এমপি হতে চেয়েছিলেন কুকি-চিনের নাথান বম

হাসান মেহেদী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ২৩:৪৬ | প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ২২:১৪
কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও তার কল্পিত রাজ্য

পুরো নাম নাথান লনচেও বম। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট তথা কেএনএফ এর প্রধান তিনি

নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা কেএনএফের প্রধান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নম্বর আসন বান্দরবান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এরপর আর তার নির্বাচন করা হয়ে ওঠেনি।

আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই বেপরোয়া কেএনএফ

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নাথান বম রুমা উপজেলার হেডের পাড়ার বাসিন্দা। বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। সেখান থেকে সম্পন্ন করেছেন স্নাতকোত্তর। নাথান এক সন্তানের জনক। তার স্ত্রী স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, নাথান ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথমে যুক্ত ছিলেন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদে (পিসিপি)। ভাস্কর্য বিভাগের ছাত্র হিসেবে নাথান বম শিখেছিলেন ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ। পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়া এলাকায় নিম্নী দেওয়ানের সঙ্গে লারমা স্কয়ারে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) ভাস্কর্য নির্মাণ করেন তিনি। ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয় ২০০০ সালে। এরপর শিল্পী হিসেবে খ্যাতি বাড়ে তার। সে সময় হিল আর্টিস্ট গ্রুপেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বমদের নিয়ে লেখালেখি করেছেন। কুকি-চিনভুক্ত জাতিগোষ্ঠীর পরিচিতি নিয়ে ‘দ্য বমজৌ’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এছাড়া গবেষণামূলক আরও পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখেন ‘জো’ নামে একটি বই। এই কারণে নাথান লেখক হিসেবেও পরিচিত। তবে বর্তমানে তার অবস্থান কোথায় তা জানা যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, নাথানের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০০৮ সালে অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন কুকি-চিন জাতীয় ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও)। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলাতে থাকে। ২০১৭ সালের পর থেকে নতুন রূপ ধারণ করেন নাথান। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠা করেন কেএনএফ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নাথান ২০১৬ সালে সশস্ত্র একটি গ্রুপ তৈরি করেন। পরে কেএনডিওর বদলে কুকি-চিন ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্স (কেএনভি) নাম দিয়ে কার্যক্রম চালান। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান তিনি। কিন্তু মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। এরপর ভারতের মণিপুর ও মিয়ানমারের চিন রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নাথান। কেএনভির প্রথম ব্যাচে সংগঠনের শতাধিক সদস্যকে মণিপুরে প্রশিক্ষণে পাঠান। এরপর ১০০ সদস্যকে মণিপুর, বার্মার কারেন ও কাচিন রাজ্যে গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। ২০২০ সালে কেএনভির নাম বদলে কেএনএফ হয়। তাদের সশস্ত্র উইংয়ের নাম দেওয়া হয় কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)। বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সদস্যরা গত ৩ ও ৪ এপ্রিল বান্দরবানে তিনটি ব্যাংকে ডাকাতি করে। বান্দরবানের আলীকদমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি যৌথ চেকপোস্টেও হামলা চালিয়েছে। এরপরই নড়ে চড়ে বসেছে সরকার। শুরু হয়েছে সেনা-বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান।

(ঢাকাটাইমস/০৬এপ্রিল/এমএইচ/ইএস/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :