন মাস করা হয়। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ ৪৩ টি ব্যাংকের মধ্যে ২০ টি ব্যাংক এখনো ৫০ শতাংশও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এমনকি ১৫ শতাংশও বিতরণ করতে পারেনি ৪টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিশ্চুক ঢাকা টাইমসকে জানান, চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলোকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণে একাধিক তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শাখা ব্যবস্থাপকদের টেলিফোনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ এবং পরামার্শ প্রদান করা হচ্ছে। ব্যাংকসমূহের শাখাওয়ারী বরাদ্দকৃত ঋণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কঠোর হুশিয়ারী করে চিঠিও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও ঋণ বিতরণ আগ্রহ কম দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানায়, শেষ মুহুর্তে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে তোড়জোড় করছে। কতটুকু সফল হবে সেটি দেখার বিষয়। তবে এক্ষেত্রে ঋণগুলো ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের ৩১ মে শেষে ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯০ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা বা ৭৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৪৯ জন কৃষকের কাছে মোট বরাদ্ধের ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ বা ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, শাহজালাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ও উত্তরা ব্যাংক ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে।

তবে প্রণোদনা বিতরণকৃত ৪৩ ব্যাংকের মধ্যে ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংক ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, সাউথইস্ট ব্যাংক ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, স্টান্ডার্ড ব্যাংক ২৪ দশমকি ২০ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৩৩ দশমকি ১৯ শতাংশ, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, বেসিক ব্যাংক ৩৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ৩৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক ৪১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, সীমান্ত ব্যাংক ৪২ দশমিক ৮৯ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংক ৪৫ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং পূবালী ব্যাংক ৪৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম কামাল হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, কৃষি প্রণোদনার ঋণ নিতে অনেক আবেদন পড়েছে। আগামী বোর্ড মিটিং এ আবেদনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ঋণগুলো দিতে পারলে এ মাসেই আমাদের লক্ষ্যমাত্র শতভাগ পূরণ হবে ইনশাল্লাহ।

বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান ঢাকা টাইমসকে জানান, অধিকাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায় থেকে সব রির্পোট এখনো আসেনি। আমাদের সার্কেল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশাকরি এ মাসেই লক্ষ্যমাত্র পূরণ হবে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আলম খান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে জানান, আমাদেরন আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের কৃষি প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন করে ৪০ লাখ টাকার আবেদন পাশ করা আছে। আরো ২০ লাখ টাকার আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। চেষ্ঠা করছি ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা যায় কিনা।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত