ভুঁইফোঁড় রুখতে উপকমিটি থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কঠোর বার্তা

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৬:৩৫ | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২১, ০৮:২৭

তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে রাজনীতিতে না থাকলেও গত এক যুগে দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির নাম ভাঙিয়ে গজিয়েছে অন্তত ৭৫টি সংগঠন।

কেবল ‘লীগ’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে সাংগঠনিক অস্তিত্বহীন এসব সংগঠনের অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগে। দলের অনুমোদন না পেলেও এই ধরনের সংগঠনগুলোর কথিত নেতাদের হম্বিতম্বিতে অস্বস্তিতে পড়তে হয় দলের আসল ত্যাগী নেতাকর্মীদের।

সম্প্রতি এমন কয়েকটি সংগঠনের নানা অপকর্ম প্রকাশ্যে আসার পর তাদের দমাতে উপ-কমিটি থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে কড়া বার্তা গেছে। পাশাপাশি ভুঁইফোঁড় এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নানা শ্রেণিপেশার মানুষকে ঘিরে এসব সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নাম ভাঙিয়ে এসব সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭৫টি সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে।

‘আওয়ামী চাকরিজীবি লীগ’ নামে একটি সংগঠন নেতাকর্মী বানানোর ফেসবুক প্রচারণায় নামার পর আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর। মূলত এরপরই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে নাম ভাঙানো এসব সংগঠনের বিষয়।

এ ধরণের সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে এরইমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ হাইকমান্ড থেকে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সকলকে সতর্ক করেছেন। নেত্রীর নির্দেশনা আছে ভুইফোঁড়, হাইব্রিড, এদের সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্যে।

নানক বলেন, ‘দলের উপ কমিটিগুলো শুরু করে থেকে তৃণমুল পর্যন্ত আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বারবার এই নির্দেশনা দিয়েছেন। নেত্রীর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আদর্শবিমুখ এসব ব্যবক্তিদের দল থেকে ছেঁকে বের করে দিতে হবে।’

কথিত আওয়ামী চাকরিজীবী লীগের বিষয়টি ঘিরে আলোচনায় আসার পর এরইমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তার গুলশানের বাড়িতে র্যা বের অভিযানে মিলেছে বিপুল পরিমাণ মদ, হরিণের চামড়া, বেশ কিছু ছুরি, বিদেশি মুদ্রা, ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম। তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা হয়েছে।

হেলেনাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে গজিয়ে ওঠা সুবিধাবাদী অন্যান্য ভুঁইফোঁড় সংগঠকরা। এদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের উচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘যাদের কারনে আওয়ামী লীগের ভাবমর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং সরকার ও দল প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তারা যেই হোক না কেন তাকে দলে আশ্রয়প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

মন মতো সংগঠন গড়েই আওয়ামী লীগে স্থান হবে না পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বীকৃত সংগঠনের বাইরে কোনো মনগড়া বা হঠাৎ গজিয়ে উঠা সংগঠনকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং করার কোনো সুযোগ নেই।

দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী দলের মধ্যে কারো প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে এ ধরনের কাজে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ও প্রশাসসিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ার করেছেন ওবায়দুল কাদের।

গজিয়ে ওঠা যে ৭৫ সংগঠনের নাম মিলেছে

আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, ওলামা লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, আমরা মুজিব সেনা, আমরা মুজিব হব, চেতনায় মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, আওয়ামী প্রচার লীগ, সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি লীগ, আওয়ামী শিশু লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী তরুণ প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ, বাংলাদেশ জনসেবা লীগ, আওয়ামী শিশু-কিশোর লীগ, অভিভাবক লীগ, উদ্যোক্তা লীগ, আওয়ামী অনলাইন লীগ ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ, ঠিকানা বাংলাদেশ, জনতার প্রত্যাশা, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি ও বিশ্ব আওয়ামী অনলাইন লীগ।

(ঢাকাটাইমস/৩১জুলাই/কারই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :