এখন পুষ্টি নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:১৩

বাংলাদেশের মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আমাদের সব দিকেই উন্নতি হয়েছে। এবার আমাদের পুষ্টি নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

রবিবার তথ্য অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘মিডিয়া স্যানিটেশন ওয়ার্কশপ অন পার্টিসিপেশন অব বাংলাদেশ ইন দ্য ইউএন সিস্টেম সামিট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই তার যে উক্তি ছিল সেটা হলো- আমার এই বাঙালি যেন খাদ্য পায়, বস্ত্র পায়, অন্ন পায়, যেন দুবেলা-দুমুঠো খেতে পায়। একটি সময় ছিল, ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমরা গ্রামেগঞ্জে যখন যেতাম দেখতাম একবেলা ভাত খেয়েও মানুষের জীবন নির্বাহ করছে। কোনোরকম চাল ফুটিয়ে সেই চালে পানি দিয়ে ভাত ফুটিয়ে খেয়েও মানুষকে বেঁচে থাকতে দেখেছি। আমি বলব সেই বাংলাদেশের মানুষ এখন না খেয়ে থাকে না। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আমাদের সব দিকেই উন্নতি হয়েছে। এবার আমাদের পুষ্টি নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের অনেক অনেক উৎপাদান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখন আমাদের মানুষ বাজারে চাল কিনতে গিয়ে ফিরে আসছে না। এক সময় হাহাকার গেছে, সেই হাহাকার কিন্তু এখন নেই। এখন আমাদের যেটা প্রয়োজন সেটা হলো পুষ্টি।

মন্ত্রী বলেন, ১৮টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সবধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা মাছের সমৃদ্ধ হয়েছি, মাংসে সমৃদ্ধ হয়েছি, আমরা অনেক পুষ্টি জাত ফলেও সমৃদ্ধ হয়েছি। এখন পরিকল্পিতভাবে পুষ্টির জন্য মাছ চাষ করা হয়। এমনকি শুধু রুই-কাতলা নয় পাবদা, মোলা, টেংরা সবই চাষ হয়। আমরা এক সময় দেখেছি ইন্ডিয়া থেকে গরু না এলে আমরা গরুর মাংস খেতে পারতাম না। এখন কিন্তু গ্রামেগঞ্জে গরুর খামারের অভাব নেই। এমনকি বাড়ি বাড়িও গরু পালন হচ্ছে।

পুষ্টি বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে না পারি তাহলে পিছিয়ে থাকব। টেকসই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পুষ্টি বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সভাপতির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, আমরা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে সবার মধ্যে খাদ্য সচেতনতা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছি। জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয় সেদিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা অনেকেই খাদ্য ব্যবহারের নিয়ম জানি না। আবার অনেকেই জেনেও তা মানি না। এসব বিষয়ে সচেতনতা দরকার।

বাংলাদেশ ইন দ্য ইউএন সিস্টেম সামিট থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, রোমভিত্তিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় জাতিসংঘ মহাসচিব আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ফুড সিস্টেম সামিট আহ্বান করেছেন। ফুড সিস্টেম এপ্রোসের সুবিধাগুলো ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সমস্যা মোকাবেলা করে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট ২০২১ এর মূল উদ্দেশ্য। খাদ্য ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং উদ্ভাবনীর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য এই সামিট একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

ফুড সিস্টেম সামিটের পাঁচটি উদ্দেশ্য হলো:

১. সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রবেশাধিকার (Access) নিশ্চিত করা । ২. টেকসই ভোগ। ৩. পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক ইতিবাচক উৎপাদন বৃদ্ধি করা। ৪. ন্যায়সঙ্গত জীবিকায়ন। ৫. দুর্যোগ ও বিভিন্ন অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে জানানো হয়-খাদ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবগত করা এবং ইউনাইটেড নেশনস ফুড সিস্টেম সামিট (ইউএনএফএসএস) ২০২১ এর নীতি কাঠামো সম্পর্কে অবহিত করে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনায় সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং প্রস্তাবিত ন্যাশনাল প্যাথওয়ে ডকুমেন্ট বাস্তবায়নে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যমের কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে, (ইউএনএফএসএস) এর প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং মূল কর্মপরিকল্পনা কীভাবে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, তা আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন এবং গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (এফপিএমইউ) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী।

ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্টের পাঁচটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৯সেপ্টেম্বর/আরকে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :