ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যার পরিকল্পনায় পরাজিত প্রার্থী: পুলিশ

ভোলা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:০৪ | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১৮

ভোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত যুবলীগ নেতা টিটুকে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. জামাল উদ্দিন ওরফে সকেট জামাল এ হত্যাকাণ্ডে নিজের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানকে হত্যা করে আগামী চার মাসের মধ্যে জামাল চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা থেকেই এ হত্যার পরিকল্পনা করেন পরাজিত এই প্রার্থী।

গত শুক্রবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সকেট জামালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৩০টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন চকেট জামাল। হত্যার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি, যা পরবর্তীতে তদন্তের কাজে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, সকেট জামাল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তার অনুসারীদের বলছেন, আগামী চার মাসের মধ্যে তিনি দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবেন। সে অনুযায়ী তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর বিজয়ী চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু মদনপুর ইউনিয়নে একটি সভায় যোগ দিতে কর্মীদের নিয়ে মদনপুরে যান। সেদিন সকেট জামালও দুটি স্পিডবোট নিয়ে মদনপুর যায়।

পরে বিকালে চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু ট্রলারযোগে ভোলার ফেরার পথে নাছির মাঝি ঘাটের কাছাকাছি এলে জামাল তার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি স্পিডবোট দিয়ে এসে ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এসময় ট্রলারটি স্পিডবোটের ওপর উঠিয়ে দিলে বোটটি ডুবে যায়। এতে স্পিডবোটে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নদীতে পড়ে যায়।

পরে ট্রলারে থাকা লোকদের ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পুনরায় ঘাট থেকে চেয়ারম্যানের ২০-২৫ জন অনুসারী সন্ত্রাসীদের ধরতে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটুর মাথায় গুলি লাগে। এতে তিনি আহত হলে তাকে ভোলা সদর হাসাপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয় পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন চকেটকে। এ অবস্থায় ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি জামাল উদ্দিন ঢাকায় পলাতক ছিলেন। গত শুক্রবার তাকে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে শনিবার ভোলায় নিয়ে আসা হয়।

(ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :