কাড়াকাড়ির তেলে ভাগ্যবান যারা

রুদ্র রাসেল, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ১৪:৩৩ | প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০৩:০৬

রাত ১২টা থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে সরকারের এমন ঘোষণায় রাতে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে শুরু হয় তেল নিয়ে কাড়াকাড়ি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এসব ফিলিং স্টেশনে মোতায়েন ছিল পুলিশ।

ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার কয়েক মিনিট আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় পাম্পের গেট। এই সময় পর্যন্ত যারা পাম্পের চৌহদ্দির ভেতরে ঢুকে লাইন ধরতে পেরেছেন ১২টার পরেও তারা আগের মূল্যে তেল পেয়েছেন।

রাত ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপুরা থানার মেসার্স হাজীপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন পেট্রোল পাম্পের ভেতরে মোটরসাইকেলসহ অন্তত ৬০টি গাড়ি তেলের জন্য সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিল। এক একজন তেল পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে কর্তব্যরত রামপুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাইফুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পাশের গেট খুলে বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, যারা তেল নিয়ে বের হচ্ছেন তারা রাত ১২টার আগেই পাম্পের চৌহদ্দির ভেতরে ঢুকতে পেরেছিলেন। তাদের আগের দামে তেল দেওয়া হয়েছে। এ সময় বাইরেও অপেক্ষমাণ দেখা গেছে অন্তত ৩০-৪০টি যানবাহন। তারা ১২টার আগে পাম্পের চৌহদ্দির ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তাই তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাদের বুঝিয়ে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন পাম্পের নিরাপত্তা কর্মী আজিজ।

শুক্রবার মধ্যরাতে সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। আগের দামে তেল পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার।

তবে তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে রাজধানীর বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ ছিল। রাত ১১টার দিকে মৎস্যভবন সংলগ্ন রমনা পেট্রোল পাম্প, মতিঝিলের নাভানা ফিলিং স্টেশনসহ আশপাশের কয়েকটি পাম্প বন্ধ দেখা গেছে।

খোলা পাওয়া গেছে দক্ষিণ শাজাহানপুর এলাকার পূবালী পেট্রোল পাম্প, পোস্ট ফিলিং স্টেশন। সেখানে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউ কেউ লাইক করছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মোটরসাইকেলসহ শতাধিক গাড়ি অপেক্ষমাণ দেখা গেছে সেখানে। কাউকেই ২-৩ লিটারের বেশি তেল দেয়া হচ্ছিল না।

সেখানে কর্তব্যরত শাহজাহানপুর থানার এসআই শহিদুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই এলাকায় আমার ডিউটি। তাই নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি।'

পূবালী ফিল্ম স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারে কর্তব্যরত আবুল কালাম জানান, 'রাত ৯টা থেকেই প্রচুর ভিড়। পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু অকটেন দিচ্ছি।'

সেখানে তেল নিতে অপেক্ষমাণ বাইকার মুজিবুর রহমান জানান, 'তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অকটেন প্রতি লিটারে ৩৯ টাকা বেড়ে গেছে। তাই বেশি করে তেল ভরে নিতে এসেছি। কয়েকটি পাম্প বন্ধ পেয়ে এই পাম্পে এসেছি। যে সিরিয়াল জানি না কখন তেল পাব।'

সরেজমিনে হাজীপাড়া পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, রাত ১২ টা ২৭ মিনিট থেকে তেল দেয়া শুরু হয়।

পাম্পের কাউন্টারে কর্মরত মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তেলপ্রত্যাশীরা বিশৃঙ্খলা করায় তাদের সারিবদ্ধ করতে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে পাম্পের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় যেন বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তেল দেওয়া শুরু করা হয়েছে পূর্বের মূল্যে। অপেক্ষমাণদের তেল দেয়া শেষ হলে যারা নতুন করে তেল দিতে ঢুকবেন, তাদের নতুন মূল্যেই তেল কিনতে হবে।

এই পেট্রোল পাম্পের ভেতরে অপেক্ষমাণদের মধ্যে প্রথম তেল পেয়েছে ঢাকা মেট্রো ল ৩৩২১ ০৬ নম্বর মোটরবাইকটি। তেল পাওয়ার সাথে সাথেই তার মুখে হাসির ঝিলিক।

এরপর এই প্রথম এসআই সাইফুল পাম্প গেটের তালা খুললেন। বাইরে বের হলেন ওই বাইকটির চালক তোফাজ্জল হোসেন। বের হওয়ার সাথে সাথে উৎসুক জনতা ঘিরে ধরে জানতে চাইল, ভাই তেল পেয়েছেন?

তোফাজ্জল ঢাকাটাইমসকে তৃপ্তির হাসি হেসে জানান, ৩ লিটারের বেশি তেল দিলো না। সেই রাত দশটায় এসে লাইন ধরেছি। যাক তাও তো তেল পেয়েছি'।

এরপরই পাম্প থেকে পূর্বের মূল্যে তেল কিনে বের হলেন বগুড়া মেট্রো ল ১৩৯১৫২ নম্বর মোটরসাইকেলের আরোহী মিজানুর রহমান। তিনি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা। বললেন, দাম বাড়ার খবরটা সন্ধ্যায় জানতে পারিনি। রাত সাড়ে নয়টার দিকে জেনেছি। কয়েকটি পাম্প ঘুরে হাজীপাড়া পেট্রোল পাম্প খোলা পেলাম।

রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব শাজাহানপুরের পূবালী পেট্রোল পাম্প থেকে ঢাকা মেট্রো ঘ ১১১৮৯৯ নম্বর গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহনকে ভিড় দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

এর একটি গাড়ির চালক মোজাফফর হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, যে ভিড় তাতে রাত ৩টায়ও তেল পাওয়া যাবে না। তাই এখানে থেকে আর লাভ নেই চলে যাচ্ছি।