ফের আইভী নাকি লড়াকু তৈমূর

মোমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ
| আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৯ | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩২

নির্বাচনের তফশিল অনুযায়ী প্রচার শুরুর পর থেকে মেয়র পদের প্রধান দুই প্রার্থীই ছিলেন প্রচারমুখর। নৌকা প্রতীকের ডা. সেলিনা হায়াত আইভী আর হাতি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের কথার লড়াই শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে বন্ধ হয়েছে। এবার রবিবারের ভোটের অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগতি আর ইউপি নির্বাচনের সহিংসতার রেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিইসি কে এম নুরুল হুদা কমিশনের অধীনে এই ভোট তাদের ‘ইমেজ’ বাঁচানোরও নির্বাচন।

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত এই সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের কথার লড়াই ছিল লক্ষণীয়। আনুষ্ঠানিক প্রচারের দিনগুলোতে বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর আসেনি। শুক্রবার মধ্যরাতে প্রচার শেষ হয়েছে। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষ রবিবার একটি শান্তিপূর্ণ সুন্দর ভোট অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায়।

প্রথমবারের মতো এবারই নারায়ণগঞ্জ সিটির সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। শহরটির ৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি ভোটার তাদের আগামীদিনের মেয়র এবং ২৬টি ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর বাছাইয়ের রায় দেবেন।

তবে এই নির্বাচনের মূল ফোকাস মেয়র পদের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর। তারা হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমুর আলম খন্দকার। মেয়র পদে আরও পাঁচজন লড়লেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন এই দুজনই।

প্রচারের শেষ দিনে সেলিনা হায়াত আইভী তাকে হারাতে ‘সব পক্ষই মিলে গেছে’ বলে অভিযোগ করলেও এও বলেছেন তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। বিপরীতে তৈমূর আলম খন্দকার শেষ দিনের প্রচারে একাধিকবার বলেছেন, ‘রক্ত দিয়ে হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন।’ তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে এই সিটিতে ভোট করতে নেমে বিএনপির পদ হারানো তৈমূর।

পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নারারয়ণগঞ্জে দশ বছর ধরে মেয়র আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটির মেয়র হওয়ার আগে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। আগের দুটি নির্বাচন উৎরে আসা আইভীর প্রতি এবারও ভরসা রেখেছে আওয়ামী লীগ।

ভোটের প্রচারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নৌকার প্রার্থী আইভী উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যক্তি নয়। আইভী হঠাৎ করে আসা কোন মানুষ নয়। তিনি অগ্নিপরীক্ষায় পরীক্ষিত।

নানক বলেছেন, আইভী নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জের সব উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন।…আমাদের নেত্রী দলের মনোনয়ন বোর্ডে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমার প্রার্থী হলো আইভী। আইভী যদি মেয়র নির্বাচিত হয়, তাহলে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সব উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিয়ে নিলাম।

তবে প্রচারের শেষ দিনেও ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার নারায়ণগঞ্জে অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমুর। কেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা সরিয়ে নেওয়া এবং পুলিশি হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন তিনি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও চেয়েছেন স্বতন্ত্র এ প্রার্থী।

এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, কোনো প্রার্থীর নেতাকর্মী বা সমর্থকদের গ্রেপ্তার বা কোনো ধরনের হয়রানি করা হয়নি। আমরা শুধু রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছি। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, শুধু তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে অথবা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

প্রচারের শেষ দিনের সকালে শহরের মিশনপাড়ায় সংবাদ সম্মেলনে এসে তৈমূর বলেন, তিরি হারবেন না। বিগত ৫০ বছরে তার কর্ম আর ১৮ বছরে আইভীর ব্যর্থতায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকেই রায় দেবেন।

ভোটারদের মাঝে কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটির নতুন মেয়র তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ভোট নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ। নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে নিয়ামক বা ফ্যাক্টর কারা হবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভোট কেমন হবে তা নিয়ে শহরবাসীর অনেকের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর সংশয় বিরাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৯টি সংস্থার ৪২ পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংস্থাগুলো হলো- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ), সার্ক মানবাধিক ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, তালতলা যুব উন্নয়ন সংগঠন, রিহাফ ফাউন্ডেশন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস। তবে পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মানার পাশাপাশি এসব সংস্থাকে ভোট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের শর্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

৩০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ- তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সব কেন্দ্রেই মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া পুলিশের বিশেষায়িত যেসব ব্যাটালিয়ন আছে, তারাও মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে বিজিবির টিম মোতায়েন থাকবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম তার কার্যালয়ে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। এখানে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ১৮৯ প্রার্থীর সবাই নির্বাচনের পরিবেশ ভালো বলেছেন।

এসময় নির্বাচনের পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন জেলার পুলিশপ্রধান।

(ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :