এমপি গোলাপের চেয়ে স্ত্রীর নগদ অর্থ বেড়েছে ১২ গুণ

মাদারীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ২১:১৬

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবাহান মিয়া গোলাপের নগদ অর্থ স্ত্রীর নগদ অর্থের চেয়ে ১২ গুণ কম। তবে ব্যাংকে জামানতের পরিমাণ স্ত্রীর সম্পদের চেয়ে বেশি রয়েছে তার। এছাড়াও এমপি হওয়ার আগে গাড়ি না থাকলেও এমপি হয়ে কিনেছেন কোটি টাকার গাড়ি। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রী ও নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণী পেশ করেছেন। তার পেশকৃত হলফনামায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন, কালকিনি ও ডাসার উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ নির্বাচনি এলাকা। এই আসন থেকে ২০১৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ। তিনি এলাকায় গোলাপ নামে অধিক পরিচিত। ২০১৮ সালে তার নিজের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ৩৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪১৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৫১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৯০ টাকা। বর্তমানে তার জমা অর্থের পরিমান দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪৫ লক্ষ ৩ হাজার ৯৩১ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।

তার সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আবদুস সোবাহান মিয়ার নগদ অর্থের পরিমান আছে ১৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১৪ টাকা, তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ১ কোটি ৯৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৩ টাকা। যা এমপির চেয়ে ১২ দশমিক ৮৬ গুণ বেশি। আর ২০১৮ সালে তার নগদ টাকা ছিল ৭৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৬৬ টাকা এবং স্ত্রীর গুলশান আরার নামে ছিল ১ কোটি ১১ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩১ টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামা মোতাবেক তার স্ত্রীর কাছে ৯৮ হাজার ১১৮ ইউএস ডলার থাকলে চলতি বছরে তার কাছে কোন বৈদেশিক মুদ্রা নেই বলে জানা গেছে। তবে আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের আগের হলফনামা মোতাবেক আগে কোনো গাড়ি না থাকলেও বর্তমানে তার একটি টয়োটা হ্যারিয়ার জিপ রয়েছে। যার বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৯০ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৪৭ টাকা।

তবে, আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ ও তার স্ত্রী গুলশান আরার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমান বেড়েছে। ২০১৮ সালে তার নিজের নামে জমা ছিল ৩৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪১৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৫১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৯০ টাকা। বর্তমানে তার জমা অর্থের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩ হাজার ৯৩১ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। অপরদিকে তার নামে ২০১৮ সালে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ছিল ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩ ৭২ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার।

২০২৩ সালে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৯২ টাকার এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার। এছাড়াও মিরপুর এবং উত্তরাতে তার দুটি দালান রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, সব প্রার্থীই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করেছি, তবে কারো ব্যাপারে কোনো আপত্তি আসলে, তা আবার যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/ইএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :