জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারির ফের উৎপাদন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ মে ২০২৬, ১১:৩৫
অ- অ+

ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারকেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) মূল প্ল্যান্ট ফের উৎপাদনে ফিরেছে।

আজ শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ৮টায় প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

এর আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা একটি ট্যাংকার গত বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাহাজটি থেকে লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয় এবং তেল শোধনাগারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইআরএল আংশিকভাবে চালু ছিল। পরে ১২ এপ্রিল থেকে মূল উৎপাদন ইউনিট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শোধনাগারটির অন্যান্য ইউনিটও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়ে।

ইআরএলে দৈনিক প্রায় চার হাজার টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেলের চালান আসে। এরপর মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা বাড়তে থাকে, যা এপ্রিলের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। বাংলাদেশ জি টু জি (সরকারি চুক্তি) পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব তেল আমদানি করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একাধিক চালান বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে কিছু ট্যাংকার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যাত্রা শুরু করতে পারেনি বা মাঝপথে আটকে পড়ে।

বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সাধারণত সরকারি পতাকাবাহী বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল ও রুট ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়।

এর ফলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তেলের সংকট চরমে পৌঁছালে ইআরএলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নতুন চালান নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে শোধনাগারটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের অন্যায় না করার শপথ করালেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
হঠাৎ অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকু, সিসিইউতে ভর্তি
আওয়ামী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল এখন দিচ্ছে জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পূবাইলে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবিতে দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা