ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে ফরিদপুরের আরো দুই উপজেলা, আয় বেড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০২৩, ১৮:৫৫

‘আগের ত্যা ভালোই আছি। এই হাঁস-মুরগি পালতেছি। গতবার ১০ হাজার টাকা বেঁচছি। এই বছরও ৬ হাজার টাকার হাঁসমুরগি বেঁচছি। এহনো আমার কাছে ২০ হাজার টাকার হাঁস-মুরগি আছে। স্বামীর রোজগার আর আমার এই আয় দিয়্যা এহন আমাগের ভালোই আয়-উন্নতি হইতেছে। সরকারের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে আইস্যা এহন নিজেগের জীবনডারে গুছায় নিবার পারতেছি।’

একবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবযাপনের চালচিত্রের তথ্য সংগ্রহে গেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের 'স্বপ্ননগর' আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ছবেদা বেগম (২১) একথা বলেন।

ছবেদা জানান, মাত্র একবছর আগেও তারা ছিলেন ভূমিহীন। মাথা গোঁজার কোন ঠাইও ছিল না। স্বামী রাসেল মোল্যা একজন ভাঙারি ব্যবসায়ী। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতেন রাস্তার পাশে ঘর তুলে। এখন নিজেদের একটা ঠিকানা হয়েছে। যেটি তাদের জীবনসংগ্রাম এগিয়ে নিতে জীয়নকাঠির মতো কাজ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহিত মুজিব শতবর্ষে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প সমাজের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের হতদরিদ্রদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তাদের স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, শিক্ষা, আয় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

ফরিদপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এই স্বপ্ননগর। যেখানে তিন শতাধিক ঘর তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহিত আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য। এই স্বপ্ননগরে ভূমিহীনদের জমিসহ ঘরের পাশাপাশি সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি মসজিদ, জেলা প্রশাসক স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি মাছ বাজার। আলফাডাঙ্গার উপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীর ভাঙনের কবলে নিঃস্ব পরিবারসহ ভূমিহীনদের আশ্রয় এই স্বপ্ননগর।

এখানে বসবাসরত অনেকেরই জীবন বদলে যাওয়ার গল্প তৈরি হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। যাদের কিছুদিন আগেও কোন বসতবাড়ি ছিল না, অন্যের বসতবাড়িতে বাস করত।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জেলার নগরকান্দা উপজেলাকে ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করার পর এবার জেলার আলফাডাঙ্গা ও সালথা এ দুটি উপজেলাকেও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে। ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশের আরো অন্যান্য এলাকার সাথে এ দুটি উপজেলাকেও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন।

জানা গেছে, সরকার ঘোষিত ‘মুজিব শতবর্ষে থাকবে না কেনো গৃহহীন’ কর্মসূচিতে ‘সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’এর আওতায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তিনটি ধাপে ৭৩৫টি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ ঘরে উপহার দেয়া হয়েছে। সালথা উপজেলায় ঘর পেয়েছে ৬৩৩টি ভূমিহীন পরিবার। জেলায় সবমিলিয়ে পাঁচ হাজার দুইশোর বেশি ভূমিহীন পরিবার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী রয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা তাদের ঘরগুলোতে কেউ কৃষি খামার, কেউবা হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলছে। ঘরের আঙিনায় লাগানো হয়েছে পুঁই, সিমসহ নানা প্রকারের গাছপালা।

জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ফরিদপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিস্থিতি খুবই ভালো। আমাদের যেই কর্মপরিকল্পনা ছিল সেটি খুব ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ৪৪৭টি ঘর উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল ৫ হাজার ৭২৭টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৩টি ঘর নির্মাণ করেছি। আর প্রায় ৫শ’ বাকি থাকে। আশা করছি, জুনের আগেই বাকি ঘরগুলো নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারব।

জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, আমাদের সালথা এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলা দুটি ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। এখানকার জনপ্রতিনিধি, সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক সকলের সাথে বৈঠক করে নিশ্চিত হয়েছি এখানে আর কোন ভূমিহীন নেই। অনেকের গৃহ নেই, কিন্তু জমি আছে। আমরা তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছি। তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে গুচ্ছ গ্রাম একটি প্রকল্প চালু আছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করব।

তিনি জানান, গত দেড় বছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের নিয়ে একটি শুমারি করেছি। তাতে দেখেছি, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপকারভোগীদের মাসিক উপার্জন ছিল গড়পরতায় ৬ হাজার টাকা। আশ্রয়ণ প্রকল্পে আসার পর তাদের উপার্জন ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মতো হয়েছে। এছাড়া জেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯৭ পার্সেন্ট ঘরে মানুষ বসবাস করছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের তাদের স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, শিক্ষা, আয় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

আশ্রয়ণে থাকার আগে তাদের যে উপার্জন হতো, এখানে আশ্রয় পাওয়ার পরে আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় তাদের আয়বর্ধক পথ বেড়েছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে উপার্জন বেড়েছে। তাদের স্বাস্থ্য সেবা বেড়েছে। তারা সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে মানুষ করতে পারছে। তাদের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে জড়িতদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশ যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার কথা ভাবতে পারে না, সেখানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার দুই শতাংশ জমি ও তার উপর একটি সেমি পাকাঘর পাচ্ছে। এই উদ্যোগ যেমন মানবিক তেমনি সংবিধানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয়প্রাপ্ত পরিবার অনিরাপদ জীবন-যাপন করত, ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় যখন আত্মমর্যাদা হারাতে বসেছিল; তখন এ প্রকল্প তাদের স্বপ্ন দেখায় উন্নত জীবনের। তারা উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরে মানসম্মত জীবন-যাপনের মাধ্যমে আত্মমর্যাদাশীল নাগরিকে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

বাবার লাশের এক টুকরো মাংস আমাকে দাও: আনার কন্যা ডরিন

ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন দেশকে মাফিয়া দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য করেছে: গণতন্ত্র মঞ্চ

প্রতিশ্রুতি রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা, রাস্তা বানাচ্ছেন গ্রামবাসী

ফরিদপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, আড়াই শতাধিক ঘর-দোকান পুড়ে ছাই

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে, জুডিশিয়ালিকেও স্মার্ট করতে হবে: প্রধান বিচারপতি

কুষ্টিয়ায় বালুবোঝাই ট্রলি চাপায় বৃদ্ধা নিহত

প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন বাবা হত্যার বিচার করবেন: আনারের মেয়ে ডরিন

ফরিদপুরে রিকশা গ্যারেজে বারুদের বিস্ফোরণে যুবক আহত

১৯ দিন পর আবারও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :