মন্ত্রণালয় ও আইনজ্ঞ মত

দারাজের ১ টাকায় ১৬ লাখ টাকার গাড়ি বেআইনি

কৌশিক রায়, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৪

অবিশ্বাস্য অফার। ১ টাকায় ১৬ লাখ টাকার গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ মিলবে নানান পণ্য। এটি অনলাইন শপ দারাজের ইলেভেন ইলেভেন ক্যাম্পেইনের প্রচারণা। এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনলাইন ই-কমার্স শপ দারাজের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনজ্ঞরা দারাজের এই উদ্যোগকে বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন। আর দারাজের ক্যাম্পেইনের ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।

মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ‘১ টাকা গেইমের’ অনুমতি চেয়ে দারাজ চিঠি দিলেও কোনো ধরনের অনুমতি পাওয়ার আগেই তারা গেইম চালু করে দেয়। তার সাত দিন পর মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে তাদের এই গেইমকে বেআইনি বলা হয়। তত দিনে দারাজ প্রচারণার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে ঠকিয়েছে।

প্রতারণার অভিযোগে অনলাইন ই-কমার্স শপ ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের কর্ণধাররা এখন অইনের আওতায়। একই ধরনের অভিযোগে আরও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান। কিন্তু দারাজ ফাঁদ পেতে লোক ঠকালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে দারাজসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। গত কয়েক মাসে দারাজের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে ১ হাজার ৫১টি অভিযোগ জমা হয়। ইতিমধ্যে ৯৫৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

দারাজের ইলেভেন ইলেভেন ক্যাম্পেইনে ১ টাকায় ১৬ লাখ টাকার প্রাইভেট কার, দামি মটরসাইকেলসহ মানুষকে আকৃষ্ট করতে রয়েছে অনেক অফার। তাদের এই অফার যে মানুষের কাছ থেকে ছোট অঙ্কের অর্থ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ফন্দি, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। মানুষকে ধোঁকায় ফেলা বা এ ধরনের অস্বাভাবিক অফার আইনগতভাবে অবৈধ বলে জানান তিনি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এক টাকা একজন মানুষের কাছে কিছু না, কিন্তু ১৭ কোটি মানুষ যদি আমাকে এক টাকা করে দেয় তাহলে কিন্তু এটা বিরাট মূলধন। আমার জন্য ১৭ কোটি টাকা হয়ে গেল। তারা (দারাজ) এই ধরনের ক্যাম্পেইন কোটি কোটি টাকা লাভের জন্য করছে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

দারাজের এই ক্যাম্পেইন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু দারাজের অফারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন চেয়ারপার্সন মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘উনারা এসেছিলেন। তো আমি একদিন একটা ওয়ার্কশপে বলেছিলাম আপনারা এই যে ১ টাকায় গাড়ি বিক্রি করেন এটা কী ধরনের ক্যাম্পেইন। তখন তারা একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তাদের ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট নয়। আমরা এটা বিশ্লেষণ করছি। আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মেইলে প্রশ্ন পাঠাতে বলে। মেইল করে দারাজের কাছে তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়। তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অন্য দুটি এড়িয়ে যায়।

ঢাকাটাইমসের তিনটি প্রশ্ন ছিল- ১. দারাজের ১১/১১ ক্যাম্পেইনে এক টাকায় প্রাইভেট কার এবং এক টাকায় মোটরসাইকেল বিক্রির প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে দারাজের বক্তব্য কী?

২. বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, এই ধরনের ক্যাম্পেইন বৈধ নয়। এবং দারাজ এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশনে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে সেটিও সন্তোষজনক নয়। প্রতিযোগিতা আইন ভঙ্গ করে এমন বেচাকেনা বা অফার দেয়ার বিষয়ে দারাজের বক্তব্য কী?

৩. ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো লোভনীয় অফার দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করায় দারাজের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। দারাজের বক্তব্য কী?

উত্তরে দারাজ জানায়, গত ৬ অক্টোবর তারা ‘১ টাকা গেইম’-এর পরিচালনা পদ্ধতির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। কিন্তু ‘১ টাকা গেইম’ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি বলে তারা নির্ধারিত তারিখ (১ নভেম্বর) থেকে এ প্রতিযোগিতা শুরু করেন।

কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে গত ৭ নভেম্বর তাদের ওই চিঠির জবাব আসে। তাতে বলা হয়, তাদের ১ টাকা গেইম আইনানুগ নয়।

দারাজের দাবি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার আগেই গত ৩ নভেম্বর তারা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিযোগিতার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। তাদের ভাষ্যমতে, ‘গত ৩ নভেম্বর ই-ক্যাবের উপস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকে বিভ্রান্তি এড়ানোর লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের নিবন্ধন ফি হিসাবে ১ টাকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা আমরা অবিলম্বে অনুসরণ করে ফ্রি-পার্টিসিপেশনের (বিনামূল্যে অংশগ্রহণ) ব্যবস্থা করি।’

দারাজ আরও দাবি করে, ‘১ টাকা গেইম’ কোনো লটারি নয়, বরং একটি দক্ষতা-ভিত্তিক খেলা। প্রতিযোগিতার বিজয়ী তার নির্ভুল ও দ্রুত উত্তর দেয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়, কোনোভাবেই দৈবচয়নের ভিত্তিতে নয়।

(ঢাকাটাইমস/১৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :