শিশুর মেধা বিকাশে শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাও জরুরি: কাদের গনি চৌধুরী

দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ নেই বলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। জাতির সুস্থতা, আনন্দ ও গৌরবও খেলাধুলাতেই নিহিত। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন সুস্থ ও আনন্দময় জীবন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএফইউজে মহাসচিব।
বিপিজেএ সভাপতি এ কে এম মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন- এই চিরন্তন বাক্যটি আমাদের খেলাধুলার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, পেশি মজবুত করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। অথচ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি আমরা বরাবরই উপেক্ষা করে আসছি।’
শিশুর সামগ্রিক বিকাশের মূলে রয়েছে খেলাধুলা- এ কথা উল্লেখ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘দুভার্গ্যজনক হলেও সত্য এখন আর শিশুদের খেলার মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। সকালে সূর্যের মুখ দেখা যেতে না যেতেই ছেলেমেয়েরা একগাদা বই কাঁধে ছোটে স্কুল অথবা কোচিং সেন্টারের দিকে। সারা দিন ক্লাস শেষে ঘরে ফেরা। অনেকে আবার স্কুলশেষে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের দিকে ছোটে। পড়াশোনার চাপে পিষ্ট শিশুদের বড় একটা অংশ খেলার মাঠে যাওয়ার সুযোগই পায় না।’
অনেকে খেলাধুলাকে পাশ কাটিয়ে চলে- এমন মন্তব্য করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তারা খেলাধুলার চেয়ে বরং মোবাইল ফোনে গেম খেলা কিংবা টেলিভিশন দেখাটা অগ্রাধিকার দেয়। এভাবে স্মার্টফোন এবং আকাশসংস্কৃতি আগামী প্রজন্মকে গ্রাস করে ফেলেছে।
এ সময় শৈশবের স্মৃতিচারণা করেন এই সাংবাদিক নেতা। স্কুল থেকে ফিরে সামান্য কিছু মুখে দিয়েই ছুটতেন খেলার মাঠে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডিসহ নানা খেলা চলত সমানতালে।
খেলাধুলার এই উৎসাহ পরীক্ষার সময় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি- এমনটা উল্লেখ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘বরং যেসব ছেলেমেয়ে খেলাবিমুখ ছিল, দিন দিন তাদেরই পিছিয়ে পড়তে দেখেছি। খেলার মাঠের অভাব আমাদের শিশুদের দিন দিন খেলাধুলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইতিবাচক প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন কাদের গনি চৌধুরী। বলেন, ‘প্রতিটা স্কুল-কলেজে মহা ধুমধামে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এ সময় আশপাশের এলাকায় একটা সাজ সাজ রব পড়ে যেত। মানুষ দলে দলে ছুটে আসত ছেলেমেয়েদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখতে। এখন গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আয়োজন দেখা গেলেও শহরের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় না। হবে কীভাবে! স্কুলগুলোতে যে খেলার মাঠই নেই!’
‘নির্মম সত্য হলো, ধীরে ধীরে দেশে খেলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। অথচ উচিত ছিল জনসংখ্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুপাতে খেলার মাঠের সংখ্যা বাড়ানো। কিন্তু তা হয়নি। গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু খেলার মাঠ থাকলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন শহরের বুকের এক চিলতে খেলার মাঠকেও গিলে খেয়েছে।’ যোগ করেন বিএফইউজে নেতা।
সাংবাদিকদের এ শীর্ষ নেতা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘স্কুল থাকবে, মাঠ থাকবে না, শিক্ষার্থীরা খেলতে পারবে না—এটা কি ভাবা যায়! মাঠের অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় খেলাধুলার চর্চা নেই, নেই সাংস্কৃতিক পরিবেশ। এদিকে নজর দেয়ার যেন কারো সময় নেই।’ শিক্ষার পাশাপাশি এই চর্চাগুলো নিশ্চিত না করলে জাতি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারকে এ বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষার প্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকলেও বিষয়টি অবহেলিত, বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ে। তাই কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি চালু করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রভাষক পদে উন্নীত করা উচিত।”
বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আসক্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাদের গনি চৌধুরী। বলেন, ‘দেশের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখন মাঠে যেতে চায় না। তারা স্ক্রিনেই সময় কাটায় বেশি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে একটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ জাতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
খেলাধুলা শুধু ছোটদের জন্যই নয়, বড়দের জন্যও সমান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বিএফইউজে নেতা বলেন, ছোট বাচ্চাদের খেলার উপকারিতা শেখাতে গিয়ে নিজের ব্যাপারটা যেন ভুলে না যান বড়রা। ঘর ও কাজের মাঝে প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় খেলা ও শারীরিক কসরতের জন্য বের করা এবং পরিবারের সবাইকে এতে উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মশিউর রহমান সুমন, জাহিদুল ইসলাম সজল, সালেকুজ্জামান রাজীব, ফরিদ উদ্দীন সিদ্দীকী, মো. সৌরভ, খোকন শিকদার, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন প্রমুখ।
(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































