এবার অজানা ভাইরাসের ভয়

তানিয়া আক্তার, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৫ | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৩

বিশ্বের বিস্ময়কর বস্তু হলো ভাইরাস। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে ভাইরাস আঘাত হানে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, গুটিবসন্ত, র‌্যাবিস, ইবোলা, ডেঙ্গু, করোনা, নিপাহসহ নানা ধরনের ভাইরাসের পাশাপাশি নতুন এক ‘অজানা ভাইরাসের’ উদ্ভব হয়েছে দেশে। যাতে ইতোমধ্যেই রাজশাহীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের মা-বাবা সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গাছের তলা থেকে কুড়িয়ে আনা বড়ই খেয়ে তারা এই অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে রবিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি। একই সঙ্গে এ অজানা ভাইরাস নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা, নতুন ভয়।

অজানা ভাইরাস শনাক্তে সরকারের রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল রাজশাহীতে পরিদর্শনে গিয়েছেন। এর আগেই সেখান থেকে এ ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়নি জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ওই দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ ‘নিপাহ’ ভাইরাসে নয়। তবে এটি কোন ধরনের ভাইরাস তা জানতে আমাদের একটি অনুসন্ধানী দল কাজ করছে।

তবে যে ভাইরাসই এই মৃত্যু ডেকে আনুক না কেন নিজেদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং মাস্ক পরার চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। এছাড়াও নতুন নতুন ভাইরাসগুলো রোগ নিয়ে আবির্ভূত হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ দায়ী হওয়ায় বনভূমি উজাড় না করার পাশাপাশি প্রকৃতি ঘনিষ্ট হয়ে বেঁচে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অজানা ভাইরাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ভাইরাসের মধ্যেই আমাদের বসবাস। তবে সব ভাইরাসই ক্ষতিকর নয়। কোনো কোনো ভাইরাস ক্ষতিকর হয়। একেক ভাইরাসে একেক ধরনের সমস্যা হয়। আমরা যেহেতু ভাইরাসের মধ্যে ডুবে আছি- সুতারং আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসগুলো আক্রমণ করে থাকে। দূষিত বায়ুতেও ভাইরাস ছড়ায়। সেক্ষেত্রে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরণের সতর্কতা মেনে চলতে হবে। খাওয়া দাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। বাইরের ধুলোবালি মেশানো খাবার খাওয়া যাবে না। গ্রীষ্মকাল আসছে, তাই বাইরের শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এসব খাবার ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। বয়স্ক এবং শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। ভাইরাস এত ভয়ানক যে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত যেকোনো জায়গা দিয়েই আক্রমণ করে। কেননা শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ভাইরাস আক্রমন করে।’

অজানা ভাইরাসটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি জনমনে শঙ্কা দূর করতে সাবধানতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অধ্যাপক (ভাইরোলজিস্ট) ডা. মো. নজরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নানা ধরনের ভাইরাসের সঙ্গে ইতোমধ্যে আমাদের পরিচয় হয়েছে। এগুলো সব ভাইরাল ডিজিজ (রোগ)। সম্প্রতি যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো এর পরিচয় পাইনি। তবে আমাদের সাবধান হতে হবে। ভাইরাস থেকে বাঁচতে গেলে প্রথমেই ভাইরাসটিকে জানতে হবে। ভাইরাসটি কী এবং কীভাবে আক্রমণ করে। এর বিরুদ্ধে আমাদের শরীরে ইমিউনিটি (প্রতিরোধ ক্ষমতা) ডেভেলপ করে কি না সেগুলো দেখতে হবে।’ ডা. মো. নজরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে আরও বলেন, ‘প্রথমে সাবান দিয়ে ধোয়া ছাড়া ফল খাওয়া যাবে না। এছাড়া গাছে ওঠলেও নামার পরপরই হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ ভাইরাস কিভাবে ছড়াচ্ছে এখনও জানা যায়নি। দ্বিতীয়ত, সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে কোনো কিছুই খাওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, শুধু খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যেই নয়, যেকোনো ধরনের কাজ করার পরপরই হাত ধুয়ে নিতে হবে। সুতরাং হাত ধোয়ার চর্চার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাস্কও পরতে হবে। কারণ, এখনো করোনা ভাইরাস বিশ^ থেকে বিলুপ্ত হয়নি বরং নতুন করে নতুন ধরনে আক্রান্ত হচ্ছে। নিপাহ ভাইরাস থেকেও রক্ষার জন্য কাঁচা খেজুর রস খাওয়া থেকে বিরত তো থাকতেই হবে পাশাপাশি পাখির খাওয়া ফল কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এছাড়া টমেটোর জমির উপর দিয়েও বাদুর উড়ে যায় তখন প্রসাব করতে করতে যায়। ফলে টমেটো সালাদ করে খেতে গেলে অবশ্যই অন্তত সাত ঘন্টা সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এভাবে যতটা পারা যায় সতর্ক থাকতে হবে।’

নতুন নতুন ভাইরাস আবির্ভূত হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণকে দায়ী করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই ভাইরাসের আবির্ভাবের কারণ গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, আমরা নির্বিচারে বন উজার করে দিচ্ছি। একসময় বনে জঙ্গলে ভাইরাসগুলো বাস করতো। কিন্তু বন জঙ্গল উজাড় করার কারণে জনবসতিতে চলে এসেছে। এছাড়া তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসের ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। এছাড়া গবাদি পশুকে জঙ্গলের কাছাকাছি চড়তে দেওয়া হয়, ফলে ভাইরাসগুলো চলে আসছে।’ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনভূমি উজার করা যাবে না জানিয়ে ডা. লেলিন আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশি^ক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে যে কৌশলগুলো বিশ^ব্যাপী গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে হবে। কারণ যত বেশি প্রকৃতি থেকে দূরে যায় ততবেশি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।’

দুই শিশুর অকাল মৃত্যু হল, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও তাদের রোগের কারণ জানা যায়নি। তবুও শিশু বয়স থেকে হাত ধোয়ার এবং খাবার আগে ফল ধুয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) নাজমুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, রাজশাহীতে গাছতলায় পড়ে থাকা বরই কুড়িয়ে খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে তিন দিনের ব্যবধানে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শনিবার বিকেলে মারা যায় বড় বোন মাশিয়া। এর আগে গত বুধবার মারা যায় মারিশা। প্রাণ হারানো দুই বছর বয়সী মুনতাহা মারিশা ও পাঁচ বছর বয়সী মুফতাউল মাশিয়া রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের মনজুর রহমানে মেয়ে।

(ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :