প্রবাসীদের কল্যাণে ৪২৭ কোটি টাকার প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৬ | প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১৮

করোনাকালে বিদেশফেরত প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪২৫ কোটি টাকার ঋণের চুক্তি সই ও সরকার কর্তৃক ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। সেইসঙ্গে বিদেশফেরত প্রবাসীদের জন্য ৩০টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে করোনাকালে বিদেশফেরত কর্মীদের রিইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সচিব।

আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের অধীনে আমাদের ৩০টা জেলায় ৩০টা ওয়েলফেয়ার সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যারা করোনার সময়ে বিদেশ থেকে এসেছেন তারা আমাদের সহযোগিতা পাবেন। বিদেশফেরত প্রবাসীদের আমরা একটা প্রণোদনা দেবো। তাকে আমরা কতকগুলো সার্ভিস প্রোভাইড করবো আগে। সেই সার্ভিসগুলো হচ্ছে যেখানে প্রশিক্ষণ দেবে সেখানে তিনি কীভাবে প্রশিক্ষণ নেবেন, তিনি কীভাবে আত্মকর্মসংস্থানে নিযুক্ত হবেন, তিনি কিভাবে ব্যাংক লোন পাবেন ইত্যাদি। এছাড়া ২৫ হাজার ৫০০ প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার খরচ তাই এই প্রকল্প থেকেই বহন করা হবে। এই সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন, দেশেও কাজ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য হাসিল হবে। একটা হচ্ছে বড় একটা ডাটাবেজ তৈরি হবে। কারা কারা দেশে ফিরেছেন তাদের একটা প্রোফাইল তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয় সেই সহযোগিতা আমরা দিতে পারব। আমাদের ওয়েলফেয়ার কল্যাণ বোর্ডের সক্ষমতা বাড়বে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, আপাতত ৩০টা জেলায় ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপিত হবে। পরবর্তীতে আমরা অর্গানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবো। যাতে প্রকল্প চলে যাওয়ার পরেও বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আমাদের ওয়েলফেয়ার সার্ভিসগুলো বহাল থাকে। এটাই আমাদের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর। আমরা আশা করছি এই বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই প্রকল্প চালু করতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের গণমাধ্যমে স্বাভাবিক যে তথ্য এসেছে গত দুই বছরে চার লক্ষাধিক লোক দেশে ফেরত এসেছেন। তাদের অনেকে আবার চলেও গেছেন। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে এখন কতজন বিদেশফেরত আছেন, তার সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। এই প্রকল্প শেষে আমরা কম্প্রিহেনসিভ ডাটাবেজ পাব যে, কারা কোথা থেকে এসেছেন। কত দিন ছিলেন, কেন গিয়েছিলেন, কেন ফিরে এসেছেন, কী কাজ করেছেন, কী কাজ এখানে করতে চান সেই ডাটাবেজ আমরা এখানে পেয়ে যাব।

তিনি জানান, ৩০টা এলাকায় এই প্রকল্পটি হবে; কিন্তু পুরো ৬৪টি জেলা কভার করবে। প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ বিদেশ ফেরতকে ১৩ হাজার ৫০০ করে টাকা দেয়া হবে। যদিও এটা কোনো বড় অ্যামাউন্ট না। তবে এটার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একটা প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ২৫ হাজার লোক ট্রেনিং পাবেন। তবে যিনি টাকাটা পাবেন তিনি প্রশিক্ষণ পাবেন না। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৮অক্টোবর/আরকে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :