দেশ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্তি আর কোনো দেশে নেই: মোজাম্মেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২২, ১৬:৪৫

স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পার করেও দেশের স্বার্থে, দেশ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর এক হতে না পারা খুবই দুঃখের এবং দুর্ভাগ্যজনক। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা ছাড়া দেশের স্বার্থে ও দেশের প্রশ্নে আর কেউ ভূমিকায় নেই।

৫২তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা টাইমসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মোজাম্মেল হক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দ্বিতীয় মেয়াদে সহ-সাধারণ সম্পাদকের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধরণ সম্পাদক মোজাম্মেল স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকও।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ ও বিপক্ষ দল থাকা কাম্য নয়। পৃথিবীর সকল দেশ, দেশের স্বার্থে এক, কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে এটা না হওয়া খুবই দুঃখজনক।’

‘বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেশের মানুষকে ভালোবেসে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনাও দেশের মানুষকে ভালোবেসে বিশ্বে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা ছাড়া দেশের স্বার্থে ও দেশের প্রশ্নে আর কেউ ভূমিকায় নেই।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে থাকা কাঙ্খিত নয়। দেশের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষায়, দেশের মূলনীতির প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্তি পৃথিবীর আর কোনো দেশেই নেই। আমাদের দেশে যেটা আছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

স্থানীয় রাজনীতিতে সদা সক্রিয় মোজাম্মেল ২০০৮ সালে গাজীপুর পৌর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে একই আসন থেকে তিনি বিজয়ী হন।

ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মোজাম্মেল ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ধর্মমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে জাতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কতটা সম্মান দিতে পেরেছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল তার কাছে। উত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথভাবে সম্মানিত করার জন্য বঙ্গবন্ধুরকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সম্মানজনকভাবে তাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ৪ হাজার দুইশত কোটি টাকা ব্যয়ে অসহায়, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাদের শুধু গার্ড অনারই দেয়া হয় না, দাফন কাফন থেকে শুরু করে সমস্ত খরচ বহন করা হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর বাঁধানোর কাজ করা হচ্ছে। যাতে শতবছর পরও মানুষ দেখলে বুঝেতে পারে এটা বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর।’

দেশের যত জায়গায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল, যত বধ্যভূমি এবং যুদ্ধের সকল ঐতিহাসিক জায়গা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এবিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যেমন মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এখানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্থন করেছিল। এখানেই বঙ্গবন্ধু ১০ মার্চ নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দিয়েছিলেন। এছাড়া ইন্দিরা গান্ধী ভারতের সৈন্যদের প্রত্যাহার করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন এখান থেকে।’

‘সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল যেখানে, সেই জায়গাটাও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বীরের কণ্ঠে বীরগাঁথা অর্থাৎ প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য রেকর্ড করে আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ বিশেষ গল্প অবলম্বনে সিনেমা ও চলচ্চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। যেমন অপারেশন জ্যাকপট, নৌ বাহিনী একদিনে পাকিস্তানের ২৮টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল সেই ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনাকে ধরে রাখার জন্য পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের তথ্য পাঠ্যবইয়ে রাখা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘২৩ বছর মুক্তির সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাসের ওপর আগামীতে বিসিএস পরীক্ষায় একশ নাম্বারে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি মাসেই তাদের ডিজিটাল সনদ ও স্মার্ট আইডি কার্ড দেওয়া হবে। তাদের ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের একাউন্টে চলে যায়।’

‘প্রতিটা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা আসতে পারেন এবং একে অপরের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে পারেন। ওয়ার হিরোরা, যাদের কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সরকারের সক্ষমতা যত বাড়বে তাদের প্রতি সরকারের দায়িত্বও তত বাড়বে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বিশদভাবে পাঠ্যবইয়ে লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ভাষণ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বিভিন্ন উদ্ধৃতি বা ব্যাখ্যা আংশিকভাবে দেওয়া হয়েছে। ধীরে বিশদভাবে পাঠ্যবইয়ে সম্পৃক্ত করা হবে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো আইন করা দরকার আছে কি-না প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা দেবে না, প্রত্যাকটা নাগরিকদেরও নিরাপত্তা দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তো অবশ্যই নিরাপত্তা দিতে হবে। তবে কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অন্যায় অপরাধ করে কিংবা মুক্তিযোদ্ধারা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সেটা আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এই বিষয়ে সরকার সচেতন ও সর্তক আছে।’

(ঢাকাটাইমস/২৬মার্চ/জেএ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :