যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় পরিবর্তন চায় হামাস, নাখোশ যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ১৭:২০ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০৭

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনাকে সমর্থন করে জাতিসংঘের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছে। তবে হামাসের এমন দাবিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সংগঠনটির উদ্দেশে বলেছেন ‘দরকষাকষি বন্ধের সময় এসেছে’।

কাতারের রাজধানী দোহায় সংবাদ সম্মেলনে ব্লিংকেন বলেন, কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা গেলেও অন্যগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশর ‘চুক্তিটি করতে চেষ্টা করে যাবে’।

সংবাদ সম্মেলনে ব্লিংকেনকে কিছুটা উত্তেজিতও দেখা গেছে। তিনি বলেন, “হামাস যেসব প্রস্তাব গত ৬ মে দিয়েছিল তার সাথে এবারের প্রস্তাব প্রায় অভিন্ন। এর পেছনেই পুরো বিশ্ব আছে। ইসরায়েলও তা গ্রহণ করেছে। এখন হামাস একটিই প্রতিক্রিয়া দিতে পারে এবং তা হলো ‘ইয়েস’। এর পরিবর্তে হামাস দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করলো এবং তারপর অনেক পরিবর্তনের প্রস্তাব করলো এবং এর কয়েকটি তারা আগেও গ্রহণ করেছে। এর ফলে হামাস যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা চলছে এবং আরো মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে। ফিলিস্তিনিরা দুর্ভোগে পড়বে, আর ইসরায়েলিরা দুর্ভোগে পড়বে।”

ব্লিংকেন অবশ্য হামাসের পরিবর্তনের দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলেননি।

তবে হামাস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যে বিবৃতি দিয়েছে সেখানে ‘গাজায় আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ’ এবং ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর একজন সদস্য ইজ্জাত আল রিশক বলেছেন তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘দায়িত্বশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক’ এবং এটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘বড় পথ’ তৈরি করেছে।

বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা পুরোপুরি ইতিবাচক এবং তারা ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার জন্য ব্লিংকেনকে অনুরোধ করেছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের প্রধান এবং তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করেছে এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেন উপস্থাপন করা জিম্মি মুক্তির প্রস্তাবের ধরন প্রত্যাখ্যান করেছে।

এমন প্রেক্ষাপটেও ব্লিংকেন বলেছেন ‘কাতার ও মিশরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। আমি বিশ্বাস করি দূরত্ব ঘুচিয়ে আনা সম্ভব। তবে হামাসকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে প্রস্তাবনা ১২ দিন আগেই দেওয়ার কথা বলেছেন তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো প্রকাশ্যে অনুমোদন করেননি।

ব্লিংকেন অবশ্য বলেছেন, সোমবার জেরুজালেমে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু তার ‘অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন’।

এর আগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তোলা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়।

সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত) নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ সদস্য দেশের ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। রাশিয়া এই প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল, তবে তারা ভেটো দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব হলো, গাজা নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আসবে। তিনটি পর্যায়ে তা কার্যকর হবে। প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলের সেনা গাজার জনবহুল এলাকা থেকে সরে আসবে। যে সব ফিলিস্তিনি ওই জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা নিজেদের জায়গায় ফিরবেন।

এরপর প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় ঢুকবে। এসময় নারী, বয়স্ক ও আহত বন্দিদের মুক্তি দেবে। ইসরায়েলও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে হামাস।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি বন্দি ও আটক ইসরায়েলের পুরুষ সেনাকে মুক্তি দেবে হামাস। ইসরায়েলের সেনা পুরো গাজা ভূখণ্ড থেকে সরে যাবে।

তৃতীয় পর্যায়ে গাজার পুনর্গঠনে সাহায্য করবে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।

এদিকে হামাস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন জানিয়েছেন, সোমবার রাতে তিনি যখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবে রাজি থাকার কথা আবার জানিয়েছেন। ব্লিকেন আরও জানিয়েছেন, গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণ নিয়ে জর্ডানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ৪০ কোটি ডলারের মানবিক সাহায্য দেবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। প্রায় ৮ মাস ধরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৭০ শতাংশেরও বেশি নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৮৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

গত বছরের নভেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৭১ জন নারী এবং ১৬৯টি শিশু রয়েছে। বিনিময়ে ২৪ বিদেশিসহ মোট ১০৫ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। হামাসের কাছে এখনো প্রায় ১৩০ জন জিম্মি রয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলের।

সূত্র: বিবিসি

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :